ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল দাবি আদায় না হলে সারারাত ইসি অবরুদ্ধ রাখবে ছাত্রদল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের

সর্দি-কাশির চিকিৎসায় আর নয় অ্যান্টিবায়োটিক

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সর্দি-কাশির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। খুঁজছেন প্রাকৃতিক সমাধান। সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়।

সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখান থেকে জানা যায় কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে এই মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এতো ভাল কাজ করেনা। তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

কাশির সহজ সমাধান
গরম পানিতে সামান্য মধু, লেবুর রস আর আদার রসের মিশ্রণ কফ এবং গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য বহুল প্রচলিত এই ঘরোয়া পানীয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (এনআইসিই) এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাবিত নির্দেশিকা প্রকাশ করে।

সেখান থেকে জানা যায়, কফের সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার ব্যাপারে সীমিত কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যেটা অনেকের কাজে আসতে পারে।

যেসব কফ মেডিসিনে পেলারগোনিয়াম, গুয়াইফেনেসিন বা ডিক্সট্রোমেথরফ্যান উপাদান রয়েছে সেটা বেশ উপকারী হতে পারে।

রোগীদের ঘরোয়া পানীয় তৈরির পাশাপাশি এ ধরণের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে নিজে নিজে রোগ সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভাল বলে জানান তারা।

অ্যান্টিবায়োটিক কেন নয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসের কারণে এই কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। যেটা সব সময় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায়না। বরং এটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়।

তা সত্ত্বেও আগের গবেষণায় দেখা গেছে যে যুক্তরাজ্যের ৪৮% চিকিৎসক কাশি বা ব্রংকাইটিস রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের উপ পরিচালক ডাঃ সুজান হপকিন্স বলেছেন: মানুষের শরীর যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ে তাহলে সেটা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে আমাদের এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নতুন নির্দেশিকাগুলো প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিকের হার কমাতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ডক্টর সুজান।

তিনি মনে করেন, চিকিৎসকদের উচিত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের খেয়াল রাখার ব্যাপারে রোগীদের আরও উৎসাহিত করা।

ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা প্রফেসর ডেইম স্যালি ডেভিস ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেছেন, যদি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রোগের চিকিৎসা করা আরও জটিল হয়ে যায়।

সেইসঙ্গে সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন ক্যান্সার এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে জানান প্রফেসর ডেইম স্যালি।

কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন?
নির্দেশিকাগুলো এটাও সুপারিশ করে যে, কাশি যদি বড় ধরণের কোন অসুস্থতার কারণে হয়ে থাকে, অথবা রোগী যদি আরও জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।

মধু এক্ষেত্রে আদর্শ ওষুধ হলেও এক বছরের বয়সের নীচে শিশুদের মধু খাওয়াতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেননা মধুতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যেটা খেলে শিশুর পেট খারাপের ঝুঁকি থাকে।

ডক্টর টেসা লুইস একজন চিকিৎসক এবং এন্টিমাইক্রোবায়াল প্রেসক্রাইবিং গাইডলাইন গ্রুপের সভাপতি।

তিনি মনে করেন, যদি কাশি সেরে ওঠার পরিবর্তে দিন দিন খারাপের দিকে যায়, অথবা রোগী যদি খুব বেশি অসুস্থ বোধ করেন বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু

সর্দি-কাশির চিকিৎসায় আর নয় অ্যান্টিবায়োটিক

আপডেট সময় ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সর্দি-কাশির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। খুঁজছেন প্রাকৃতিক সমাধান। সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়।

সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখান থেকে জানা যায় কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে এই মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এতো ভাল কাজ করেনা। তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

কাশির সহজ সমাধান
গরম পানিতে সামান্য মধু, লেবুর রস আর আদার রসের মিশ্রণ কফ এবং গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য বহুল প্রচলিত এই ঘরোয়া পানীয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (এনআইসিই) এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাবিত নির্দেশিকা প্রকাশ করে।

সেখান থেকে জানা যায়, কফের সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার ব্যাপারে সীমিত কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যেটা অনেকের কাজে আসতে পারে।

যেসব কফ মেডিসিনে পেলারগোনিয়াম, গুয়াইফেনেসিন বা ডিক্সট্রোমেথরফ্যান উপাদান রয়েছে সেটা বেশ উপকারী হতে পারে।

রোগীদের ঘরোয়া পানীয় তৈরির পাশাপাশি এ ধরণের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে নিজে নিজে রোগ সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভাল বলে জানান তারা।

অ্যান্টিবায়োটিক কেন নয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসের কারণে এই কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। যেটা সব সময় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায়না। বরং এটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়।

তা সত্ত্বেও আগের গবেষণায় দেখা গেছে যে যুক্তরাজ্যের ৪৮% চিকিৎসক কাশি বা ব্রংকাইটিস রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের উপ পরিচালক ডাঃ সুজান হপকিন্স বলেছেন: মানুষের শরীর যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ে তাহলে সেটা বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে আমাদের এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নতুন নির্দেশিকাগুলো প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিকের হার কমাতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ডক্টর সুজান।

তিনি মনে করেন, চিকিৎসকদের উচিত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের খেয়াল রাখার ব্যাপারে রোগীদের আরও উৎসাহিত করা।

ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা প্রফেসর ডেইম স্যালি ডেভিস ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেছেন, যদি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রোগের চিকিৎসা করা আরও জটিল হয়ে যায়।

সেইসঙ্গে সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন ক্যান্সার এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে জানান প্রফেসর ডেইম স্যালি।

কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন?
নির্দেশিকাগুলো এটাও সুপারিশ করে যে, কাশি যদি বড় ধরণের কোন অসুস্থতার কারণে হয়ে থাকে, অথবা রোগী যদি আরও জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।

মধু এক্ষেত্রে আদর্শ ওষুধ হলেও এক বছরের বয়সের নীচে শিশুদের মধু খাওয়াতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেননা মধুতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যেটা খেলে শিশুর পেট খারাপের ঝুঁকি থাকে।

ডক্টর টেসা লুইস একজন চিকিৎসক এবং এন্টিমাইক্রোবায়াল প্রেসক্রাইবিং গাইডলাইন গ্রুপের সভাপতি।

তিনি মনে করেন, যদি কাশি সেরে ওঠার পরিবর্তে দিন দিন খারাপের দিকে যায়, অথবা রোগী যদি খুব বেশি অসুস্থ বোধ করেন বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।