ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি উল্টো ফল দেবে: পুতিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরানের কাছে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে: ট্রাম্প বিয়ের অনুষ্ঠানে রোস্ট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩ ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ার আগেই প্রতিহত করতে চাই: ডিএসসিসি প্রশাসক ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

তিন শর্তে পুরো অর্থ বছরের বরাদ্দ ছাড়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসন নির্মাণে ‘আশ্রয়ণ-৩’ প্রকল্পে পুরো অর্থবছরের অর্থ এক সঙ্গেই চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন শর্ত দিয়ে প্রথম থেকে চতুর্থ কিস্তির ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার পুরোটাই ছাড়ে সম্মতি দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রকল্পটির অনুকূলে এ বরাদ্দ রয়েছে। ২৬ আগস্ট কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের শর্তগুলো হচ্ছে- ছাড় করা অর্থ অনুমোদিত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আইটেমের (পরিমাণ ও ব্যয়) সংস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ব্যয় করতে হবে, প্রকল্পের সব কেনাকাটা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করে করতে হবে এবং অর্থছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত সব পর্যায়ে আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যেভাবে অর্থ চাহিদার কথা উল্লেখ থাকে সেভাবেই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে যেসব প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কিংবা দেখা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়ন শেষ হবে অথবা প্রকল্পের অগ্রগতি অনেক ভালো- সে ক্ষেত্রে একবারেই পুরো অর্থ বরাদ্দ দিতে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পটির অগ্রগতি ভালো। আমার যতটুকু মনে পড়ে, এটি চলতি অর্থবছরেই সমাপ্ত হবে। তাই চাহিদা অনুযায়ী পুরো অর্থবছরের বরাদ্দ এক সঙ্গেই ছাড় করতে সম্মতি দেয়া হয়েছে।

আশ্রয়ণ-৩ ‘(নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসান চরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১ লাখ নাগরিকের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ)’ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ করা অর্থ প্রথম থেকে চতুর্থ কিস্তির মোট ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা (রাজস্ব ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ও মূলধন ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ) এককালীন অবমুক্তিতে নিুোক্ত শর্তে অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হল।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, বাঁধ, ১২০ গুচ্ছ গ্রামে ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউস ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন, উপাসনালয়, নৌবাহিনীর অফিস ও বাসভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো, ওয়াচ টাওয়ার, গুদাম ঘর, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেলিপ্যাড, চ্যানেল মার্কিং ও মুরিং বয়, বোট ল্যান্ডিং সাইট, মোবাইল টাওয়ার, রাডার স্টেশন, সিসি টিভি, সোলার প্যানেল, জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ইত্যাদি নির্মাণ/স্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ নভেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সে সময় জানানো হয়, ভাসানচর দ্বীপটি নোয়াখালী থেকে প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল, জাহাজ্জাইরচর থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল, সন্দ্বীপ থেকে ৪ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল, পতেঙ্গা পয়েন্ট থেকে ২৮ নটিক্যাল মাইল এবং হাতিয়া থেকে ১৩ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জুন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জনের। তাদের কারণে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ফসল পাননি। অনেকেই জমি হারিয়েছেন।

উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণের দিগুণ রোহিঙ্গা আসায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বাজার, হাসপাতাল ইত্যাদির সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এরই মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কাটা হয়েছে। এ রকম নানা সংকট মোকাবেলায় ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরে এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে বড় ফেভারিট ব্রাজিল, বললেন মেসি

তিন শর্তে পুরো অর্থ বছরের বরাদ্দ ছাড়

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসন নির্মাণে ‘আশ্রয়ণ-৩’ প্রকল্পে পুরো অর্থবছরের অর্থ এক সঙ্গেই চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন শর্ত দিয়ে প্রথম থেকে চতুর্থ কিস্তির ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার পুরোটাই ছাড়ে সম্মতি দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রকল্পটির অনুকূলে এ বরাদ্দ রয়েছে। ২৬ আগস্ট কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের শর্তগুলো হচ্ছে- ছাড় করা অর্থ অনুমোদিত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আইটেমের (পরিমাণ ও ব্যয়) সংস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ব্যয় করতে হবে, প্রকল্পের সব কেনাকাটা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করে করতে হবে এবং অর্থছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত সব পর্যায়ে আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যেভাবে অর্থ চাহিদার কথা উল্লেখ থাকে সেভাবেই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে যেসব প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কিংবা দেখা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়ন শেষ হবে অথবা প্রকল্পের অগ্রগতি অনেক ভালো- সে ক্ষেত্রে একবারেই পুরো অর্থ বরাদ্দ দিতে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পটির অগ্রগতি ভালো। আমার যতটুকু মনে পড়ে, এটি চলতি অর্থবছরেই সমাপ্ত হবে। তাই চাহিদা অনুযায়ী পুরো অর্থবছরের বরাদ্দ এক সঙ্গেই ছাড় করতে সম্মতি দেয়া হয়েছে।

আশ্রয়ণ-৩ ‘(নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসান চরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১ লাখ নাগরিকের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ)’ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ করা অর্থ প্রথম থেকে চতুর্থ কিস্তির মোট ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা (রাজস্ব ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ও মূলধন ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ) এককালীন অবমুক্তিতে নিুোক্ত শর্তে অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হল।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, বাঁধ, ১২০ গুচ্ছ গ্রামে ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউস ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন, উপাসনালয়, নৌবাহিনীর অফিস ও বাসভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো, ওয়াচ টাওয়ার, গুদাম ঘর, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেলিপ্যাড, চ্যানেল মার্কিং ও মুরিং বয়, বোট ল্যান্ডিং সাইট, মোবাইল টাওয়ার, রাডার স্টেশন, সিসি টিভি, সোলার প্যানেল, জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ইত্যাদি নির্মাণ/স্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ নভেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সে সময় জানানো হয়, ভাসানচর দ্বীপটি নোয়াখালী থেকে প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল, জাহাজ্জাইরচর থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল, সন্দ্বীপ থেকে ৪ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল, পতেঙ্গা পয়েন্ট থেকে ২৮ নটিক্যাল মাইল এবং হাতিয়া থেকে ১৩ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জুন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জনের। তাদের কারণে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ফসল পাননি। অনেকেই জমি হারিয়েছেন।

উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণের দিগুণ রোহিঙ্গা আসায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বাজার, হাসপাতাল ইত্যাদির সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এরই মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কাটা হয়েছে। এ রকম নানা সংকট মোকাবেলায় ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরে এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।