ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানকে হাতুড়িপেটা করেছেন :শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায় : ফজলুর রহমান ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে: সংসদে ফজলুর রহমান কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জ্বালানি লোডিং শুরু, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর রাজধানীতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনসিপির নুসরাতের মনোনয়ন গ্রহণ করবে ইসি, আপিল না করার সিদ্ধান্ত

কম্পিউটার বাবা’সহ পাঁচ ধর্মগুরুকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকার হিন্দুধর্মের পাঁচজন সাধু বা ধর্মগুরুকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার পর তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পাঁচ সাধু হলেন নর্মদানন্দ মহারাজ, হরিহরানন্দ মহারাজ, কম্পিউটার বাবা, ভাইয়ু মহারাজ এবং পন্ডিত যোগেন্দ্র মোহান্ত। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস।খবর বিবিসির।

সরকার জানিয়েছে, ‘কম্পিউটার বাবা’ নামে পরিচিত এক সাধুসহ মোট পাঁচজন সন্তকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে নর্মদা নদীর সংরক্ষণে তাদের অবদানের জন্যই।

যদিও বিরোধী কংগ্রেস বলছে, মধ্যপ্রদেশে এই নির্বাচনের বছরে এ ধরনের পদক্ষেপ ‘তোষণের রাজনীতি’ ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে সরকার কেন এই সাধুদের হঠাৎ এত গুরুত্ব ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে?

স্বামী নামদেব ত্যাগী নামে মধ্যপ্রদেশের এক অতি প্রভাবশালী সাধুকে সবাই চেনে ‘কম্পিউটার বাবা’ নামে- কারণ তার মাথা না কি চলে কম্পিউটারের মতো, আর হাতে সব সময় থাকে একটা ল্যাপটপ।

হেলিকপ্টার থেকে যখন তিনি নামেন, তখনও তার সঙ্গে থাকে নানা ধরনের আধুনিক গ্যাজেট।

ইন্দোরের ভাইয়ু মহারাজ নিজেকে রাষ্ট্রসন্ত বলে ঘোষণা করলেও কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন – জমিদার বংশের এই সন্তান আগে মডেলিংও করতেন।

বিশাল আশ্রম তার, চড়েন মার্সিডিজ এসইউভিতে। থাকেন নানা বিলাসবহুল রিসোর্টে- সব দলের নেতাদেরই যাতায়াত আছে তার কাছে।

এর পাশাপাশি হরিহরানন্দজি, পন্ডিত যোগেন্দ্র মহন্ত ও নর্মদানন্দজির জীবনও কম বর্ণময় নয় – এবং এই সাধুরা সবাই এখন মধ্যপ্রদেশে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাও পাচ্ছেন।

রাজ্যের বিজেপি নেতা ও এমপি প্রভাত ঝা’র কথায়, ‘আমাদের দেশে সরকার সবসময় সাধুসন্তদের পাশে আছে। সরকার হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সংস্থা – আর সাধুরা হলেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রধান। তারা ব্যস্ত থাকেন দেবদেবীর উপাসনা নিয়ে। তো তাদের জন্য সরকার যদি মন্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েই থাকে তো তাতে অন্যায়টা কী হল?’

তবে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন, এ নিয়ে একটি কথাও বলেননি।

তবে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বলছে, এই কম্পিউটার বাবা গত বছরই রাজ্য সরকারের কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘নর্মদা ঘোটালা পদযাত্রা’ করার হুমকি দিয়েছিলেন- এখন প্রতিমন্ত্রীর টোপ দিয়ে তাকে সরকার চুপ করাতে চেয়েছে।

এ বছরেরই শেষ দিকে মধ্যপ্রদেশে ভোট – সাধুদের বাড়তি মর্যাদা দিয়ে হিন্দু ভোট সংহত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করছেন।

কম্পিউটার বাবা নিজে অবশ্য এ সব বক্তব্যে কান দিতে রাজি নন। তিনি বলছেন, ‘আমরা তো নিজে থেকে কিছু চাইনি- কিন্তু সরকার নিশ্চয় আমাদের কাজের গতিপ্রকৃতি দেখেই এই সম্মান দিয়েছে।’

‘কারণ আমরা যে কাজ করি সেটা ২৪ ঘন্টা দৌড়োদৌড়ির কাজ। জনসচেতনতা বাড়ানো, নর্মদার জল সংরক্ষণ করা ও ওই নদীর প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা- এগুলো মোটেই সহজ কাজ নয়। সেই কাজ যাতে আমরা আরও বেশি করে করতে পারি সে জন্যই সরকার আমাদের প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছে – আর তাই সাধুসমাজের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ’- বলছিলেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা রাজ বব্বর দিল্লিতে এদিন আবার বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, গেরুয়াধারী বাবাদের ব্যবহার করে বিজেপি ভোটে জিততে চাইছে- উত্তর প্রদেশে একজন গেরুয়াধারীকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে কী ঘটেছে, তা থেকে তারা কোনও শিক্ষাই নেয়নি।

সদ্য প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়া সাধুসন্তরা অবশ্য এসব সমালোচনা গায়ে মাখছেন না। তাদেরই একজন ভাইয়ু মহারাজ যেমন বলছিলেন, তিনি যেমন সমাজসেবা করছিলেন তেমনই চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেছেন, ‘কোনও স্বীকৃতি বা পদেই আমার কিছু যায় আসে না। এসবের বাইরে আমি একজন সেবক, আর আমি সেবকই থাকতে চাই। যে একজন সেবক- সে কিন্তু মন্ত্রীসান্ত্রী কিছুই নয়, সে সব সময়ই একজন সেবক।’

তবে এই সাধুরা সেবক থাকবেন বলে জানালেও সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রত্যাখ্যান করবেন- এ কথা কেউই বলেননি।

ফলে তাদের সবার জন্যই সরকারি খরচে ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলো, অফিস, ২৪ ঘন্টা চালক-সমেত গাড়ি, টেলিফোন, ব্যক্তিগত কর্মী ও আরও নানা সুযোগ-সুবিধার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারল বাংলাদেশ

কম্পিউটার বাবা’সহ পাঁচ ধর্মগুরুকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা

আপডেট সময় ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকার হিন্দুধর্মের পাঁচজন সাধু বা ধর্মগুরুকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার পর তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পাঁচ সাধু হলেন নর্মদানন্দ মহারাজ, হরিহরানন্দ মহারাজ, কম্পিউটার বাবা, ভাইয়ু মহারাজ এবং পন্ডিত যোগেন্দ্র মোহান্ত। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস।খবর বিবিসির।

সরকার জানিয়েছে, ‘কম্পিউটার বাবা’ নামে পরিচিত এক সাধুসহ মোট পাঁচজন সন্তকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে নর্মদা নদীর সংরক্ষণে তাদের অবদানের জন্যই।

যদিও বিরোধী কংগ্রেস বলছে, মধ্যপ্রদেশে এই নির্বাচনের বছরে এ ধরনের পদক্ষেপ ‘তোষণের রাজনীতি’ ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে সরকার কেন এই সাধুদের হঠাৎ এত গুরুত্ব ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে?

স্বামী নামদেব ত্যাগী নামে মধ্যপ্রদেশের এক অতি প্রভাবশালী সাধুকে সবাই চেনে ‘কম্পিউটার বাবা’ নামে- কারণ তার মাথা না কি চলে কম্পিউটারের মতো, আর হাতে সব সময় থাকে একটা ল্যাপটপ।

হেলিকপ্টার থেকে যখন তিনি নামেন, তখনও তার সঙ্গে থাকে নানা ধরনের আধুনিক গ্যাজেট।

ইন্দোরের ভাইয়ু মহারাজ নিজেকে রাষ্ট্রসন্ত বলে ঘোষণা করলেও কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন – জমিদার বংশের এই সন্তান আগে মডেলিংও করতেন।

বিশাল আশ্রম তার, চড়েন মার্সিডিজ এসইউভিতে। থাকেন নানা বিলাসবহুল রিসোর্টে- সব দলের নেতাদেরই যাতায়াত আছে তার কাছে।

এর পাশাপাশি হরিহরানন্দজি, পন্ডিত যোগেন্দ্র মহন্ত ও নর্মদানন্দজির জীবনও কম বর্ণময় নয় – এবং এই সাধুরা সবাই এখন মধ্যপ্রদেশে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাও পাচ্ছেন।

রাজ্যের বিজেপি নেতা ও এমপি প্রভাত ঝা’র কথায়, ‘আমাদের দেশে সরকার সবসময় সাধুসন্তদের পাশে আছে। সরকার হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সংস্থা – আর সাধুরা হলেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রধান। তারা ব্যস্ত থাকেন দেবদেবীর উপাসনা নিয়ে। তো তাদের জন্য সরকার যদি মন্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েই থাকে তো তাতে অন্যায়টা কী হল?’

তবে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন, এ নিয়ে একটি কথাও বলেননি।

তবে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বলছে, এই কম্পিউটার বাবা গত বছরই রাজ্য সরকারের কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘নর্মদা ঘোটালা পদযাত্রা’ করার হুমকি দিয়েছিলেন- এখন প্রতিমন্ত্রীর টোপ দিয়ে তাকে সরকার চুপ করাতে চেয়েছে।

এ বছরেরই শেষ দিকে মধ্যপ্রদেশে ভোট – সাধুদের বাড়তি মর্যাদা দিয়ে হিন্দু ভোট সংহত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করছেন।

কম্পিউটার বাবা নিজে অবশ্য এ সব বক্তব্যে কান দিতে রাজি নন। তিনি বলছেন, ‘আমরা তো নিজে থেকে কিছু চাইনি- কিন্তু সরকার নিশ্চয় আমাদের কাজের গতিপ্রকৃতি দেখেই এই সম্মান দিয়েছে।’

‘কারণ আমরা যে কাজ করি সেটা ২৪ ঘন্টা দৌড়োদৌড়ির কাজ। জনসচেতনতা বাড়ানো, নর্মদার জল সংরক্ষণ করা ও ওই নদীর প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা- এগুলো মোটেই সহজ কাজ নয়। সেই কাজ যাতে আমরা আরও বেশি করে করতে পারি সে জন্যই সরকার আমাদের প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছে – আর তাই সাধুসমাজের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ’- বলছিলেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা রাজ বব্বর দিল্লিতে এদিন আবার বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, গেরুয়াধারী বাবাদের ব্যবহার করে বিজেপি ভোটে জিততে চাইছে- উত্তর প্রদেশে একজন গেরুয়াধারীকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে কী ঘটেছে, তা থেকে তারা কোনও শিক্ষাই নেয়নি।

সদ্য প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়া সাধুসন্তরা অবশ্য এসব সমালোচনা গায়ে মাখছেন না। তাদেরই একজন ভাইয়ু মহারাজ যেমন বলছিলেন, তিনি যেমন সমাজসেবা করছিলেন তেমনই চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেছেন, ‘কোনও স্বীকৃতি বা পদেই আমার কিছু যায় আসে না। এসবের বাইরে আমি একজন সেবক, আর আমি সেবকই থাকতে চাই। যে একজন সেবক- সে কিন্তু মন্ত্রীসান্ত্রী কিছুই নয়, সে সব সময়ই একজন সেবক।’

তবে এই সাধুরা সেবক থাকবেন বলে জানালেও সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রত্যাখ্যান করবেন- এ কথা কেউই বলেননি।

ফলে তাদের সবার জন্যই সরকারি খরচে ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলো, অফিস, ২৪ ঘন্টা চালক-সমেত গাড়ি, টেলিফোন, ব্যক্তিগত কর্মী ও আরও নানা সুযোগ-সুবিধার।