ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

এক ফুট লম্বা আঙুল, শয়তান বলে পরিচিত এই কিশোর

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা তারিকের (১২) জন্ম থেকেই দু’হাতের তিনটি করে আঙুল বড় ছিল। বয়সের সঙ্গে যা আরও বড় হয়েছে। কী রোগ? এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, একে ‘এলিফ্যান্ট ফুট’ রোগ বলা হয়। রোগ যাই হোক, তারিকের তো এতে কোনো দোষ নেই। তা সত্ত্বেও গ্রামের অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সাধারণ মানুষ তাকে দুরেই সরিয়ে রাখে।

তাদের ধারণা, কোনো অভিশাপের কারণেই তারিকের হাতের আঙুলগুলি এমন হয়েছে। তাই তারিক গ্রামবাসীদের কাছে শয়তান বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, আঙুলের এমন অদ্ভুত আকারের জন্য প্রতিনিয়তই সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। শুধুমাত্র অস্বাভাবিক আঙুলের জন্য গ্রামের কোনো স্কুল তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারিকের আঙুল দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ভয় পেতে পারে।

বাবা মারা গেছেন। চায়ের দোকানে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চলে তারিকের। তাই আলাদা করে আর ডাক্তার দেখিয়ে ওঠা হয় না। তবে তারিকের বিশ্বাস, একদিন ঠিক সেরে উঠবে সে। বাকিদের মতোই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে। তারিক বলছে, আমিও অন্য বাচ্চাদের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে চাই। তাদের মতোই স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করতে চাই। সেই দিন নিশ্চয়ই আসবে।

১২ বছরের কিশোরের একা একা থাকতে একেবারেই ইচ্ছে করে না। কিন্তু উপায় নেই, সঙ্গী-সাথী দু’একজন যাও বা ছিল, বর্তমানে আর কেউই তারিকের ধারেকাছে আসে না। সকলেই তার আঙুল দেখে ভয় পায়। এমনকী ‘শয়তান’ বলেই ডাকে পাড়ার লোকেরা।

তারিক বলছে, গ্রামবাসীরা ভাবে আমার আঙুলের এমন মাপ হয়তো কোনো অভিশাপের ফল। তাদের কিছুতেই বোঝাতে পারি না এটা একটা রোগ। চিকিৎসা করলেই সেরে উঠব। কিন্তু অর্থের অভাবেই চিকিৎসা আটকে রয়েছে। তাকে একমাত্র বোঝে তার ছোট ভাই। সেই তারিকের সব সময়ের সঙ্গী।

তারিকের এক আত্মীয় জানান, নাবালকের বাবা বেঁচে থাকাকালীন স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে অনেকবারই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সকলেই বলেছেন, এর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। যা খরচ সাপেক্ষও বটে। এত অর্থ কবে, কোথা থেকে জোগাড় হবে তারিক ও তার পরিবারের জানা নেই। তবে আশা আছে, একদিন প্রমাণিত হবে, সে ‘শয়তান’ নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক ফুট লম্বা আঙুল, শয়তান বলে পরিচিত এই কিশোর

আপডেট সময় ০১:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা তারিকের (১২) জন্ম থেকেই দু’হাতের তিনটি করে আঙুল বড় ছিল। বয়সের সঙ্গে যা আরও বড় হয়েছে। কী রোগ? এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, একে ‘এলিফ্যান্ট ফুট’ রোগ বলা হয়। রোগ যাই হোক, তারিকের তো এতে কোনো দোষ নেই। তা সত্ত্বেও গ্রামের অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সাধারণ মানুষ তাকে দুরেই সরিয়ে রাখে।

তাদের ধারণা, কোনো অভিশাপের কারণেই তারিকের হাতের আঙুলগুলি এমন হয়েছে। তাই তারিক গ্রামবাসীদের কাছে শয়তান বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, আঙুলের এমন অদ্ভুত আকারের জন্য প্রতিনিয়তই সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। শুধুমাত্র অস্বাভাবিক আঙুলের জন্য গ্রামের কোনো স্কুল তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারিকের আঙুল দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ভয় পেতে পারে।

বাবা মারা গেছেন। চায়ের দোকানে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চলে তারিকের। তাই আলাদা করে আর ডাক্তার দেখিয়ে ওঠা হয় না। তবে তারিকের বিশ্বাস, একদিন ঠিক সেরে উঠবে সে। বাকিদের মতোই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে। তারিক বলছে, আমিও অন্য বাচ্চাদের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে চাই। তাদের মতোই স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করতে চাই। সেই দিন নিশ্চয়ই আসবে।

১২ বছরের কিশোরের একা একা থাকতে একেবারেই ইচ্ছে করে না। কিন্তু উপায় নেই, সঙ্গী-সাথী দু’একজন যাও বা ছিল, বর্তমানে আর কেউই তারিকের ধারেকাছে আসে না। সকলেই তার আঙুল দেখে ভয় পায়। এমনকী ‘শয়তান’ বলেই ডাকে পাড়ার লোকেরা।

তারিক বলছে, গ্রামবাসীরা ভাবে আমার আঙুলের এমন মাপ হয়তো কোনো অভিশাপের ফল। তাদের কিছুতেই বোঝাতে পারি না এটা একটা রোগ। চিকিৎসা করলেই সেরে উঠব। কিন্তু অর্থের অভাবেই চিকিৎসা আটকে রয়েছে। তাকে একমাত্র বোঝে তার ছোট ভাই। সেই তারিকের সব সময়ের সঙ্গী।

তারিকের এক আত্মীয় জানান, নাবালকের বাবা বেঁচে থাকাকালীন স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে অনেকবারই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সকলেই বলেছেন, এর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। যা খরচ সাপেক্ষও বটে। এত অর্থ কবে, কোথা থেকে জোগাড় হবে তারিক ও তার পরিবারের জানা নেই। তবে আশা আছে, একদিন প্রমাণিত হবে, সে ‘শয়তান’ নয়।