ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সাংবাদিকের কাজ তথ্য দেওয়া, অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া নয়: তথ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নওগাঁর ছাত্রাবাসে মিললো কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল: দুদু ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো: গাজী আতাউর রহমান পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সিদ্ধান্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে: রিজভী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২ সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দুই গৃহবধূর সংঘর্ষ থামাতে যাওয়া বৃদ্ধকে ঢিল মেরে হত্যা

নিহত মজিদ রাঢ়ীর মরদেহের পাশে বিলাপ করছেন স্বজনরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে। গত এক সপ্তাহ আগে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই বিবাদ আরও চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে দুই পরিবারের গৃহবধূদের মধ্যে সংঘর্ষ লাগলে এক বৃদ্ধ থামাতে গেলে তাকে ঢিল মেরে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার এ ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চর কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামে। ওই বাসিন্দা আলমগীর মৃধার স্ত্রী রিপনা বেগমের (৩০) ছোড়া ঢিলের আঘাতে তার প্রতিবেশী দরিদ্র কৃষক মজিদ রাঢ়ী (৬০) নিহত হন।

নিহত মজিদ রাঢ়ী একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত অলি রাঢ়ীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিপনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা বারেক মিয়া ও অন্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মৃধা ও তার প্রতিবেশী দুদু মিয়া মৃধার পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ চলছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে এই দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আলমগীর মৃধার স্ত্রী রিপনা বেগম ও দুদু মিয়া মৃধার স্ত্রী তাসলিমা বেগম। এ সময় তাদের প্রতিবেশী মজিদ রাঢ়ী তাদের থামাতে গেলে ঢিল ছোড়েন রিপনা বেগম। ঢিলটি মজিদ রাঢ়ীর বুকের ওপর গিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন রিপনারে আটক করে সখিপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। নিহতের ছোট ছেলে নজরুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার বাবা সহজ সরল লোক ছিল। যারা আমার বাবাকে মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই।

তাসলিমা বেগম বলেন, মজিদ রাঢ়ীর কোনো দোষ নেই। আমাগো ঝগড়া থামাতে আসার পর রিপনা তার বুকে ঢিলা মেরেছে।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনার পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল হাসান ও আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত রিপনা বেগমকে আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

দুই গৃহবধূর সংঘর্ষ থামাতে যাওয়া বৃদ্ধকে ঢিল মেরে হত্যা

আপডেট সময় ০৫:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে। গত এক সপ্তাহ আগে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই বিবাদ আরও চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে দুই পরিবারের গৃহবধূদের মধ্যে সংঘর্ষ লাগলে এক বৃদ্ধ থামাতে গেলে তাকে ঢিল মেরে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার এ ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চর কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামে। ওই বাসিন্দা আলমগীর মৃধার স্ত্রী রিপনা বেগমের (৩০) ছোড়া ঢিলের আঘাতে তার প্রতিবেশী দরিদ্র কৃষক মজিদ রাঢ়ী (৬০) নিহত হন।

নিহত মজিদ রাঢ়ী একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত অলি রাঢ়ীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিপনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা বারেক মিয়া ও অন্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মৃধা ও তার প্রতিবেশী দুদু মিয়া মৃধার পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ চলছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে এই দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আলমগীর মৃধার স্ত্রী রিপনা বেগম ও দুদু মিয়া মৃধার স্ত্রী তাসলিমা বেগম। এ সময় তাদের প্রতিবেশী মজিদ রাঢ়ী তাদের থামাতে গেলে ঢিল ছোড়েন রিপনা বেগম। ঢিলটি মজিদ রাঢ়ীর বুকের ওপর গিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন রিপনারে আটক করে সখিপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। নিহতের ছোট ছেলে নজরুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার বাবা সহজ সরল লোক ছিল। যারা আমার বাবাকে মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই।

তাসলিমা বেগম বলেন, মজিদ রাঢ়ীর কোনো দোষ নেই। আমাগো ঝগড়া থামাতে আসার পর রিপনা তার বুকে ঢিলা মেরেছে।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনার পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল হাসান ও আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত রিপনা বেগমকে আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হবে।