ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু ইউনিয়ন লেভেলে এখন সাংবাদিক কার্ড পাওয়া যায়: জয়নুল আবেদীন ফারুক পুনর্বিন্যাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সাত খুন মামলায় ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার আপিলের রায়ে আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, মাসুদ রানা সহ ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় ১১ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কিছু সদস্যের জন্যে পুরো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করা যাবে না।

এর আগে ১৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তারিখ পরিবর্তন করে ২২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন আদালত।আপিলে আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আহসান উল্লাহ।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পুর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামান নূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার, রহম আলীসহ ২০ আসামি হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‍্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেন। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেন বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে এসেছে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার।২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরের দিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের

সাত খুন মামলায় ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

আপডেট সময় ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার আপিলের রায়ে আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, মাসুদ রানা সহ ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় ১১ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কিছু সদস্যের জন্যে পুরো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করা যাবে না।

এর আগে ১৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তারিখ পরিবর্তন করে ২২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন আদালত।আপিলে আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আহসান উল্লাহ।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পুর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামান নূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার, রহম আলীসহ ২০ আসামি হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‍্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেন। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেন বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে এসেছে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার।২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরের দিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।