ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালানো প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিশুরা কম ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মহামারির কারণে শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসেস বলেছেন, করোনায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবন রক্ষাকারী টিকা দেওয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। যদিও ধনী দেশগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটির প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাস নির্মূল করতে হলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক কাজ এখনও বাকি।’ তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের পাশাপাশি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আধানম। এ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে শিশুদের অন্য রোগের টিকা দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আধানম বলেন, তুলনামূলকভাবে শিশুদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি খুবই কম। তবে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা।

বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখ শিশুর টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ফলে এসব শিশুরা পোলিও, হাম, কলেরা, পীতজ্বর (ইয়েলো ফিভার) ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

গ্যাভি গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের বরাত দিয়ে আধানম বলেছেন, বিশ্বের ২১টি দেশে বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৫৯৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ জন। অপরদিকে ৯ লাখ ২২ হাজার ৩৮৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ১০ হাজার ৩৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৯৭ জনের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট সময় ০১:৪০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালানো প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিশুরা কম ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মহামারির কারণে শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসেস বলেছেন, করোনায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবন রক্ষাকারী টিকা দেওয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। যদিও ধনী দেশগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটির প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাস নির্মূল করতে হলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক কাজ এখনও বাকি।’ তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের পাশাপাশি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আধানম। এ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে শিশুদের অন্য রোগের টিকা দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আধানম বলেন, তুলনামূলকভাবে শিশুদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি খুবই কম। তবে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা।

বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখ শিশুর টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ফলে এসব শিশুরা পোলিও, হাম, কলেরা, পীতজ্বর (ইয়েলো ফিভার) ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

গ্যাভি গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের বরাত দিয়ে আধানম বলেছেন, বিশ্বের ২১টি দেশে বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৫৯৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ জন। অপরদিকে ৯ লাখ ২২ হাজার ৩৮৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ১০ হাজার ৩৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৯৭ জনের।