সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে ঘরে ফেরালেন ইউএনও

1169

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা আতঙ্কে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নির্জন পুকুর ঘাটে ঝুপড়ি ঘরে রাখা সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে উদ্ধার করে ঘরে আনলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার শরীরে করোনার লক্ষণ না থাকলেও মঙ্গলবার করোনা পরীক্ষা করা হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার নির্দেশে এই স্বাস্থ্যকর্মীকে পুকুর ঘাটে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে সেখানে রাখা হয়েছিল। যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারাদেশে। এই ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কোটালীপাড়া থানার কর্মকর্তারা।

পরে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালের সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে পুকুর ঘাটের ঝুপড়ি ঘর থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই নারী স্বাস্থ্যকর্মী সেখানে অবস্থান করছিলেন।

পরে তারা স্বাস্থ্যকর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানের কথা বললেও তিনি এবং পরিবারের লোকজন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন বলে জানান। পরে স্বাস্থ্যকর্মীকে নিজের ঘরের পাশের একটি জরাজীর্ণ ঘরে হোম কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাকে ও তার পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা ও যারা এটা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার কোনো করোনার লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবুও মঙ্গলবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’

এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলা করতে গিয়ে যেন মনুষ্যত্বহীনতা আমাদের গ্রাস না করে ফেলে। কোনো মানুষের প্রতি এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। অধিকন্তু একজন স্বাস্থ্যকর্মী যারা এই করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ উজাড় করে মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। একজন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি এমন আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’