অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারি দলের খোলা মনে সংলাপের কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমরা সংলাপে সম্মত হয়েছি। এ কারণেই জননেত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই আলোচনা হবে খোলা মন ও খোলা পরিবেশে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওবায়দুল কাদের জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া সংলাপ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপর মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ।
সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা (ঐক্যফ্রন্ট) আমাদের সঙ্গে আলাপ করতে চান, আমরা বলেছি মোস্ট ওয়েলকাম। তবে তারা যে দফা-দাবির কথা বলছেন, সে বিষয়ে জানা থাকা দরকার, কতোগুলো বিষয় কিন্তু আমাদের এখতিয়ারে নেই।
ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রস্তাব ও সাড়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় যে কথা হয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন- যেহেতু তারা দেখা করতে চেয়েছেন, শেখ হাসিনার দরজা তাদের জন্য খোলা, তারা দেখা করতে পারবেন।
ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের আলোচ্য বিষয় কী হবে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের বিষয় ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং সভা সমাবেশে সমান অধিকার নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান। সভা সমাবেশতো তারা করছেনই। কিন্তু যখন সিডিউল ঘোষণা হবে তখন সভা সমাবেশের সমান অধিকারের বিষয়টি চলে যাবে একেবারেই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে। দে উইল ডিসাইড ইট।
‘তাদের আলোচ্য বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয় আছে। দুই-একটি বিষয় আছে যা আইন আদালতের বিষয়। আবার দুই-একটি বিষয় আছে যা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সংলাপ নিয়ে আমরা যা বলেছি সেটা আমাদের সরকার এবং দলের পলিসি মেটার। তারা তাদের বিষয় নিয়ে হয়তো কথা বলবেন। সাত দফা দাবি এবং এগারোটি লক্ষ্য নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান। তাতে মোস্ট ওয়েলকাম।
‘বিষয়গুলো নিয়ে দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়েতো আমরা বলতে পারি না যে, মেনে নেওয়া হলো। এ বিষয়ে তাদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি বাট ডিসাইড করবে নির্বাচন কমিশন।’
কাদের বলেন, আরেকটি বিষয় আছে সেটা হলো বিদেশি পর্যবেক্ষক। সেটাতো মেনে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেটাতো আমরা মেনে নিতে পারি না। সেটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন চেয়েছেন তখন আলাপ আলোচনা খোলামেলা পরিবেশেই হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















