ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ চালাচ্ছে: রুহানি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহবানকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ইরান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হাসান রুহানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন রুহানি।

ইরানই বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের প্রধানতম পৃষ্টপোষক বলে তর্ক শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে মাশুল দিতে হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, প্রক্সি যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার অর্থ সরাচ্ছে ইরানের সরকার। ইরান সরকার পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ দমন নিপীড়ন বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তা, রাষ্ট্রীয় কোষাগার ধ্বংস এবং সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ইরানের এ আগ্রাসন এভাবে বাড়তে থাকলে সকল রাষ্ট্রকে আহবান করছি তাদেরকে একঘরে করা হোক। এছাড়া আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইরান আরও বেশি অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হবে বলেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে `অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ` এর সৃষ্টি করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

তিনি বলেন, এটি খুব বিদ্রুপাত্মক যে, যে সরকারকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকেই আবার ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা হয়।

তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে বলেন, কিছু বিশ্বনেতা নিজেদের অদূরদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্মান দেখিয়ে বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার অন্তত বর্তমান প্রশাসন সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অকার্যকর করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

২০১৫ সালের পরমানু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছিল সৃষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়ন নিয়ে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের বৈঠকের কথাও শোনা যাচ্ছিল। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া নতুন আরেকটি চুক্তি করার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেও মঙ্গলবার এ বৈঠকের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প।

রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও পরদিন রুহানি তা নাকচ করে দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে না এলে ট্রাম্পের সাথে আলোচনায় যাবে না তেহরান। সূত্র: পার্সটুডে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ চালাচ্ছে: রুহানি

আপডেট সময় ০৮:০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহবানকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ইরান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হাসান রুহানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন রুহানি।

ইরানই বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের প্রধানতম পৃষ্টপোষক বলে তর্ক শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে মাশুল দিতে হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, প্রক্সি যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার অর্থ সরাচ্ছে ইরানের সরকার। ইরান সরকার পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ দমন নিপীড়ন বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তা, রাষ্ট্রীয় কোষাগার ধ্বংস এবং সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ইরানের এ আগ্রাসন এভাবে বাড়তে থাকলে সকল রাষ্ট্রকে আহবান করছি তাদেরকে একঘরে করা হোক। এছাড়া আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইরান আরও বেশি অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হবে বলেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে `অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ` এর সৃষ্টি করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

তিনি বলেন, এটি খুব বিদ্রুপাত্মক যে, যে সরকারকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকেই আবার ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা হয়।

তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে বলেন, কিছু বিশ্বনেতা নিজেদের অদূরদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্মান দেখিয়ে বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার অন্তত বর্তমান প্রশাসন সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অকার্যকর করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

২০১৫ সালের পরমানু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছিল সৃষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়ন নিয়ে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের বৈঠকের কথাও শোনা যাচ্ছিল। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া নতুন আরেকটি চুক্তি করার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেও মঙ্গলবার এ বৈঠকের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প।

রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও পরদিন রুহানি তা নাকচ করে দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে না এলে ট্রাম্পের সাথে আলোচনায় যাবে না তেহরান। সূত্র: পার্সটুডে