ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

খাশোগি হত্যা: সৌদির স্বীকারোক্তিতে নানা অসঙ্গতি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর। ১৭ দিন নানা টালবাহানা করে বিশ্ব গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটি জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হাতাহাতিতে’ জড়িয়ে পড়েন খাশোগি। এসময় তিনি নিহত হন। এই ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক অনুগ্রহ বজায় রাখতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে সৌদি।

তবে তাতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না সৌদির সরকারের। কারণ এই স্বীকারোক্তিতে আছে নানা অসঙ্গতি। তাদেরকে মুখোমুখি হতে হবে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের। যার মাধ্যমে অনেক চরম সত্য তাদের প্রকাশ করতে হবে।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি খাশোগি। এরপরই তুরস্ক অভিযোগ করে তাকে দূতাবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তবে তুরস্কের এমন অভিযোগ শুরুতে পুরোপুরি অস্বীকার করে সৌদি। প্রথমে সৌদির পক্ষ থেকে বলা হয়, দূতাবাসের কাজ শেষ করে খাশোগি চলে গিয়েছেন। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি দেশটি।

এরপর এ বিষয়ে সৌদির কড়া সমালোচনায় লিপ্ত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এছাড়া একের পর এক প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয় বিশ্ব গণমাধ্যমে। সবশেষে আন্তর্জাতিক প্রচণ্ড চাপের মুখে শুক্রবার খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি।

তবে সৌদির পক্ষ থেকে যে স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে তা পুরোপরি সত্য নয়। কারণ খাশোগিকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যার প্রমাণ রয়েছে তুরস্কের হাতে। তবে এবার প্রশ্ন আসতে পারে হাতাহাতিতে নিহত হলে তার মৃতদেহ কেন টুকরো টুকরো করা হলো? এতদিন কেন সত্যটা প্রকাশ করা হয়নি? খাশোগির মৃতদেহ কোথায়?

এমন প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পারবে না সৌদি। এছাড়া এই হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। বরং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে যদি তাদের গ্রেপ্তার করা হয় তবে তাদের হুকুমদাতা কে তাও প্রকাশ করতে হবে সৌদিকে। কিন্তু এটি প্রকাশ করতে গেলেই বেরিয়ে আসতে পারে থলের বেড়াল।

শোনা যাচ্ছে, মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরিয়ে দিয়ে তার ভাইকে উপ যুবরাজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সেটি কতটুকু সত্য তা নিশ্চিত হতে পারেনি কোনো গণমাধ্যম। ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ক্রাউন প্রিন্স যদি তার গদি না হারান। তবুও তার সংস্কার নীতি, একাধিপত্বের অনেকখানি হারিয়ে ফেলবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলে আগে প্রশংসা পেলেও এ ঘটনার পর তার অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হবে বৈ কী!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খাশোগি হত্যা: সৌদির স্বীকারোক্তিতে নানা অসঙ্গতি

আপডেট সময় ০২:৩০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর। ১৭ দিন নানা টালবাহানা করে বিশ্ব গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটি জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হাতাহাতিতে’ জড়িয়ে পড়েন খাশোগি। এসময় তিনি নিহত হন। এই ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক অনুগ্রহ বজায় রাখতে ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে সৌদি।

তবে তাতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না সৌদির সরকারের। কারণ এই স্বীকারোক্তিতে আছে নানা অসঙ্গতি। তাদেরকে মুখোমুখি হতে হবে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের। যার মাধ্যমে অনেক চরম সত্য তাদের প্রকাশ করতে হবে।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি খাশোগি। এরপরই তুরস্ক অভিযোগ করে তাকে দূতাবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তবে তুরস্কের এমন অভিযোগ শুরুতে পুরোপুরি অস্বীকার করে সৌদি। প্রথমে সৌদির পক্ষ থেকে বলা হয়, দূতাবাসের কাজ শেষ করে খাশোগি চলে গিয়েছেন। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি দেশটি।

এরপর এ বিষয়ে সৌদির কড়া সমালোচনায় লিপ্ত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এছাড়া একের পর এক প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয় বিশ্ব গণমাধ্যমে। সবশেষে আন্তর্জাতিক প্রচণ্ড চাপের মুখে শুক্রবার খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি।

তবে সৌদির পক্ষ থেকে যে স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে তা পুরোপরি সত্য নয়। কারণ খাশোগিকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যার প্রমাণ রয়েছে তুরস্কের হাতে। তবে এবার প্রশ্ন আসতে পারে হাতাহাতিতে নিহত হলে তার মৃতদেহ কেন টুকরো টুকরো করা হলো? এতদিন কেন সত্যটা প্রকাশ করা হয়নি? খাশোগির মৃতদেহ কোথায়?

এমন প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পারবে না সৌদি। এছাড়া এই হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। বরং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে যদি তাদের গ্রেপ্তার করা হয় তবে তাদের হুকুমদাতা কে তাও প্রকাশ করতে হবে সৌদিকে। কিন্তু এটি প্রকাশ করতে গেলেই বেরিয়ে আসতে পারে থলের বেড়াল।

শোনা যাচ্ছে, মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরিয়ে দিয়ে তার ভাইকে উপ যুবরাজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সেটি কতটুকু সত্য তা নিশ্চিত হতে পারেনি কোনো গণমাধ্যম। ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ক্রাউন প্রিন্স যদি তার গদি না হারান। তবুও তার সংস্কার নীতি, একাধিপত্বের অনেকখানি হারিয়ে ফেলবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলে আগে প্রশংসা পেলেও এ ঘটনার পর তার অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হবে বৈ কী!