ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম দিল আন্তর্জাতিক আদালত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার জন্য মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।

হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি এক বিবৃতিতে আইসিসি’র কৌসূলী ফাতাউ বেনসৌদা আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেধে দিয়েছেন মিয়ানমারকে।

আইসিসি’র এই কৌসূলী প্রায় তিন মাস আগে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও হামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

আইসিসি মিয়ানমার সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ এনে দেবে অনেকে মনে করছেন।

যদিও আইসিসি’র কোনো কোনো সূত্র বলছে, মিয়ানমার সরকার আইসিসি’র সদস্য না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে না।

কিন্তু আইসিসি’র কৌসূলী বলছেন, এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষমতা ও অধিকার সংস্থাটির রয়েছে এবং এ কারণে মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

অবশ্য আইসিসি মনে করে মিয়ানমার এ সংস্থার সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর সদস্য। আর সে কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা যাবে।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করা এ সংস্থার দায়িত্ব।

এ কারণে আইসিসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এবং নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত চালাবে বলে সবার প্রত্যাশা।

ভূ-রাজনৈতিক গবেষক অ্যান্থনি কার্তালুসি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সংঘটিত হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি নির্মূল করাকেই প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছে মিয়ানমারের খুনিরা।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি অনেক দেরিতে হলেও মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে কিন্তু এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম দিল আন্তর্জাতিক আদালত

আপডেট সময় ০৮:২০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার জন্য মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।

হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি এক বিবৃতিতে আইসিসি’র কৌসূলী ফাতাউ বেনসৌদা আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেধে দিয়েছেন মিয়ানমারকে।

আইসিসি’র এই কৌসূলী প্রায় তিন মাস আগে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও হামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

আইসিসি মিয়ানমার সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ এনে দেবে অনেকে মনে করছেন।

যদিও আইসিসি’র কোনো কোনো সূত্র বলছে, মিয়ানমার সরকার আইসিসি’র সদস্য না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে না।

কিন্তু আইসিসি’র কৌসূলী বলছেন, এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষমতা ও অধিকার সংস্থাটির রয়েছে এবং এ কারণে মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

অবশ্য আইসিসি মনে করে মিয়ানমার এ সংস্থার সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর সদস্য। আর সে কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা যাবে।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করা এ সংস্থার দায়িত্ব।

এ কারণে আইসিসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এবং নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত চালাবে বলে সবার প্রত্যাশা।

ভূ-রাজনৈতিক গবেষক অ্যান্থনি কার্তালুসি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সংঘটিত হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি নির্মূল করাকেই প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছে মিয়ানমারের খুনিরা।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি অনেক দেরিতে হলেও মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে কিন্তু এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে।