অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পর আপিলের আবেদন জমা দিলেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমও। আজই এর ওপর শুনানি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
রবিবার উচ্চ আদালতের আদেশে ১৫ মে গাজীপুরে ভোট স্থগিতের আদেশের দুই দিনের মাথায় মঙ্গলবার এই আপিল জমা দিলেন জাহাঙ্গীর।
আগের দিন সোমবার দুপুরে আপিল করেন বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার। তখন উচ্চ আদালতেই ছিলেন জাহাঙ্গীর। তার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম সব নথিপত্র প্রস্তুতও করেন। জাহাঙ্গীরের লোকজন আপিল করা হয়েছে বলেও জানান গণমাধ্যমকর্মীদেরকে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেটি জমা দেয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে এই আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীরের আইনজীবী। সোমবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর এজলাসেই এই হাসানের আবেদনের ওপর শুনানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আইনজীবীরা। তবে হাইকোর্টের আদেশের নথি না আসায় শুনানি হয়নি। আজ দুটি আবেদনেরও ওপরই একসঙ্গে শুনানির আশা করছেন আইনজীবীরা।
জাহাঙ্গীর আগের দিন সাংবাদিকদেরকে বলেন, যেকোনো মূল্যে ১৫ মে ভোট হোক, এটাই তিনি চান।
আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর যখন প্রচারে মশগুল, সেই সময় রবিবার ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের এক আবেদনে ভোট স্থগিত হয়ে যায় তিন মাসের জন্য।
এই আদেশের পরপর জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছিলেন। রবিবারই তিনি ঢাকায় ছুটে এসে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। আর তিনি জাহাঙ্গীরকে আইনিভাবে মোকাবেলার নির্দেশ দেন।
সুরুজের ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। সেই থেকে তিনি নানা সময় হাইকোর্টে এসেছেন। তবে গত ৪ মার্চ এই মৌজাকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
গত ১০ এপ্রিল জনাব সুরুজের রিট আবেদন উত্থাপিত হয় বলে খারিজ হয়েছি। সেদিন তার আইনজীবী ছিলেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। আর রবিবার সুরুজ আইনজীবী হিসেবে নেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সৈয়দ রেজাউর রহমানকে। আর আগের দিন বিফল হয়ে ফিরলেও রবিবার তিনি স্থগিতাদেশ পেয়ে যান।
যদিও সুরুজ দৈনিক আকাশকে বলেছেন, তিনি তার ছয় মৌজায় ভোট স্থগিত চেয়েছিলেন, গাজীপুরে নয়।
আপিলে কী যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছে, সে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরের আইনজীবী শফিকুল বলেন, ‘যে ব্যক্তির রিটে গাজীপুর সিটির নির্বাচন স্থগিত হয়েছে এই ব্যক্তি ২০১৩ সালে একই বিষয়ে একটি রিট দায়ের করেছিল। ওই রিটে রুল দিয়েছিল। পরে সেই রিট নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আদালত। কিন্তু সে একই বিষয় নিয়ে আবার রিট করেছেন। এখানে সে তথ্য গোপন রেখে রিট করে আদেশ নিয়েছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।’
‘এছাড়া রিটকারী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লোক না। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ২০১৬ সালে যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয় তখন তিনি আদালতে আসেন নাই তার সীমানা জটিলতা নিয়ে। এই বিষয়টিও তিনি গোপন রেখেছেন। এছাড়া যথাযথভাবে তিনি মামলা করেন নাই। তার সমস্যা সীমানা নিয়ে। কিন্তু সে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছেন।’
আবার সংবিধানের ১২৫ (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন নিয়ে কোনো আদেশের আগে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ এবং যুক্তিসঙ্গত সময় দেয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু সুরুজের রিট আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ দেয়ার আগে এই বিষয়টি মানা হয়নি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ তারা জেনেছে গণমাধ্যম থেকে। তারাও এই উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















