ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ প্রতিটি ক্লাশরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, শ্রেণিকক্ষেই স্কুলছাত্রের বিষপান খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম জুলাইয়ের ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে: রুমিন ফারহানা

মাকে জঙ্গলে ফেলে আসা খুবই অমানবিক, এর কোনো যুক্তি নেই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস নিয়ে অমানবিকতার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মায়ের একটু সর্দি-কাশি-জ্বর দেখে জঙ্গলে ফেলে আসা; এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না। এই অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারও যদি সন্দেহ হয়, তাহলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকা বিভাগের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় অমানুষেও পরিণত হয়। যখন আমরা দেখি মায়ের একটু সর্দি কাশ জ্বর হলো দেখে; ছেলে, ছেলে বউ, ছেলে-মেয়ে মিলে এমনকি তার স্বামী পর্যন্ত তাকে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে আসে!

‘এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। এ রকম আরও বহু কাহিনী আমরা শুনি!’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটা মানুষকে বের করে দেয়! একজন ডাক্তার অসুস্থ হলেন, তাকে এলাকা থেকে বের করে দিতে হবে! এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটবে বাংলাদেশে? বাংলাদেশের মানুষ তো এ রকম অমানবিক হওয়ার কথা না। এ বিষয়গুলো আমি সবার দৃষ্টিতে আনতে চাই।

করোনা নিয়ে অমানবিক না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারও যদি সন্দেহ হয়, তাহলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার পরীক্ষা করান। নিজেরাও সুরক্ষিত হন।

‘আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হায়াত-মওত আল্লাহর হাতে। যেকোনো মানুষ যেকোনো দিন মরতে পারে। আজকে আমি কথা বলছি, এখানে বসেও মরতে পারি। বা যে কেউ মরতে পারে। এটা কেউ বলতে পারে না যে, আমি বেঁচেই থাকব। একমাত্র আল্লাহ বলতে পারেন।

‘ভাইরাস দেখা দিল, এ রকম একটা ভাইরাস এসে সারাবিশ্বকে এ রকম ঘরবন্দি করে ফেলবে! এটা কী কেউ ভেবেছে। সারাবিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ, তাদের শক্তির দাপটে পৃথিবী অস্থির। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের লড়াই, যুদ্ধ, সংঘাত। অস্ত্রের মহড়া আমরা দেখেছি। সেই অস্ত্র, অর্থ কোনো কাজে লাগেনি। কোনো কাজে লাগবে না। সেটাই প্রমাণ করে দিল এই করোনা ভাইরাস।’

শেখ হাসিনা সবাইকে মানবিক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাজেই এটুকু বলব, সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। সাবধানে থাকতে হবে। তার মানে এই নয় যে, অমানবিক আচারণ করতে হবে। সেটা আপনারা করবেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম

মাকে জঙ্গলে ফেলে আসা খুবই অমানবিক, এর কোনো যুক্তি নেই

আপডেট সময় ০১:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস নিয়ে অমানবিকতার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মায়ের একটু সর্দি-কাশি-জ্বর দেখে জঙ্গলে ফেলে আসা; এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না। এই অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারও যদি সন্দেহ হয়, তাহলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকা বিভাগের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় অমানুষেও পরিণত হয়। যখন আমরা দেখি মায়ের একটু সর্দি কাশ জ্বর হলো দেখে; ছেলে, ছেলে বউ, ছেলে-মেয়ে মিলে এমনকি তার স্বামী পর্যন্ত তাকে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে আসে!

‘এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। এ রকম আরও বহু কাহিনী আমরা শুনি!’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটা মানুষকে বের করে দেয়! একজন ডাক্তার অসুস্থ হলেন, তাকে এলাকা থেকে বের করে দিতে হবে! এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটবে বাংলাদেশে? বাংলাদেশের মানুষ তো এ রকম অমানবিক হওয়ার কথা না। এ বিষয়গুলো আমি সবার দৃষ্টিতে আনতে চাই।

করোনা নিয়ে অমানবিক না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারও যদি সন্দেহ হয়, তাহলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার পরীক্ষা করান। নিজেরাও সুরক্ষিত হন।

‘আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হায়াত-মওত আল্লাহর হাতে। যেকোনো মানুষ যেকোনো দিন মরতে পারে। আজকে আমি কথা বলছি, এখানে বসেও মরতে পারি। বা যে কেউ মরতে পারে। এটা কেউ বলতে পারে না যে, আমি বেঁচেই থাকব। একমাত্র আল্লাহ বলতে পারেন।

‘ভাইরাস দেখা দিল, এ রকম একটা ভাইরাস এসে সারাবিশ্বকে এ রকম ঘরবন্দি করে ফেলবে! এটা কী কেউ ভেবেছে। সারাবিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ, তাদের শক্তির দাপটে পৃথিবী অস্থির। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের লড়াই, যুদ্ধ, সংঘাত। অস্ত্রের মহড়া আমরা দেখেছি। সেই অস্ত্র, অর্থ কোনো কাজে লাগেনি। কোনো কাজে লাগবে না। সেটাই প্রমাণ করে দিল এই করোনা ভাইরাস।’

শেখ হাসিনা সবাইকে মানবিক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাজেই এটুকু বলব, সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। সাবধানে থাকতে হবে। তার মানে এই নয় যে, অমানবিক আচারণ করতে হবে। সেটা আপনারা করবেন না।