ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

একসময়ের কোটিপতি এখন চা বিক্রেতা

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

অন্যতম ধনকুবের। গাজার মিলিয়নেয়রদের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা ধনবানদের মতোই বিলাসবহুল জীবন ছিল তাঁর। ডলার খরচ করতেন পানির মতো। বিলাসবহুল বাড়ি। বিদেশি গাড়ি। দামি স্মার্টফোন।

সব মিলিয়ে সাউইরির জীবনে বিলাসিতার অভাব ছিল না। হবু স্ত্রীরকে কিনে দিয়েছিলেন দামি ফোন। সেই মানুষটাই এখন গাজার একটি পার্কে চা বেচছেন। দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ৫ ডলার। স্মার্টফোন তো দূর-অস্ত খরচ কমাতে হবু স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় চিঠিতে।হ্যাঁ, যুদ্ধোত্তর গাজায় ধনকুবের মহম্মদ সাউইরি এখন মামুলি চা বিক্রেতা।

কেন এই হাল সাউইরির?
হাইস্কুল ড্রপ-আউট সাউইরি ছিলেন গাজার টানেল মিলিয়নিয়ার মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। তিন বছরেই হয়ে যান ধনকুবের। রাজনৈতিক অশান্তিই তাঁকে ক্ষমতার গজদন্ত মিনার থেকে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়েছে রাজপথে। এক

সময় গাজার সঙ্গে মিশরের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সুড়ঙ্গ। কয়েক হাজার মানুষের মতো সাউইরিও সুড়ঙ্গের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন অচিরেই। গাজা থেকে সুড়ঙ্গের সাহায্যে গরু, চিড়িখানার বিভিন্ন জন্তু, সিমেন্ট, সোডা, গাড়ি ইত্যাদি পাঠানো হত মিশরে। এই ব্যবসায় রাতারাতি ধনী হয়ে যান মহম্মদ সাউইরি।

কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ যুদ্ধ। ইসরাইলের হানায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে গাজা। গত এক বছরে গাজায় বেকারত্ব বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। যুদ্ধের জেরেই গাজার সঙ্গে সুড়ঙ্গ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর। মিশরের বক্তব্য, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই হামাস যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে মিশরে।

এমনকি যোদ্ধাদের নানা অস্ত্রও ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাচার করা হচ্ছে অবাধে। তাই সুড়ঙ্গ বাণিজ্য কার্যত বন্ধই করে দিয়েছে মিশর। আর এতেই বিপদে পড়েন সাউইরি। রাতারাতি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের ধনকুবের এখন ঠেলা গাড়িতে চা, কফি, আইস ক্রিম বিক্রি করেন।

মায়ের থেকে ৬৫ ডলার ধার করে গাজার একটি পার্কে একফালি জায়গা কিনেছেন সাউইরি। চা বিক্রিতে তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে তাঁর ছোট্ট ভাইপোও। একে একে বিক্রি করেছেন সব কিছু। গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার– সব কিছু। আজ তিনি নিঃস্ব।

শুধু সাউইরিই নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখন একসময়ের বহু ধনী ব্যক্তিরই পেশা চা, কফি, আইস ক্রিম, খবরের কাগজ বিক্রি। কেউ কেউ তো দায়ে পড়ে পরিবারের লোকেদের যৌন ব্যবসাতেও নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে শিশুরা বেছে নিচ্ছে দেহ ব্যবসা।

পেটের জ্বালা, বড় জ্বালা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাউইরির আর্তনাদ, ‘ ইসরাইল তার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গ্যাস ঢেলে তো মেরে ফেলতে পারে। এভাবে আর বাচিয়ে রেখে লাভ কী শিশুরা খিদের পেটে নিজেদের পায়খানা খাচ্ছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে!’

অন্যতম ধনকুবের। গাজার মিলিয়নেয়রদের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা ধনবানদের মতোই বিলাসবহুল জীবন ছিল তাঁর। ডলার খরচ করতেন পানির মতো। বিলাসবহুল বাড়ি। বিদেশি গাড়ি। দামি স্মার্টফোন। সব মিলিয়ে সাউইরির জীবনে বিলাসিতার অভাব ছিল না। হবু স্ত্রীরকে কিনে দিয়েছিলেন দামি ফোন। সেই মানুষটাই এখন গাজার একটি পার্কে চা বেচছেন। দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ৫ ডলার। স্মার্টফোন তো দূর-অস্ত খরচ কমাতে হবু স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় চিঠিতে।হ্যাঁ, যুদ্ধোত্তর গাজায় ধনকুবের মহম্মদ সাউইরি এখন মামুলি চা বিক্রেতা। কেন এই হাল সাউইরির? হাইস্কুল ড্রপ-আউট সাউইরি ছিলেন গাজার টানেল মিলিয়নিয়ার মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। তিন বছরেই হয়ে যান ধনকুবের। রাজনৈতিক অশান্তিই তাঁকে ক্ষমতার গজদন্ত মিনার থেকে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়েছে রাজপথে। এক সময় গাজার সঙ্গে মিশরের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সুড়ঙ্গ। কয়েক হাজার মানুষের মতো সাউইরিও সুড়ঙ্গের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন অচিরেই। গাজা থেকে সুড়ঙ্গের সাহায্যে গরু, চিড়িখানার বিভিন্ন জন্তু, সিমেন্ট, সোডা, গাড়ি ইত্যাদি পাঠানো হত মিশরে। এই ব্যবসায় রাতারাতি ধনী হয়ে যান মহম্মদ সাউইরি। কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ যুদ্ধ। ইসরাইলের হানায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে গাজা। গত এক বছরে গাজায় বেকারত্ব বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। যুদ্ধের জেরেই গাজার সঙ্গে সুড়ঙ্গ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর। মিশরের বক্তব্য, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই হামাস যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে মিশরে। এমনকি যোদ্ধাদের নানা অস্ত্রও ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাচার করা হচ্ছে অবাধে। তাই সুড়ঙ্গ বাণিজ্য কার্যত বন্ধই করে দিয়েছে মিশর। আর এতেই বিপদে পড়েন সাউইরি। রাতারাতি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের ধনকুবের এখন ঠেলা গাড়িতে চা, কফি, আইস ক্রিম বিক্রি করেন। মায়ের থেকে ৬৫ ডলার ধার করে গাজার একটি পার্কে একফালি জায়গা কিনেছেন সাউইরি। চা বিক্রিতে তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে তাঁর ছোট্ট ভাইপোও। একে একে বিক্রি করেছেন সব কিছু। গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার– সব কিছু। আজ তিনি নিঃস্ব। শুধু সাউইরিই নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখন একসময়ের বহু ধনী ব্যক্তিরই পেশা চা, কফি, আইস ক্রিম, খবরের কাগজ বিক্রি। কেউ কেউ তো দায়ে পড়ে পরিবারের লোকেদের যৌন ব্যবসাতেও নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে শিশুরা বেছে নিচ্ছে দেহ ব্যবসা। পেটের জ্বালা, বড় জ্বালা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাউইরির আর্তনাদ, ‘ ইসরাইল তার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গ্যাস ঢেলে তো মেরে ফেলতে পারে। এভাবে আর বাচিয়ে রেখে লাভ কী শিশুরা খিদের পেটে নিজেদের পায়খানা খাচ্ছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে!’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

একসময়ের কোটিপতি এখন চা বিক্রেতা

আপডেট সময় ০৪:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

অন্যতম ধনকুবের। গাজার মিলিয়নেয়রদের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা ধনবানদের মতোই বিলাসবহুল জীবন ছিল তাঁর। ডলার খরচ করতেন পানির মতো। বিলাসবহুল বাড়ি। বিদেশি গাড়ি। দামি স্মার্টফোন।

সব মিলিয়ে সাউইরির জীবনে বিলাসিতার অভাব ছিল না। হবু স্ত্রীরকে কিনে দিয়েছিলেন দামি ফোন। সেই মানুষটাই এখন গাজার একটি পার্কে চা বেচছেন। দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ৫ ডলার। স্মার্টফোন তো দূর-অস্ত খরচ কমাতে হবু স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় চিঠিতে।হ্যাঁ, যুদ্ধোত্তর গাজায় ধনকুবের মহম্মদ সাউইরি এখন মামুলি চা বিক্রেতা।

কেন এই হাল সাউইরির?
হাইস্কুল ড্রপ-আউট সাউইরি ছিলেন গাজার টানেল মিলিয়নিয়ার মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। তিন বছরেই হয়ে যান ধনকুবের। রাজনৈতিক অশান্তিই তাঁকে ক্ষমতার গজদন্ত মিনার থেকে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়েছে রাজপথে। এক

সময় গাজার সঙ্গে মিশরের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সুড়ঙ্গ। কয়েক হাজার মানুষের মতো সাউইরিও সুড়ঙ্গের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন অচিরেই। গাজা থেকে সুড়ঙ্গের সাহায্যে গরু, চিড়িখানার বিভিন্ন জন্তু, সিমেন্ট, সোডা, গাড়ি ইত্যাদি পাঠানো হত মিশরে। এই ব্যবসায় রাতারাতি ধনী হয়ে যান মহম্মদ সাউইরি।

কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ যুদ্ধ। ইসরাইলের হানায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে গাজা। গত এক বছরে গাজায় বেকারত্ব বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। যুদ্ধের জেরেই গাজার সঙ্গে সুড়ঙ্গ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর। মিশরের বক্তব্য, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই হামাস যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে মিশরে।

এমনকি যোদ্ধাদের নানা অস্ত্রও ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাচার করা হচ্ছে অবাধে। তাই সুড়ঙ্গ বাণিজ্য কার্যত বন্ধই করে দিয়েছে মিশর। আর এতেই বিপদে পড়েন সাউইরি। রাতারাতি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের ধনকুবের এখন ঠেলা গাড়িতে চা, কফি, আইস ক্রিম বিক্রি করেন।

মায়ের থেকে ৬৫ ডলার ধার করে গাজার একটি পার্কে একফালি জায়গা কিনেছেন সাউইরি। চা বিক্রিতে তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে তাঁর ছোট্ট ভাইপোও। একে একে বিক্রি করেছেন সব কিছু। গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার– সব কিছু। আজ তিনি নিঃস্ব।

শুধু সাউইরিই নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখন একসময়ের বহু ধনী ব্যক্তিরই পেশা চা, কফি, আইস ক্রিম, খবরের কাগজ বিক্রি। কেউ কেউ তো দায়ে পড়ে পরিবারের লোকেদের যৌন ব্যবসাতেও নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে শিশুরা বেছে নিচ্ছে দেহ ব্যবসা।

পেটের জ্বালা, বড় জ্বালা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাউইরির আর্তনাদ, ‘ ইসরাইল তার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গ্যাস ঢেলে তো মেরে ফেলতে পারে। এভাবে আর বাচিয়ে রেখে লাভ কী শিশুরা খিদের পেটে নিজেদের পায়খানা খাচ্ছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে!’

অন্যতম ধনকুবের। গাজার মিলিয়নেয়রদের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা ধনবানদের মতোই বিলাসবহুল জীবন ছিল তাঁর। ডলার খরচ করতেন পানির মতো। বিলাসবহুল বাড়ি। বিদেশি গাড়ি। দামি স্মার্টফোন। সব মিলিয়ে সাউইরির জীবনে বিলাসিতার অভাব ছিল না। হবু স্ত্রীরকে কিনে দিয়েছিলেন দামি ফোন। সেই মানুষটাই এখন গাজার একটি পার্কে চা বেচছেন। দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ৫ ডলার। স্মার্টফোন তো দূর-অস্ত খরচ কমাতে হবু স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় চিঠিতে।হ্যাঁ, যুদ্ধোত্তর গাজায় ধনকুবের মহম্মদ সাউইরি এখন মামুলি চা বিক্রেতা। কেন এই হাল সাউইরির? হাইস্কুল ড্রপ-আউট সাউইরি ছিলেন গাজার টানেল মিলিয়নিয়ার মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। তিন বছরেই হয়ে যান ধনকুবের। রাজনৈতিক অশান্তিই তাঁকে ক্ষমতার গজদন্ত মিনার থেকে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়েছে রাজপথে। এক সময় গাজার সঙ্গে মিশরের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সুড়ঙ্গ। কয়েক হাজার মানুষের মতো সাউইরিও সুড়ঙ্গের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন অচিরেই। গাজা থেকে সুড়ঙ্গের সাহায্যে গরু, চিড়িখানার বিভিন্ন জন্তু, সিমেন্ট, সোডা, গাড়ি ইত্যাদি পাঠানো হত মিশরে। এই ব্যবসায় রাতারাতি ধনী হয়ে যান মহম্মদ সাউইরি। কিন্তু সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ যুদ্ধ। ইসরাইলের হানায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে গাজা। গত এক বছরে গাজায় বেকারত্ব বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। যুদ্ধের জেরেই গাজার সঙ্গে সুড়ঙ্গ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর। মিশরের বক্তব্য, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই হামাস যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে মিশরে। এমনকি যোদ্ধাদের নানা অস্ত্রও ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাচার করা হচ্ছে অবাধে। তাই সুড়ঙ্গ বাণিজ্য কার্যত বন্ধই করে দিয়েছে মিশর। আর এতেই বিপদে পড়েন সাউইরি। রাতারাতি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসময়ের ধনকুবের এখন ঠেলা গাড়িতে চা, কফি, আইস ক্রিম বিক্রি করেন। মায়ের থেকে ৬৫ ডলার ধার করে গাজার একটি পার্কে একফালি জায়গা কিনেছেন সাউইরি। চা বিক্রিতে তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে তাঁর ছোট্ট ভাইপোও। একে একে বিক্রি করেছেন সব কিছু। গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার– সব কিছু। আজ তিনি নিঃস্ব। শুধু সাউইরিই নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এখন একসময়ের বহু ধনী ব্যক্তিরই পেশা চা, কফি, আইস ক্রিম, খবরের কাগজ বিক্রি। কেউ কেউ তো দায়ে পড়ে পরিবারের লোকেদের যৌন ব্যবসাতেও নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে শিশুরা বেছে নিচ্ছে দেহ ব্যবসা। পেটের জ্বালা, বড় জ্বালা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাউইরির আর্তনাদ, ‘ ইসরাইল তার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের গ্যাস ঢেলে তো মেরে ফেলতে পারে। এভাবে আর বাচিয়ে রেখে লাভ কী শিশুরা খিদের পেটে নিজেদের পায়খানা খাচ্ছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে!’