ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মেসে রাখা রড দিয়েই খুন করা হয় তৌহিদুলকে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের নিরাপত্তায় মেসে রাখা রড দিয়েই ত্রিশাল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র তৌহিদুল ইসলামকে খুন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একমাত্র খুনী আশিকুজ্জামান আশিক (২৭) পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তৌহিদের মোবাইলের একটি ম্যাসেজকে প্রাধান্য দিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোতোয়ালী ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার নগরীর আকুয়া বোর্ডঘর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত রক্তমাখা প্যান্ট-গেঞ্জি এবং নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করে।

সোমবার আদালতে সোপর্দ করলে আশিক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজজ্জামান জানিয়েছেন।

সোমবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজজ্জামান জানান, রমজানের শুরুর দিকে নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার মেসের সামনে একটি সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বখাটে, চোর ও ছিনতাইকারী আশিকের সঙ্গে শিক্ষার্থী তৌহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়।

এসময় তৌহিদুলের ব্যবহৃত মোবাইল সেটটির প্রতি আশিকের লোভ হয় এবং সেটি ছিনিয়ে নিবে বলে প্রকাশও করে ছিনতাইকারী আশিক। এ নিয়ে তৌহিদুল তার এক বন্ধুকে নিজের নিরাপত্তার কথা লিখে এসএমএসও পাঠায় এবং নিজের নিরাপত্তায় ছিনতাইকারীকে শায়েস্তা করতে মেসে একটি রড রাখে।

এরপর গত ১ মে সেহরির সময় তৌহিদুলের ভাড়া বাসার চারতলার ছাদ দিয়ে ছিনতাইকারী আশিক প্রবেশ করে নীচতলায় তার কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোনটি নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তৌহিদুলের মেসে থাকা রডটি দিয়ে তাকে বুকে ও হাতে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় নীচতলার কলাপসেবল গেটের পাশে ফেলে ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়।

এসময় তৌহিদুলের ডাক-চিৎকারে বাসার মালিক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণ পর মারা যায় সে। তৌহিদুলের বাড়ী নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার রামেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনায় তৌহিদুলের পিতা সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মেসে রাখা রড দিয়েই খুন করা হয় তৌহিদুলকে

আপডেট সময় ১১:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিজের নিরাপত্তায় মেসে রাখা রড দিয়েই ত্রিশাল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র তৌহিদুল ইসলামকে খুন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একমাত্র খুনী আশিকুজ্জামান আশিক (২৭) পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তৌহিদের মোবাইলের একটি ম্যাসেজকে প্রাধান্য দিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোতোয়ালী ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার নগরীর আকুয়া বোর্ডঘর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত রক্তমাখা প্যান্ট-গেঞ্জি এবং নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করে।

সোমবার আদালতে সোপর্দ করলে আশিক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজজ্জামান জানিয়েছেন।

সোমবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজজ্জামান জানান, রমজানের শুরুর দিকে নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার মেসের সামনে একটি সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বখাটে, চোর ও ছিনতাইকারী আশিকের সঙ্গে শিক্ষার্থী তৌহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়।

এসময় তৌহিদুলের ব্যবহৃত মোবাইল সেটটির প্রতি আশিকের লোভ হয় এবং সেটি ছিনিয়ে নিবে বলে প্রকাশও করে ছিনতাইকারী আশিক। এ নিয়ে তৌহিদুল তার এক বন্ধুকে নিজের নিরাপত্তার কথা লিখে এসএমএসও পাঠায় এবং নিজের নিরাপত্তায় ছিনতাইকারীকে শায়েস্তা করতে মেসে একটি রড রাখে।

এরপর গত ১ মে সেহরির সময় তৌহিদুলের ভাড়া বাসার চারতলার ছাদ দিয়ে ছিনতাইকারী আশিক প্রবেশ করে নীচতলায় তার কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোনটি নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তৌহিদুলের মেসে থাকা রডটি দিয়ে তাকে বুকে ও হাতে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় নীচতলার কলাপসেবল গেটের পাশে ফেলে ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়।

এসময় তৌহিদুলের ডাক-চিৎকারে বাসার মালিক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কিছুক্ষণ পর মারা যায় সে। তৌহিদুলের বাড়ী নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার রামেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনায় তৌহিদুলের পিতা সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।