অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আরও কমেছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমন তথ্য জানিয়ে কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পদ্মা নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘন্টায় আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও কমছে।”
তবে ‘সার্বিকভাবে’ বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এর আগে গত রোববার প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ এক সপ্তাহে বন্যায় ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বন্যায় দেশের ৩১ জেলার ১৮৩টি উপজেলার ৪৭টি পৌরসভাসহ ১২০০টি ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অধিদপ্তরের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় ৬১ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
গত এক সপ্তাহে দিনাজপুরে ৩০ জন, কুড়িগ্রামে ২২, লালমনিরহাটে ৬, নীলফামারীতে ৮, সুনামগঞ্জে ২, নেত্রকোণায় ২, গাইবান্ধায় ১৩, সিরাজগঞ্জে ৬, জামালপুরে ১২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১, নওগাঁয় ৫, যশোরে ৩, শেরপুরে ৩, মৌলভীবাজারে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, রংপুরে ৩ এবং টাঙ্গাইলে ২ জনসহ মোট ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।
সারা দেশের ৬৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে অধিদপ্তর বলছে- দুর্গত এসব মানুষের সেবায় কাজ করছে মোট ১৭৭০টি চিকিৎসা দল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, কুমিল্লা, শেরপুর নাটোর ও ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















