ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ

ফাইল ছবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থককে গণগ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শক, খুলনার পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারের প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো.আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে খুলনার বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক, ভোটের প্রচারণাকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি কেন আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, খুলনার পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক দিন খুলনায় গণগ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রোববার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জনস্বার্থে এই রিট করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

শুনানিতে মওদুদ আহমদ বলেন, খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটা আইনসম্মত নয় এবং সুপ্রিমকোর্টের রায় পরিপন্থী। সুপ্রিমকোর্টের রায়কে অমান্য করে এটা করা হচ্ছে। তারা আইন মানছেন না…। এ আইন অমান্য এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা রিট ফাইল করি।

মওদুদ আরও বলেন, ‘সাদা পোশাকধারীরা যেভাবে গ্রেফতার করছে এটা আমাদের দেশের আইনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে আমাদের সুপ্রিমকোর্টের একটি বিখ্যাত রায় রয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কীভাবে করতে হবে, কোনটা সঠিক হবে, কোনটা সঠিক হবে না, সে গাইডলাইন দেয়া আছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান একটি রিট করেছেন জনস্বার্থে। কিন্তু এটা জনস্বার্থ নয় দলীয় স্বার্থ। কারণ তারা একটাও সুনির্দিষ্টভাবে গ্রেফতারের তথ্য দেখাতে পারেনি যে, মামলা ছাড়া কাউকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আদালত গ্রেফতার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা ভঙ্গ করে খুলনায় গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুনানি নিয়ে আদালত বিএনপির কোনো নেতাকর্মী, সমর্থককে গণগ্রেফতার, গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থককে গণগ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শক, খুলনার পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারের প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো.আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে খুলনার বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক, ভোটের প্রচারণাকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি কেন আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, খুলনার পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক দিন খুলনায় গণগ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রোববার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জনস্বার্থে এই রিট করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

শুনানিতে মওদুদ আহমদ বলেন, খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটা আইনসম্মত নয় এবং সুপ্রিমকোর্টের রায় পরিপন্থী। সুপ্রিমকোর্টের রায়কে অমান্য করে এটা করা হচ্ছে। তারা আইন মানছেন না…। এ আইন অমান্য এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা রিট ফাইল করি।

মওদুদ আরও বলেন, ‘সাদা পোশাকধারীরা যেভাবে গ্রেফতার করছে এটা আমাদের দেশের আইনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে আমাদের সুপ্রিমকোর্টের একটি বিখ্যাত রায় রয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কীভাবে করতে হবে, কোনটা সঠিক হবে, কোনটা সঠিক হবে না, সে গাইডলাইন দেয়া আছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান একটি রিট করেছেন জনস্বার্থে। কিন্তু এটা জনস্বার্থ নয় দলীয় স্বার্থ। কারণ তারা একটাও সুনির্দিষ্টভাবে গ্রেফতারের তথ্য দেখাতে পারেনি যে, মামলা ছাড়া কাউকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আদালত গ্রেফতার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা ভঙ্গ করে খুলনায় গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুনানি নিয়ে আদালত বিএনপির কোনো নেতাকর্মী, সমর্থককে গণগ্রেফতার, গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।