ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে ‘বড় হামলা’ এখনো শুরুই হয়নি: ট্রাম্প হামলা ও সংঘাতের ঘটনা বিশ্ব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিরুদ্ধে রায় এলে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে: আসিফ সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: নাহিদ ইসলাম শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ছয় মাসে কী করবো জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার বাহরাইনে বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি দূতাবাসের মোহাম্মদপুরে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে আগুন, দগ্ধ ৮

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ফোনে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রীপুর পৌরসভার ওয়েদ্দা দিঘীর এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ঘরে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে শ্রীপুর থানা পুলিশ ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টস কর্মীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষিতার মামা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবেমামলা হলেও পুলিশ অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টসকর্মী দৈনিক আকাশকে জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কালার মাস্টারবাড়ী এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার কাজ করার সময় তার বান্ধবীর মাধ্যমে শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়।

পরে ওই বান্ধবীর কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে শামীম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু তাতে মেয়েটি সাড়া না দেয়ায় শামীম তাকে মোবাইল ফোনেই অপহরণ ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে শামীমের ভয়ে সে ভালুকা থেকে চাকরি ছেড়ে গাজীপুর মহানগরের মধ্য ভূরুলিয়া এলাকার তার নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করে। এরপরও শামীম মোবাইল ফোনে নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

শ্রীপুর থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, গত শনিবার বিকালে মেয়েটির তার খালার বাসা থেকে বের হলে শামীমসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পরে তারা তাকে নিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে ওইদিন রাতেই শ্রীপুর পৌরসভার ওয়েদ্দা দিঘীর পাশে পরিত্যক্ত একটি ঘরে আটকে শামীম তাকে সোমবার পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েটি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তাই ধর্ষণের পরে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ও মুখে কাগজ গুঁজে ঘরের এক কোণে ফেলে রাখে।

পরে মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে হত্যার উদ্দেশে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পাশের বাড়িতে নিয়ে যায়। বস্তা থেকে তাকে বের করে ওই বাড়ির একটি ঘরের কোনে বসিয়ে রেখে দরজা আটকে দেয়া হয়।

শামীমের অনুপস্থিতে ওইদিন বিকালে কৌশলে নিজেকে মুক্ত করে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে স্থানীয়দের ঘটনা বললে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ

আপডেট সময় ০৪:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ফোনে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রীপুর পৌরসভার ওয়েদ্দা দিঘীর এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ঘরে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে শ্রীপুর থানা পুলিশ ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টস কর্মীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষিতার মামা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবেমামলা হলেও পুলিশ অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টসকর্মী দৈনিক আকাশকে জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কালার মাস্টারবাড়ী এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার কাজ করার সময় তার বান্ধবীর মাধ্যমে শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়।

পরে ওই বান্ধবীর কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে শামীম বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু তাতে মেয়েটি সাড়া না দেয়ায় শামীম তাকে মোবাইল ফোনেই অপহরণ ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে শামীমের ভয়ে সে ভালুকা থেকে চাকরি ছেড়ে গাজীপুর মহানগরের মধ্য ভূরুলিয়া এলাকার তার নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করে। এরপরও শামীম মোবাইল ফোনে নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

শ্রীপুর থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, গত শনিবার বিকালে মেয়েটির তার খালার বাসা থেকে বের হলে শামীমসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পরে তারা তাকে নিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে ওইদিন রাতেই শ্রীপুর পৌরসভার ওয়েদ্দা দিঘীর পাশে পরিত্যক্ত একটি ঘরে আটকে শামীম তাকে সোমবার পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েটি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তাই ধর্ষণের পরে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ও মুখে কাগজ গুঁজে ঘরের এক কোণে ফেলে রাখে।

পরে মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে হত্যার উদ্দেশে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পাশের বাড়িতে নিয়ে যায়। বস্তা থেকে তাকে বের করে ওই বাড়ির একটি ঘরের কোনে বসিয়ে রেখে দরজা আটকে দেয়া হয়।

শামীমের অনুপস্থিতে ওইদিন বিকালে কৌশলে নিজেকে মুক্ত করে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে স্থানীয়দের ঘটনা বললে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।