অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভিনদেশে চাহিদাপত্র দিয়ে লাভ নেই, কে শুনবে সে ফরিয়াদ! তবে হোম সিরিজে সে সুযোগ আছে, তা আইসিসি থেকে যতই স্বাগতিকদের ওপর কিউরেটরকে প্রভাবিত করার ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকুক না কেন। আপাত ‘বেআইনি’ এ হোম অ্যাডভান্টেজ বিশ্বের সব দেশই নেয়। রকেট সিরিজের উইকেটেও তাই মুশফিকুর রহিমদের চাহিদামাফিকই হওয়ার কথা।
দেশের মাটিতে খেলা হলে পেসারদের বিশেষ কিছু বলার থাকে না। ইদানীং তবু ওয়ানডে এলে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে উইকেট প্রস্তুতিতে পেসারদের অভিমত সামান্য হলেও গুরুত্ব পায়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের ভূমিকা অনেকটা অলিম্পিকে বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের মতো ব্যাপার, বলের ঔজ্জ্বল্য কমানোটাই মূল কাজ তাঁদের।
তবে দিন বদলেছে। ওয়ানডের প্রভাব কিংবা দীর্ঘ বিরতির পর মুস্তাফিজুর রহমানের টেস্ট ফিটনেস ফিরে পাওয়ার কারণে পেসারদের গুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে। সাকিব আল হাসান যেমন গতকাল বলেছেন, ‘আমি স্পিনার, তাই স্পিন সহায়ক উইকেটই চাইব। তবে একইসঙ্গে আমাদের পেসারদেরও কিন্তু উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আছে, তারাও দক্ষ। শুধু স্পিনারদের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না।
বিশেষ পরিস্থিতিতে দেখা গেল বড় জুটি ভেঙে দিল পেসাররা। এটা একজন স্পিনার চার-পাঁচ উইকেট পাওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ’
তবে কি পেসারদের চিন্তা মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে মিরপুরের উইকেট? অস্ট্রেলিয়াকে এতটা চমকে দেওয়ার অভিপ্রায় টিম ম্যানেজমেন্টের নেই! দিনশেষে তো ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বোলিং শক্তিটা স্পিনেই। সাকিব, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ত্রিফলাতেই অস্ট্রেলিয়াকে গাঁথার মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশ দলের।
টেস্ট বোলাররা জেতায়, প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে হয় যে। কিন্তু শতভাগ স্পিন ফাঁদ বানিয়ে নিজেদের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কাও কি নেই? নিজেদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে নিজ দলের স্পিন আক্রমণকে এগিয়ে রাখছেন সাকিব। আবার একই সঙ্গে ইংলিশদের চেয়ে সামর্থ্যে অস্ট্রেলীয় স্পিনারদের এগিয়ে রাখছেন সাকিব এবং তাঁর সতীর্থরা। সে ক্ষেত্রে ‘স্কয়ার টার্নার’ বুমেরাং হয়ে পাল্টা আঘাত হানার ভয় তো রয়েছেই। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে বাঁহাতির সংখ্যাধিক্যের কারণে অনেকেই মেহেদী মিরাজের সাফল্যের আগাম ছবি আঁকছেন যেমন, তেমনি নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের টপ আর মিডল অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানও নজরে আছেন নাথান লিওনের।
এসব চিন্তা থেকেই কিনা, টেস্ট জয়ের ফর্মুলায় নতুন উপাদান যোগ করলেন সাকিব, ‘টেস্ট জেতার জন্য ব্যাটিংটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ’ রান না করলে কোনো ম্যাচই জেতা যায় না। তবু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ-পূর্ব ভাবনায় ব্যাটিংটা বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ দলে। গত বছরে ইংল্যান্ডের জন্য তৈরি করা উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা তাই খুব বেশি সমর্থক দলের ভেতরে নেই বলেই খবর।
লো বাউন্স আর স্লো টার্নার উইকেটের জনপ্রিয়তাই দলে বেশি, যে উইকেটে প্যাট কামিন্সরা বাউন্সারের ফুলকি ছোটাতে পারবেন না, স্কয়ার টার্নারও নয়, ফাঁকতালে নিচু বাউন্সে খেলে অভ্যস্ত বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা কিছু সুবিধা পাবেন। এখন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার ‘রেসিপি’র ওপর নির্ভর করছেন বাকিটা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























