ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো: শফিকুল আলম সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে তারেক রহমানকে দায়িত্ব নিতে হবে: আখতার ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চেয়ে এরপর ভোট চান : মির্জা ফখরুল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ করার প্রতিশ্রুতি একটি গ্রুপ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে : মির্জা আব্বাস পাকিস্তান শুধু চেঁচামেচি করছে, বিশ্বকাপ অবশ্যই খেলবে: হার্শা ভোগলে গণতন্ত্রের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে যারাই বাধাগ্রস্ত করবে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে : সালাহউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গিয়াসের বক্তব্য ব্যক্তিগত নয়, বিএনপির হুমকি: হাছান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিণতি তার বাবার চেয়ে ভয়ানক হবে বলে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত নয়, তার দল বিএনপির ‘হুমকি’ বলে দাবি করেছেন হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘গিয়াস কাদের যদি বিএনপির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি না বলতেন তাহলে গতকাল কীভাবে তিনি হুলিয়া মাথায় নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন?’

শুক্রবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিরতে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন হাসান। মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আঞ্চলিক দৈনিক পূর্বকোণ এই সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ মে তাদের পারিবারিক বাসভবন গুডস হিলে হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা ওই বাড়িতে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে।

প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

হাছান বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যাক্তিগত বক্তব্য নয়। প্রকারন্তে তা বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।’

‘প্রশাসনকে বলব, অবিলম্বে তাকে (গিয়াস) গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে বিএনপি জামায়াত যে ষড়যন্ত্র করছে তা বের করা হোক।’

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যেরও জবাব দেন হাছান। বলেন, ‘জামিন দেয়া এবং বাতিল করা আদালতের এখতিয়ার। এখানে সরকারের ভূমিকাটি কী তা আমার বোধগম্য নয়। সুতরাং আপনারা যে প্রতিদিন সকাল, বিকাল মিথ্যাচার করছেন বাংলাদেশের মানুষ এখন সচেতন। এই সমস্ত মিথ্যাচার করে কোন লাভ হবে না।’

‘খালেদার আগেই জেলে যাওয়া উচিত ছিল’

খালেদা জিয়ার বহু আগেই জেলে যাওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান। বলেন, ‘তিনি ১৫ আগস্টকে উপহাস করার জন্য এবং খুনিদের উৎসাহিত করার জন্য নিজের জন্মের তারিখ বদলে ১৫ আগস্ট কেক কাটেন।’

‘ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তার পুত্রের তত্বাবধানে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।’

‘এই বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া, সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যা করেছিল এবং হত্যার পর সংসদে নিন্দা প্রস্তাবও আনতে দেয়নি।’

‘তার (খালেদা জিয়া) পুত্রের (আরাফাত রহমান কোকোর) মৃত্যুর পর জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবেদনা জানানোর তার দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি দরজা খুলেননি।’

‘সুতরাং এই বেগম জিয়ার বহু আগেই জেলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি অনেক পরেই জেলে গেছেন।’

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় ‘গণতান্ত্রিক লীগ’ নামে একটি দল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাজোয়ার হোসেন, জাতীয় পার্টি (জেপি) অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকি, অরুণ সরকার রানাসহ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গিয়াসের বক্তব্য ব্যক্তিগত নয়, বিএনপির হুমকি: হাছান

আপডেট সময় ০৪:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিণতি তার বাবার চেয়ে ভয়ানক হবে বলে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত নয়, তার দল বিএনপির ‘হুমকি’ বলে দাবি করেছেন হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘গিয়াস কাদের যদি বিএনপির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি না বলতেন তাহলে গতকাল কীভাবে তিনি হুলিয়া মাথায় নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন?’

শুক্রবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিরতে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন হাসান। মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন। আঞ্চলিক দৈনিক পূর্বকোণ এই সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ মে তাদের পারিবারিক বাসভবন গুডস হিলে হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা ওই বাড়িতে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে।

প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

হাছান বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যাক্তিগত বক্তব্য নয়। প্রকারন্তে তা বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।’

‘প্রশাসনকে বলব, অবিলম্বে তাকে (গিয়াস) গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে বিএনপি জামায়াত যে ষড়যন্ত্র করছে তা বের করা হোক।’

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যেরও জবাব দেন হাছান। বলেন, ‘জামিন দেয়া এবং বাতিল করা আদালতের এখতিয়ার। এখানে সরকারের ভূমিকাটি কী তা আমার বোধগম্য নয়। সুতরাং আপনারা যে প্রতিদিন সকাল, বিকাল মিথ্যাচার করছেন বাংলাদেশের মানুষ এখন সচেতন। এই সমস্ত মিথ্যাচার করে কোন লাভ হবে না।’

‘খালেদার আগেই জেলে যাওয়া উচিত ছিল’

খালেদা জিয়ার বহু আগেই জেলে যাওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান। বলেন, ‘তিনি ১৫ আগস্টকে উপহাস করার জন্য এবং খুনিদের উৎসাহিত করার জন্য নিজের জন্মের তারিখ বদলে ১৫ আগস্ট কেক কাটেন।’

‘ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তার পুত্রের তত্বাবধানে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।’

‘এই বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া, সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যা করেছিল এবং হত্যার পর সংসদে নিন্দা প্রস্তাবও আনতে দেয়নি।’

‘তার (খালেদা জিয়া) পুত্রের (আরাফাত রহমান কোকোর) মৃত্যুর পর জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবেদনা জানানোর তার দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি দরজা খুলেননি।’

‘সুতরাং এই বেগম জিয়ার বহু আগেই জেলে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি অনেক পরেই জেলে গেছেন।’

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় ‘গণতান্ত্রিক লীগ’ নামে একটি দল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাজোয়ার হোসেন, জাতীয় পার্টি (জেপি) অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকি, অরুণ সরকার রানাসহ প্রমুখ।