ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী মোবাইল নয়, শিশুদের ফিরতে হবে খেলার মাঠে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীর জন্য কবর খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল ২৪ বছর আগে স্বামীর অক্ষত লাশ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দেবে না: সাদিক কায়েম গণতন্ত্রের পরিবর্তে ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়েছে আওয়ামী লীগ : ইশরাক হোসেন মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পাওয়া বস্তু বোমা নয়: ডিএমপি

ঢাকায় তৈরি হবে ২০টি মডেল বিল্ডিং: মেয়র আতিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ ২০টি মডেল বিল্ডিং তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবনসহ অন্যান্য ভবনগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের হুশিয়ারিও দেন মেয়র।

বুয়েটে ‘ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনা: সাম্প্রতিক সংকট’ এক সেমিনারে তিনি এসব কথা জানান। শনিবার সকাল ৯টায় বুয়েটের অডিটোরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সেমিনারের আয়োজন করে।

বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ হিলালী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান। সেমিনারের আহ্বায়ক স্থপতি কাজী এম আরিফ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ শহর গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে। রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর আমরা বুয়েটের সহায়তায় যেভাবে গার্মেন্টস কারখানায় একটি সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছি, তেমনি প্রত্যেকটা হাসপাতাল ও মার্কেটে অগ্ননির্বাপণ উদ্যোগ গ্রহণে সময় বেঁধে দেব। আমাদের ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ভবনগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অ্যাসেসমেন্ট করে দেব। ভবন মালিকদের নিজ পয়সায় তা নিশ্চিত করতে হবে। তা যদি না করা হয়, তাহলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

মেয়র বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জন্য অনেক যন্ত্রপাতি আসতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এসব যন্ত্রপাতির মান নির্ণয়ের জন্য বুয়েটে একটি আধুনিক মানের ল্যাবরেটরি চালুর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জায়গায় গাড়ি ঢুকতে পারে না, সেসব জায়গায় স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন করার উদ্যোগ নিয়েছি। অনতিবিলম্বে ফায়ার হাইড্রেন দিতে পারলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে তার জন্য আমাদের কোনো রেসকিউ ব্যবস্থা নেই। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড নিয়ে নতুন আঙ্গিকে চিন্তা করতে হবে। কারণ ঢাকা শহরে ভবনের ঘনত্ব বেড়েছে, মানুষের ঘনত্ব বেড়েছে। মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিংয়ের ডিজাইন অন্যান্য বিল্ডিংয়ের চেয়ে ভিন্ন হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, যদি মেয়রের বক্তব্য মতো কোনো মডেল বিল্ডিং তৈরি করা যায় তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা আইকন হয়ে থাকবে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় সব অগ্নিকাণ্ডের কারণ বৈদ্যুতিক লাইন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইলেক্ট্রনিক ডিজাইন ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা করা হয় না। আর তারা সেখানে নিম্নমানের তার ব্যবহার করছে।

তিনি অগ্নিনির্বাপণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পুরান ঢাকায় বিভিন্ন অলিগলি আছে, সেখানে আগুন ধরলে দেখা যায় যে, বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না। এখন অগ্নিনির্বাপণের জন্য অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। তাই আমাদের ভিন্ন ভিন্ন জয়গায় ভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

স্থপতি ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ ঢাকা শহরের অগ্নিনিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপনকালে ঢাকার কয়েকটি সুউচ্চ ভবনের ওপর তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। এতে দেখা যায় মহাখালীর রূপায়ন সেন্টার, গুলশানের সিলভার টাওয়ার উত্তরার মাস্কট প্লাজা, বাংলা মটরের সোনার তরী এবং কাওরান বাজারের সামিট সেন্টারসহ রাজধানীর অধিকাংশ ভবনের অগ্নিনির্বাপণ অত্যন্ত দুর্বল এবং আপদকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদে সরে যাওয়র কোনো ব্যবস্থা নেই। এর জন্য তিনি বিল্ডিংয়ের প্রকৌশলী ও মালিকের বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল

ঢাকায় তৈরি হবে ২০টি মডেল বিল্ডিং: মেয়র আতিক

আপডেট সময় ১০:২০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ ২০টি মডেল বিল্ডিং তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবনসহ অন্যান্য ভবনগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের হুশিয়ারিও দেন মেয়র।

বুয়েটে ‘ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনা: সাম্প্রতিক সংকট’ এক সেমিনারে তিনি এসব কথা জানান। শনিবার সকাল ৯টায় বুয়েটের অডিটোরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সেমিনারের আয়োজন করে।

বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ হিলালী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান। সেমিনারের আহ্বায়ক স্থপতি কাজী এম আরিফ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ শহর গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে। রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর আমরা বুয়েটের সহায়তায় যেভাবে গার্মেন্টস কারখানায় একটি সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছি, তেমনি প্রত্যেকটা হাসপাতাল ও মার্কেটে অগ্ননির্বাপণ উদ্যোগ গ্রহণে সময় বেঁধে দেব। আমাদের ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ভবনগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অ্যাসেসমেন্ট করে দেব। ভবন মালিকদের নিজ পয়সায় তা নিশ্চিত করতে হবে। তা যদি না করা হয়, তাহলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

মেয়র বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জন্য অনেক যন্ত্রপাতি আসতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এসব যন্ত্রপাতির মান নির্ণয়ের জন্য বুয়েটে একটি আধুনিক মানের ল্যাবরেটরি চালুর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জায়গায় গাড়ি ঢুকতে পারে না, সেসব জায়গায় স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন করার উদ্যোগ নিয়েছি। অনতিবিলম্বে ফায়ার হাইড্রেন দিতে পারলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ঢাকায় কোনো দুর্যোগ হলে তার জন্য আমাদের কোনো রেসকিউ ব্যবস্থা নেই। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড নিয়ে নতুন আঙ্গিকে চিন্তা করতে হবে। কারণ ঢাকা শহরে ভবনের ঘনত্ব বেড়েছে, মানুষের ঘনত্ব বেড়েছে। মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিংয়ের ডিজাইন অন্যান্য বিল্ডিংয়ের চেয়ে ভিন্ন হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, যদি মেয়রের বক্তব্য মতো কোনো মডেল বিল্ডিং তৈরি করা যায় তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা আইকন হয়ে থাকবে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় সব অগ্নিকাণ্ডের কারণ বৈদ্যুতিক লাইন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইলেক্ট্রনিক ডিজাইন ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা করা হয় না। আর তারা সেখানে নিম্নমানের তার ব্যবহার করছে।

তিনি অগ্নিনির্বাপণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পুরান ঢাকায় বিভিন্ন অলিগলি আছে, সেখানে আগুন ধরলে দেখা যায় যে, বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না। এখন অগ্নিনির্বাপণের জন্য অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। তাই আমাদের ভিন্ন ভিন্ন জয়গায় ভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

স্থপতি ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ ঢাকা শহরের অগ্নিনিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপনকালে ঢাকার কয়েকটি সুউচ্চ ভবনের ওপর তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। এতে দেখা যায় মহাখালীর রূপায়ন সেন্টার, গুলশানের সিলভার টাওয়ার উত্তরার মাস্কট প্লাজা, বাংলা মটরের সোনার তরী এবং কাওরান বাজারের সামিট সেন্টারসহ রাজধানীর অধিকাংশ ভবনের অগ্নিনির্বাপণ অত্যন্ত দুর্বল এবং আপদকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদে সরে যাওয়র কোনো ব্যবস্থা নেই। এর জন্য তিনি বিল্ডিংয়ের প্রকৌশলী ও মালিকের বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন।