অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করা সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে আদালতের মুখোমুখি হননি।
সকাল থেকে সুরুজ অবস্থান করছেন সাভারে। আর আদালতের আদেশও তিনি জেনেছেন। তবে এ নিয়ে এখন তার মুখ থেকে খুব বেশি কথা বের করা যায়নি। আদালতে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে তার লোক ও আইনজীবী আছেন।
গত ৩১ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর ভোট স্থগিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন সুরুজ। তিনি এর মধ্যে দুইবার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে গেছেন।
প্রথমবার নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেয়ার সময় শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১০ এপ্রিল সুরুজ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে ভোট স্থগিতের আবেদন নিয়ে যান। তখন তিনি উকিল হিসেবে ভাড়া করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে। কিন্তু সে আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।
এরপর ভোটে আর কোনো আইনি বাঁধা নেই নিশ্চিত হয়ে পুরোদমে শুরু হয় প্রস্তুতি। সুরুজেরও আর কোনো তৎপরতা শোনা যায়নি। এর মধ্যে ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার।
এই প্রচারেরও ১২ দিন কেটে যাওয়ার পর সুরুজ হঠাৎ হাজির হন হাইকোর্টে। এবার তিনি উকিল হিসেবে ভাড়া করেন সরকার সমর্থক সৈয়দ রেজাউর রহমানকে। আর এর আগে হাইকোর্ট থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ার তথ্য গোপন করে করা নতুন এই আবেদনের পর ভোটের নয় দিন বাকি থাকতে ৬ মে ভোটে তিন মাসের স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন সুরুজ।
সুরুজের আপত্তির কারণ, তার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটিতে পড়েছে এবং এ কারণে ওই মৌজার ভোটাররা দুই জায়গাতেই ভোট দিচ্ছে।
কিন্তু পরে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের সময়ই এসব মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তখন থেকেই সুরুজ আইনি লড়াইয়ে ছিলেন। আর স্থানীয় সরকার বিভাগ সেটার মীমাংসা আগেই করেছে।
আবার সুরুজের আপিল শুনানি ও আদালতের আদেশে সংবিধানের ১২৪ (গ) অনুচ্ছেদ লংঘন করার অভিযোগও উঠে। ওই বিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর আদালতের কোনো আদেশের আগে নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ করতে হয়। কিন্তু সেটা করা হয়নি। আর ভোট স্থগিতের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন জানতে পারে টেলিভিশনের সংবাদ থেকে।
এর মধ্যে ৭ মে গাজীপুরে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার, ৮ মে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আপিল করার পর চেম্বার জজ আদালত শুনানি করে মামলাটি ৯ মে পাঠায় আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে। সেদিনই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, তারাও আপিল করতে চান। পরে বুধবার আপিল শুনানির দিন ঠিক হয়।
এই তথ্য সুরুজের অজানা ছিল না। কিন্তু এতদিন আদালতে ছুটোছুটি করে আসা সুরুজ আজ আর উচ্চ আদালতে আসেননি। কেন আসেননি জানতে চাইলে দৈনিক আকাশকে তিনি বলেন, ‘আমার সহকারী ও উকিল আছেন ওখানে, আজ উপজেলা পরিষদে মাসিক সমন্বয় মিটিং ছিল, সে কারণে আমি যাইনি।’
আপিল বিভাগ নির্বাচনে স্থগিতাদেশ বাতিল করেছে, এই তথ্যটি জানিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুরুজ পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘আমার মামলার কী হবে?’
পরে শিমুলিয়ার চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি উপজেলার মিটিং এ আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।’
সুরুজ নিজে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। কিন্তু তার এই আদালতে ছুটোছুটি পছন্দ করেনি তার দল। গাজীপুরে দলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ৬ মে আদালতের স্থগিতাদেশের পর পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
গাজীপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত আজমত উল্লাহ খানের বেয়াই হন রিটকারী শিমুলিয়ার চেয়ারম্যান। আর ৬ মে হাইকোর্টের আদেশের পর আজমত সমর্থকরা ফেসবুকে উল্লাস প্রকাশ করেন। যদিও সুরুজ দাবি করেছেন, আজমতের সঙ্গে আত্মীয়তার সঙ্গে এই রিটের সম্পর্ক নেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















