ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েল ধ্বংসের চেষ্টা করলে খামেনির মতো পরিণতি হবে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় নিহত ১১ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : মির্জা ফখরুল আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার গভীর মিল: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া

করোনা সত্ত্বেও এ বছর জিডিপি ৬ শতাংশের বেশি হবে: অর্থমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়েছে সব দেশের অর্থনীতি। এর ফলে সারা বিশ্বেই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জিডিপি কমবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংক। তাতে করোনার মুখে চলতি বছর বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার (জিডিপি) কমে ২ থেকে ৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাঙ্কের এ পূর্বাভাস নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল দাবি করেছেন, এ বছর বাংলাদেশ ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি অর্জনে সক্ষম হবে।

সোমবার অর্থমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের এ পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের জিডিপি কমে ২ থেকে ৩ শতাংশ দাঁড়াবে এখনই এটা বলার সময় আসেনি। বিশেষ করে অঙ্ক ধরে বলার উপযুক্ত সময় এটা নয়। আমাদের সামনে তো ৮ মাসের তথ্য আছেই। সেগুলো যাচাই করে, কিছুদিন আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, এবার আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ। ফলে বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাসকে আমি সময় উপযোগী বা পরিপক্ক কোনোটাই মনে করি না। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাবিশ্বের মতো আমাদের জিডিপিও কমবে। তবে এতোটা কমবে না। এ বছরও আমরা কমপক্ষে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি অর্জন করতে সক্ষম হবো।

‘কেননা বাংলাদেশে করোনার প্রভাব পড়ার আগেই আমাদের অর্থবছরের ৮ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। মার্চ থেকে শুরু করে বাকি আছে ৪ মাস। এ সময়ে যদি আমাদের শূন্য কিংবা নেগেটিভ গ্রোথও হয়, তারপরও আগের ৮ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি, তা ৬ শতাংশের বেশিই হবে।’

এরপরপরই দেশের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির চেয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রধিকার এখন দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করা, তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। দেশের মানুষের খাবারের যোগান দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের মৌলিক কাজ। আমাদের প্রবৃদ্ধির প্রধান তিনটি খাত হলো- কৃষি, শিল্প ও সেবা।

‘আমাদের কৃষিখাতে করোনা ভাইরাসের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এটা যদি দীর্ঘায়িত না হয়, তাহলে কৃষিখাতে আমরা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সম্পূর্ণ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবো। আর শিল্পখাতে কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এটা কাটানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগও নিয়েছি। একইভাবে সেবাখাতেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে। আমরা স্বীকার করছি প্রবৃদ্ধি কমবে, কিন্তু এতোটা কমবে না।’

সবশেষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান অর্থমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ধ্বংসের চেষ্টা করলে খামেনির মতো পরিণতি হবে

করোনা সত্ত্বেও এ বছর জিডিপি ৬ শতাংশের বেশি হবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:২৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়েছে সব দেশের অর্থনীতি। এর ফলে সারা বিশ্বেই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জিডিপি কমবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংক। তাতে করোনার মুখে চলতি বছর বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার (জিডিপি) কমে ২ থেকে ৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাঙ্কের এ পূর্বাভাস নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল দাবি করেছেন, এ বছর বাংলাদেশ ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি অর্জনে সক্ষম হবে।

সোমবার অর্থমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের এ পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের জিডিপি কমে ২ থেকে ৩ শতাংশ দাঁড়াবে এখনই এটা বলার সময় আসেনি। বিশেষ করে অঙ্ক ধরে বলার উপযুক্ত সময় এটা নয়। আমাদের সামনে তো ৮ মাসের তথ্য আছেই। সেগুলো যাচাই করে, কিছুদিন আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, এবার আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ। ফলে বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাসকে আমি সময় উপযোগী বা পরিপক্ক কোনোটাই মনে করি না। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাবিশ্বের মতো আমাদের জিডিপিও কমবে। তবে এতোটা কমবে না। এ বছরও আমরা কমপক্ষে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি অর্জন করতে সক্ষম হবো।

‘কেননা বাংলাদেশে করোনার প্রভাব পড়ার আগেই আমাদের অর্থবছরের ৮ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। মার্চ থেকে শুরু করে বাকি আছে ৪ মাস। এ সময়ে যদি আমাদের শূন্য কিংবা নেগেটিভ গ্রোথও হয়, তারপরও আগের ৮ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি, তা ৬ শতাংশের বেশিই হবে।’

এরপরপরই দেশের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির চেয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রধিকার এখন দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করা, তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। দেশের মানুষের খাবারের যোগান দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের মৌলিক কাজ। আমাদের প্রবৃদ্ধির প্রধান তিনটি খাত হলো- কৃষি, শিল্প ও সেবা।

‘আমাদের কৃষিখাতে করোনা ভাইরাসের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এটা যদি দীর্ঘায়িত না হয়, তাহলে কৃষিখাতে আমরা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সম্পূর্ণ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবো। আর শিল্পখাতে কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এটা কাটানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগও নিয়েছি। একইভাবে সেবাখাতেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে। আমরা স্বীকার করছি প্রবৃদ্ধি কমবে, কিন্তু এতোটা কমবে না।’

সবশেষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান অর্থমন্ত্রী।