ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ প্রতিটি ক্লাশরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, শ্রেণিকক্ষেই স্কুলছাত্রের বিষপান খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম জুলাইয়ের ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে: রুমিন ফারহানা

ইতিহাসের সর্বনিম্নে তেলের দাম, কিনলে উল্টো টাকা পাচ্ছেন ক্রেতা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পুরোবিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গেছে করোনার প্রকোপে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চলাফেরা সবকিছু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। এতে থমকে আছে অর্থনীতির চাকা। এই লকডাউনের কারণে হু হু করে বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে যে প্রভাব পড়েছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। তাই তেল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। যে কারণে ক্রেতাদের উল্টো টাকা দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা শুধু তেলটা নিয়ে যাবেন।

সোমবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম শূন্যের নিচে নেমে গেছে। তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো আর অতিরিক্ত তেলের চাপ নিতে পারছে না। উৎপাদকেরা আশঙ্কা করছেন, মে মাসে সংরক্ষণাগার একেবারে উপচে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে এই তেল নিজেদের কাছ থেকে সরাতে চাইছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে বহুদিন ধরেই বেঞ্চমার্ক হয়ে আছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য। অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধ যা-ই হোক না কেন এর দাম কখনোই অন্তত তিনশ’ শতাংশ পড়ে যেতে দেখা যায়নি। এদিন মে মাসের চুক্তিতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭ দশমিক ৮৫মার্কিন ডলার থেকে কমতে কমতে দাঁড়িয়েছিল মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলারে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্চেন্ট কমোডিটি ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডগ কিং বলেন, ‘আজ বিশ্বব্যাপী তেল শিল্পের জন্য এক বিধ্বংসী দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণক্ষমতা পূরণ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এবং বাজারে কিছু দুর্ভাগ্যজনক লেনদেন হয়েছে।’ বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে ভ্রমণ, মানুষের চলাচল সব বন্ধ। এতে তেলের চাহিদা একেবারেই নেই।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিভিন্ন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার সময় হওয়ায় তেলের দাম কমেছে। গতকাল মূলত মে মাসে যেসব তেল সরবরাহ করার কথা ছিল, সেগুলোর দাম কমেছে। কারণ সংরক্ষণাগারগুলোতে মে মাসের তেল রাখার জায়গা আর নেই। জুনে যে ডব্লিউটিআই তেল সরবরাহ করার কথা ছিল, তার দাম গতকাল কমে ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারে ঠেকেছে।

অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গতকাল হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ২৬ ডলার। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বজুড়ে লকডাউন জারি থাকলে জুনে যেসব তেল সরবরাহ করার কথা, তার দামও আরও কমতে পারে। মূলত করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছরের শুরু থেকে চাহিদা কমেছে জ্বালানি তেলের বাজার। ফলে বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে দাম।

যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো অতিরিক্ত তেলের চাপ আর নিতে পারছে না। এতে দাম আরও কমে যাচ্ছে। মার্চের শেষে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে দাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম

ইতিহাসের সর্বনিম্নে তেলের দাম, কিনলে উল্টো টাকা পাচ্ছেন ক্রেতা

আপডেট সময় ০২:২২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পুরোবিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গেছে করোনার প্রকোপে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চলাফেরা সবকিছু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। এতে থমকে আছে অর্থনীতির চাকা। এই লকডাউনের কারণে হু হু করে বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে যে প্রভাব পড়েছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। তাই তেল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। যে কারণে ক্রেতাদের উল্টো টাকা দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা শুধু তেলটা নিয়ে যাবেন।

সোমবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম শূন্যের নিচে নেমে গেছে। তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো আর অতিরিক্ত তেলের চাপ নিতে পারছে না। উৎপাদকেরা আশঙ্কা করছেন, মে মাসে সংরক্ষণাগার একেবারে উপচে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে এই তেল নিজেদের কাছ থেকে সরাতে চাইছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে বহুদিন ধরেই বেঞ্চমার্ক হয়ে আছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য। অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধ যা-ই হোক না কেন এর দাম কখনোই অন্তত তিনশ’ শতাংশ পড়ে যেতে দেখা যায়নি। এদিন মে মাসের চুক্তিতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭ দশমিক ৮৫মার্কিন ডলার থেকে কমতে কমতে দাঁড়িয়েছিল মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলারে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্চেন্ট কমোডিটি ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডগ কিং বলেন, ‘আজ বিশ্বব্যাপী তেল শিল্পের জন্য এক বিধ্বংসী দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণক্ষমতা পূরণ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এবং বাজারে কিছু দুর্ভাগ্যজনক লেনদেন হয়েছে।’ বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে ভ্রমণ, মানুষের চলাচল সব বন্ধ। এতে তেলের চাহিদা একেবারেই নেই।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিভিন্ন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার সময় হওয়ায় তেলের দাম কমেছে। গতকাল মূলত মে মাসে যেসব তেল সরবরাহ করার কথা ছিল, সেগুলোর দাম কমেছে। কারণ সংরক্ষণাগারগুলোতে মে মাসের তেল রাখার জায়গা আর নেই। জুনে যে ডব্লিউটিআই তেল সরবরাহ করার কথা ছিল, তার দাম গতকাল কমে ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারে ঠেকেছে।

অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গতকাল হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ২৬ ডলার। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বজুড়ে লকডাউন জারি থাকলে জুনে যেসব তেল সরবরাহ করার কথা, তার দামও আরও কমতে পারে। মূলত করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছরের শুরু থেকে চাহিদা কমেছে জ্বালানি তেলের বাজার। ফলে বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে দাম।

যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো অতিরিক্ত তেলের চাপ আর নিতে পারছে না। এতে দাম আরও কমে যাচ্ছে। মার্চের শেষে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে দাম।