ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী পূর্বাচলে হবে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি এবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলায় ৩ জন নিহত, শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৩৭

এটা জনগণকে ভাওতা দেয়ার বাজেট: বি চৌধুরী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট দিয়েছেন তাকে ‘ভাওতাবাজির বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি একেএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এই বাজেটে জনগণকে ভাওতা দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল ৭১-এ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী এবার আগের চাইতে আরও বিশাল আকারের বাজেট দিয়েছেন। কিন্তু বিগত বছর মহাবাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই, গতবারের সংশোধিত বাজেট তার প্রমাণ।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘তাছাড়া বাজেটে যে বিরাট অংকের ঘাটতি দেখানো হয়েছে তা পূরণ করতে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে গতবারের চেয়ে দেড়গুণ ঋণ নেবে বলে বলা হয়েছে।’

‘বাজেটে নতুন শিল্প বিনিয়োগের উদ্যোগ নেই। নতুন কর্মসংস্থানের কোনো ইঙ্গিত নেই। বিশালাকার বাজেট দিয়ে ভোটারদের ভাওতা দেওয়া হয়েছে।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গতবারের বাজেটে ট্যাক্স, খাজনা বাড়বে না বলা হলেও পরে নির্বাহী আদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোল ও যাতায়াত ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়েছে। তারপরও মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গত ১০ বছরে নাকি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ভালো করেই জানেন, দ্রব্যমূল্য আর ট্যাক্সের চাপে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। বাজেটে দুর্নীতি দমনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।’

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জাতীয় সরকারের বিধান করতে পারেন।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলখানায় আটক রাখা হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কী করে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে?

সাবেক এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন উঠলে এই সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে নাই। অথচ তারাই মাত্র ১৫ মিনিটে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘অন্যদিকে আমি যখন সংসদে উপনেতা ছিলাম সেসময় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একদিনে তাদের (আওয়ামী লীগ) দাবি বাস্তবায়ন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করি এবং মাত্র চার মাসের মধ্যে নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছিলাম।’

জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেন, ‘পাখির মতো মানুষ মারার বিচার করতে হবে। সবাইকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রমাণ নেই বলে একজন এমপিকে রক্ষা করা হয়েছে, অপর দিকে ১৬৭ জন মানুষকে বিনাবিচারে গুলি করে মারা হয়েছে।’ তিনি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই কারার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নেজামে ইসলামীর সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, আবদুর রউফ ইউসুফী, সৈয়দ নসরুল হাসান, আকবর হোসন পাঠান প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

এটা জনগণকে ভাওতা দেয়ার বাজেট: বি চৌধুরী

আপডেট সময় ০৮:২১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট দিয়েছেন তাকে ‘ভাওতাবাজির বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি একেএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এই বাজেটে জনগণকে ভাওতা দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল ৭১-এ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী এবার আগের চাইতে আরও বিশাল আকারের বাজেট দিয়েছেন। কিন্তু বিগত বছর মহাবাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই, গতবারের সংশোধিত বাজেট তার প্রমাণ।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘তাছাড়া বাজেটে যে বিরাট অংকের ঘাটতি দেখানো হয়েছে তা পূরণ করতে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে গতবারের চেয়ে দেড়গুণ ঋণ নেবে বলে বলা হয়েছে।’

‘বাজেটে নতুন শিল্প বিনিয়োগের উদ্যোগ নেই। নতুন কর্মসংস্থানের কোনো ইঙ্গিত নেই। বিশালাকার বাজেট দিয়ে ভোটারদের ভাওতা দেওয়া হয়েছে।’

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গতবারের বাজেটে ট্যাক্স, খাজনা বাড়বে না বলা হলেও পরে নির্বাহী আদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোল ও যাতায়াত ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়েছে। তারপরও মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গত ১০ বছরে নাকি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ভালো করেই জানেন, দ্রব্যমূল্য আর ট্যাক্সের চাপে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। বাজেটে দুর্নীতি দমনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।’

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জাতীয় সরকারের বিধান করতে পারেন।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলখানায় আটক রাখা হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কী করে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে?

সাবেক এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন উঠলে এই সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে নাই। অথচ তারাই মাত্র ১৫ মিনিটে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন।’

বি. চৌধুরী বলেন, ‘অন্যদিকে আমি যখন সংসদে উপনেতা ছিলাম সেসময় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একদিনে তাদের (আওয়ামী লীগ) দাবি বাস্তবায়ন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করি এবং মাত্র চার মাসের মধ্যে নতুন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছিলাম।’

জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেন, ‘পাখির মতো মানুষ মারার বিচার করতে হবে। সবাইকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রমাণ নেই বলে একজন এমপিকে রক্ষা করা হয়েছে, অপর দিকে ১৬৭ জন মানুষকে বিনাবিচারে গুলি করে মারা হয়েছে।’ তিনি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই কারার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নেজামে ইসলামীর সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, আবদুর রউফ ইউসুফী, সৈয়দ নসরুল হাসান, আকবর হোসন পাঠান প্রমুখ।