ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বাবার অসমাপ্ত কাজ যেন করে দিতে পারি: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘এদেশের জন্য জাতির পিতা জীবন দিয়েছেন। আমি হারিয়েছি আপনজনদের। আমরা দুই বোন কি যাতনা নিয়ে বেঁচে আছি তা স্বজনহারা মানুষ বুঝতে পারেন। এদেশের মানুষের জন্য বাবা কষ্ট করেছেন, জীবন দিয়েছেন। আমার জীবনে চাওয়ার পাওয়ার কিছু নেই। একটাই চাওয়া, বাবার অসমাপ্ত কাজ যেন করে দিতে পারি।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো অনেকে আছে যারা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ বলতে চেষ্টা করেন একজনের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। একজন তো নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠন নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে গিয়েছেন। মানুষকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইয়াহিয়া খান একজনকেই দোষারোপ করেন তিনি বঙ্গবন্ধু।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা এ কথা বলেন তাঁরা কি ইয়াহিয়ার ভাষণ পড়েননি?’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবনের সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। ইয়াহিয়ার ভাষণটা একটু পড়ে দেখেন। তিনি কাকে দোষারোপ করেন। তিনি গ্রেপ্তার করেছেন বঙ্গবন্ধুকে। বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। অন্য কাউকে তো করেননি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, যারা ওদের পথ চিনিয়েছিল, মা বোনদের অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ৭৫ এর পর তারাই ক্ষমতায় এসেছিল। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করেন জিয়াউর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা নিল। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। কারাগারে বন্দিদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসান।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইত্তেফাকে বসে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করিয়েছে। জিয়াউর রহমান তাদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী উপদেষ্টা করেছেন। জেনারেল এরশাদ ফ্রিডম পার্টি করিয়েছেন। খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য করে বিরোধী দলে বসিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ ক্ষমতায় আছি। আজ সবাই বিচার চায়। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। রেহানা (শেখ রেহানা) লন্ডনে ছিল। তাঁর পাসপোর্টের সময় শেষ হয়ে যায়। তা রিনিউ করতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। আমরা রিফিউজি হয়ে বিদেশে ছিলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৯ সালে সুইডেনে রেহানা প্রথম প্রতিবাদ করে। ১৯৮০ সালে লন্ডনে যখন যাই, সেখানে প্রথম প্রতিবাদ করি। আমরা তদন্ত কমিশন গঠন করি। প্রবাসী বাঙালিরা সহযোগিতা করে। ওই কমিশনের কাজে স্যার টমাস উইলিয়াম বাংলাদেশে আসতে চাইলেন। জিয়াউর রহমান অনুমতি দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন জিয়াউর রহমান যদি দোষী না হয়, জড়িত না থাকে তবে নিশ্চয়ই তদন্ত করতে দিত। তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হয়। তারা একটা রিপোর্টও দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি। মামলার কোনো অধিকারও নেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘রায় যেদিন ঘোষণা হবে সেদিন বিএনপি হরতাল ডাকে। যেন বিচারক যেতে না পারে। যদি জড়িত না থাকে তবে কেন তারা হরতাল দিল। বিচারককে ধন্যবাদ দেই। অনেক হুমকি সত্ত্বেও তিনি রায় দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতোই বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৯ সালে অত্যাচার করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়া হয়। খুনিদের যারা পুরষ্কৃত করে তারা খুনি ছাড়া আর কি?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা ভেবেছিল ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ২০০৮ সালের পর আমরা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচনে না আসে এতে আমাদের কি করার আছে। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র অব্যাহত আছে বলেই তো আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাফনের কাপড় কেনারও সময় দেওয়া হয়নি। কারফিউ দেওয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়। আমার মা ও অন্যান্যদের কোনোমতে বনানী কবরস্থানে মাটি দেওয়া হয়।’

দলের নেতাকর্মীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি নেতাকর্মীর এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত কতটুকু কাজ করলাম। কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম। দেশকে যেন দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশ করতে পারি। আমরা এদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এখনো অনেকে আছে যারা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বাবার অসমাপ্ত কাজ যেন করে দিতে পারি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘এদেশের জন্য জাতির পিতা জীবন দিয়েছেন। আমি হারিয়েছি আপনজনদের। আমরা দুই বোন কি যাতনা নিয়ে বেঁচে আছি তা স্বজনহারা মানুষ বুঝতে পারেন। এদেশের মানুষের জন্য বাবা কষ্ট করেছেন, জীবন দিয়েছেন। আমার জীবনে চাওয়ার পাওয়ার কিছু নেই। একটাই চাওয়া, বাবার অসমাপ্ত কাজ যেন করে দিতে পারি।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো অনেকে আছে যারা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ বলতে চেষ্টা করেন একজনের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। একজন তো নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠন নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে গিয়েছেন। মানুষকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইয়াহিয়া খান একজনকেই দোষারোপ করেন তিনি বঙ্গবন্ধু।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা এ কথা বলেন তাঁরা কি ইয়াহিয়ার ভাষণ পড়েননি?’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবনের সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। ইয়াহিয়ার ভাষণটা একটু পড়ে দেখেন। তিনি কাকে দোষারোপ করেন। তিনি গ্রেপ্তার করেছেন বঙ্গবন্ধুকে। বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। অন্য কাউকে তো করেননি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, যারা ওদের পথ চিনিয়েছিল, মা বোনদের অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ৭৫ এর পর তারাই ক্ষমতায় এসেছিল। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করেন জিয়াউর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা নিল। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। কারাগারে বন্দিদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসান।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইত্তেফাকে বসে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন করিয়েছে। জিয়াউর রহমান তাদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী উপদেষ্টা করেছেন। জেনারেল এরশাদ ফ্রিডম পার্টি করিয়েছেন। খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য করে বিরোধী দলে বসিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজ ক্ষমতায় আছি। আজ সবাই বিচার চায়। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। রেহানা (শেখ রেহানা) লন্ডনে ছিল। তাঁর পাসপোর্টের সময় শেষ হয়ে যায়। তা রিনিউ করতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। আমরা রিফিউজি হয়ে বিদেশে ছিলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৯ সালে সুইডেনে রেহানা প্রথম প্রতিবাদ করে। ১৯৮০ সালে লন্ডনে যখন যাই, সেখানে প্রথম প্রতিবাদ করি। আমরা তদন্ত কমিশন গঠন করি। প্রবাসী বাঙালিরা সহযোগিতা করে। ওই কমিশনের কাজে স্যার টমাস উইলিয়াম বাংলাদেশে আসতে চাইলেন। জিয়াউর রহমান অনুমতি দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন জিয়াউর রহমান যদি দোষী না হয়, জড়িত না থাকে তবে নিশ্চয়ই তদন্ত করতে দিত। তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হয়। তারা একটা রিপোর্টও দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি। মামলার কোনো অধিকারও নেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘রায় যেদিন ঘোষণা হবে সেদিন বিএনপি হরতাল ডাকে। যেন বিচারক যেতে না পারে। যদি জড়িত না থাকে তবে কেন তারা হরতাল দিল। বিচারককে ধন্যবাদ দেই। অনেক হুমকি সত্ত্বেও তিনি রায় দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতোই বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৯ সালে অত্যাচার করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়া হয়। খুনিদের যারা পুরষ্কৃত করে তারা খুনি ছাড়া আর কি?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা ভেবেছিল ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ২০০৮ সালের পর আমরা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচনে না আসে এতে আমাদের কি করার আছে। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র অব্যাহত আছে বলেই তো আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাফনের কাপড় কেনারও সময় দেওয়া হয়নি। কারফিউ দেওয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়। আমার মা ও অন্যান্যদের কোনোমতে বনানী কবরস্থানে মাটি দেওয়া হয়।’

দলের নেতাকর্মীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি নেতাকর্মীর এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত কতটুকু কাজ করলাম। কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম। দেশকে যেন দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশ করতে পারি। আমরা এদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এখনো অনেকে আছে যারা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’