ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ইউরেনিয়াম চুক্তিতে সই করল ভারত-অস্ট্রেলিয়া খামেনির শেষযাত্রার পথে মার্কিন হামলা, রেলসেতু ধ্বংসের পর বন্ধ ট্রেন চলাচল বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রয়েছে : এডিবি আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী তুরস্কের সঙ্গে যৌথ ড্রোন কারখানা হবে বগুড়ায় : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে দখলমুক্ত করে সুশৃঙ্খল করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে ইরানের হামলা ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবার পরিধি বাড়ানো হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বান্দরবানে পাহাড়ধসে দুই পরিবারের ৫ জন নিহত

ঢামেকে শুরু হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি, করোনা চিকিৎসায় নতুন আশা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শনিবার থেকে (১৬ মে) থেকে শুরু হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি। একই সঙ্গে ভবন-২ এ শুরু হচ্ছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। আর এই প্লাজমা থেরাপি ঠিকঠাক কার্যকর হলে উন্নত দেশগুলোর মতো দেশের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এটি হবে নতুন দিগন্ত। এমনটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (১৫ মে) এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ও প্লাজমা থেরাপি সাব-কমিটির প্রধান প্রফেসর ডাক্তার এম এ খান সঙ্গে।

তিনি বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ করোনা আক্রান্তদের এই প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সফলতা পেয়েছে। চীনে ১০ জন করোনা রোগীর উপর এই প্লাজমার থেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে তিনজন রোগী ভেন্টিলেটরে ছিলেন। চিকিৎসকদের স্ট্যাডি থেকে জানা যায়, ওই থেরাপির কারণে সবাই সুস্থ হন।

‘এছাড়া গতকাল আমেরিকার একটি হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ২৩ জন করোনা রোগীকে প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জনই সুস্থ হয়েছেন।’

এর পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ রোগীর শরীর থেকে হলুদ রঙের প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। সেক্ষেত্রে করোনা থেকে যেসব ব্যক্তি সুস্থ হচ্ছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্বে এই চিকিৎসায় সুস্থতার হার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও প্লাজমা থেরাপিতে আশার আলো দেখছেন।

‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই সুস্থ হয়েছেন। ওইসব ব্যক্তির শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মেশিনের মাধ্যমে হলুদ রঙের প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। বাকি রক্তগুলো ওই মেশিন মাধ্যমে প্লাজমাদাতার শরীরে চলে যাবে। এতে প্লাজমা দাতাদের কোনো সমস্যা হবে না। এসব প্লাজমাদাতাদের করোনা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে আনুমানিক চারশ থেকে ছয়শো এমএল প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে।’

ডাক্তার এম এ খান বারবার বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এই মহৎ কাজের জন্য করোনা থেকে সুস্থ ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেন এগিয়ে আসেন। দাতাদের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন। রক্তের গ্রুপভিত্তিক রোগীদের প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার দুই থেকে তিনজনের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। পরে আরো কয়েকজনের কাছ থেকেও সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। পরে প্লাজমা পরীক্ষা করে দেখা হবে এন্টিবডি কতটুকু আছে। তারপর করোনা রোগীদের প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা শুরু করা হবে।

ঢামেক (নতুন ভবন) ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে করোনাজয়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ঘিরে বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

ঢামেকে শুরু হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি, করোনা চিকিৎসায় নতুন আশা

আপডেট সময় ১১:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শনিবার থেকে (১৬ মে) থেকে শুরু হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি। একই সঙ্গে ভবন-২ এ শুরু হচ্ছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। আর এই প্লাজমা থেরাপি ঠিকঠাক কার্যকর হলে উন্নত দেশগুলোর মতো দেশের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এটি হবে নতুন দিগন্ত। এমনটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (১৫ মে) এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ও প্লাজমা থেরাপি সাব-কমিটির প্রধান প্রফেসর ডাক্তার এম এ খান সঙ্গে।

তিনি বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ করোনা আক্রান্তদের এই প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সফলতা পেয়েছে। চীনে ১০ জন করোনা রোগীর উপর এই প্লাজমার থেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে তিনজন রোগী ভেন্টিলেটরে ছিলেন। চিকিৎসকদের স্ট্যাডি থেকে জানা যায়, ওই থেরাপির কারণে সবাই সুস্থ হন।

‘এছাড়া গতকাল আমেরিকার একটি হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ২৩ জন করোনা রোগীকে প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জনই সুস্থ হয়েছেন।’

এর পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ রোগীর শরীর থেকে হলুদ রঙের প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। সেক্ষেত্রে করোনা থেকে যেসব ব্যক্তি সুস্থ হচ্ছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্বে এই চিকিৎসায় সুস্থতার হার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও প্লাজমা থেরাপিতে আশার আলো দেখছেন।

‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই সুস্থ হয়েছেন। ওইসব ব্যক্তির শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মেশিনের মাধ্যমে হলুদ রঙের প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। বাকি রক্তগুলো ওই মেশিন মাধ্যমে প্লাজমাদাতার শরীরে চলে যাবে। এতে প্লাজমা দাতাদের কোনো সমস্যা হবে না। এসব প্লাজমাদাতাদের করোনা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে আনুমানিক চারশ থেকে ছয়শো এমএল প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে।’

ডাক্তার এম এ খান বারবার বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এই মহৎ কাজের জন্য করোনা থেকে সুস্থ ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেন এগিয়ে আসেন। দাতাদের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন। রক্তের গ্রুপভিত্তিক রোগীদের প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার দুই থেকে তিনজনের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। পরে আরো কয়েকজনের কাছ থেকেও সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। পরে প্লাজমা পরীক্ষা করে দেখা হবে এন্টিবডি কতটুকু আছে। তারপর করোনা রোগীদের প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা শুরু করা হবে।

ঢামেক (নতুন ভবন) ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে করোনাজয়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান তিনি।