অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক পর্যবেক্ষক আসবেন। আমরা বলেছি, পর্যবেক্ষকরা যেখানে যাবেন তাদের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তালিকা চেয়েছি। তারা আগে থেকে তালিকা দিয়ে জানাবেন, কোথায় কি কি কাজ করবেন।
বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মার্কিন দুই কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসা ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মোলার ও দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা কাজী রুম্মন দস্তগীর।
আওয়ামী লীগের পক্ষে এইচটি ইমাম ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ।
সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনো অসন্তোষ জানানো হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এইচটি ইমাম বলেন, ওনারা এসব কথা বলেন নাই। তারা বলছেন, এখন বাংলাদেশে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে।
নির্বাচনের সব দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমেরিকানদের প্রতিক্রিয়া কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে ওদের কাছে সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি। ওরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এমন কোনো দল নেই যারা অংশগ্রহণ করছে না। ওরা তো বলেছে, এতগুলো দল এ রকমভাবে; কীভাবে তোমরা এত জোট ম্যানেজ করেছ? ওরা ভাবতেই পারে না, আমরা এগুলো করতে পারি। আমরা বলছি, এগুলো আমরা করছি। আমাদের সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে।
বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব থেকে আনন্দের কথা এই যে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যেসব কথা বলেন, আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, সবার অংশগ্রহণ করুক। সুষ্ঠু, অবাধ ও অত্যন্ত স্পষ্ট একটি নির্বাচন। যেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই আদর্শগুলো আমেরিকানরাও ধারণ করে। তাদের সঙ্গে আমাদের মতের যথেষ্ট মিল আছে। এই জন্যই তারা আমাদের এখানে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, তারা (মার্কিন কর্মকর্তা) বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি। তোমরা সংলাপ করেছো।’ এই ডায়ালগে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে যেভাবে নিয়ে এসেছে। ওদের যা কিছু বলার ছিল তারা কিন্তু প্রকাশ্যেই বলে ফেলেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ক্ষোভের জায়গাগুলো তারা বলেছেন এবং সরকার হাসিমুখে নিয়েছে। আমরা যা যা করার দরকার ছিল, যে প্রতিশ্রুতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন সে প্রতিশ্রুতিগুলো সব পালন করছি। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার চেষ্টা করছি সর্বাত্মকভাবে।
নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহলে আমেরিকা কেন পাঠাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, আমেরিকা অবজারভার পাঠাবে। ওরা সব জায়গাতেই পাঠায়। ওরা বলছে, আমরা নির্বাচন কেমন হয় দেখব? সত্যিকার সুষ্ঠু হয় কি না? ওদের তো কতগুলো থিঙ্ক ট্যাংক আছে। আমেরিকান আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়। এ রকম নির্বাচন কিন্তু অনেক দেশেই হয় না। এটা আমাদের গর্ব করার ব্যাপার। এই জন্যই ওরা আসে। তারা সবাই বলছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটা অন্য স্ট্যান্ডার্ড আছে। সেই স্ট্যান্ডার্ডের জন্য, এই উচ্চতায়, মানের জন্যই তারা এখানে আসেন। তারা আরও সম্পর্ক গভীরতর করতে চান। আমাদের সরকার আরও ভালোভাবে শক্তিশালী হোক। এখানে তারা আরও বিনিয়োগ করবেন এমন অনেক কিছু ব্যাপার আছে বলেও জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















