ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায় মেনে নিন, না হলে করুণ পরিণতি হবে: গোলাম পরওয়ার আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া জোরদার হচ্ছে : ভারতীয় হাইকমিশনার হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে: নাহিদ ইসলাম

বুকজ্বলা বা হার্টবার্ন : কেন হয়, কী করবেন?

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বুকজ্বলা, হার্ট নয়। হার্টের কোনো অসুখ নয়। নাম তবু হার্টবার্ন। বুকে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না- এ আগুন সে আগুনও নয়। পাকস্থলীর (Stomach) এসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) প্রবেশ করলে এ জ্বলা অনুভূত হয়। জ্বলাটা অনুভূত হতে পারে পেটের ওপরের অংশে, বুকের ঠিক মাঝখান দিয়ে ওপর দিকে গলা পর্যন্ত। মুখে হতে পারে তিতা তিতা ভাব।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এসিড উৎপন্ন হয়। স্বাভাবিকভাবে এই এসিড পাকস্থলী থেকে ওপরের দিকে উঠে আসে না। মুখ থেকে খাদ্যনালীর নিচে নেমে গিয়ে পাকস্থলীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোগস্থলে খাদ্যনালীর পেশির একটি বাঁধ (Sphincter) আছে। এই বাঁধ ভেদ করে পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে ওঠে আসতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো কারণে এই বাঁধ ভেঙে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। এই এসিড খাদ্যনালীর নরম আবরণীর সংস্পর্শে এলে বুকজ্বলা অনুভূত হয়।

অনেক খাবার আছে যেগুলোর জন্য বুকজ্বলা হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চা, কফি, টমেটো, টকজাতীয় ফল, ক্যাফিন ও কার্বোনেটযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, পিপারমেন্ট, থিয়োব্রোমিনযুক্ত চকলেট।

এসব খাবারের বেশির ভাগই খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগস্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। আবার তেলে ভাজা খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকতে পারে বলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাপের জন্য পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো, টকজাতীয় ফল, অ্যালকোহল ইত্যাদি পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণই বাড়িয়ে দিতে পারে। সিগারেট বা ধূমপানের জন্যও বুকজ্বলা হতে পারে। তামাকের নিকোটিন খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়।

এ ছাড়া একসাথে অধিক খাবার খেলে, খুব শক্ত করে লুঙ্গি, শাড়ি, সালোয়ার, প্যান্ট বা বেল্ট পরিধান করলে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বা উপুড় হলে কিংবা ভারী কাজ করলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে গিয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলেও এ সমস্যা হতে পারে।
বুকজ্বলাটা হতে পারে মামুলি, মাসে হয়তো একবার। প্রায় ২০ শতাংশ বয়স্ক লোকের এরূপ হয়ে থাকে। অনেকের সপ্তাহে একবার হতে পারে। এটা মোটামুটি চিন্তার কারণ। আবার অনেকের হতে পারে প্রতিদিনই। এটা বেশ গুরুতর। প্রায় ৫-১৫ শতাংশ লোকের এরূপ হয়ে থাকে।

যে রূপই হোক, বুকজ্বলা প্রতিরোধ ও প্রশমনের উপায় আছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকজ্বলা রোগীর কোনো না কোনো খাবারের সাথে এই বুকজ্বলার সম্পর্ক থাকে। সুতরাং খাবার বেছে খেতে হবে। বুকজ্বলা করতে পারে এরূপ খাবারের সবই যে সবার মধ্যে বুকজ্বলা করবে, তা কিন্তু নয়। সুতরাং কোন খাবার খেলে বুকজ্বলা হয় তা ব্যক্তিবিশেষকেই খেয়াল করতে হবে এবং ওই খাবার পরিহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জীবনযাপনের ধারায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে হবে। খাওয়ার পরপরই শোয়া বা উপুড় হওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করাও ঠিক নয়। খালি পেটে চা, কফি পান না করা, শরীরের ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেও বুকজ্বলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পাকস্থলীর এসিড তৈরি কমায়, এরূপ ওষুধও বুকজ্বলা কমাতে কার্যকর। খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দৃঢ় করে এরূপ ওষুধও আছে। বুকজ্বলা প্রশমনের জন্য এন্টাসিড কার্যকর। ওষুধ খেতে হবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। বুকজ্বলা কমানো যেতে পারে পানি পান করে কিংবা চুইংগাম চিবিয়েও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

২২৬টির বেশি আসন নিয়ে আমরাই সরকার গড়বো: মমতা

বুকজ্বলা বা হার্টবার্ন : কেন হয়, কী করবেন?

আপডেট সময় ০৯:২০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বুকজ্বলা, হার্ট নয়। হার্টের কোনো অসুখ নয়। নাম তবু হার্টবার্ন। বুকে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না- এ আগুন সে আগুনও নয়। পাকস্থলীর (Stomach) এসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) প্রবেশ করলে এ জ্বলা অনুভূত হয়। জ্বলাটা অনুভূত হতে পারে পেটের ওপরের অংশে, বুকের ঠিক মাঝখান দিয়ে ওপর দিকে গলা পর্যন্ত। মুখে হতে পারে তিতা তিতা ভাব।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এসিড উৎপন্ন হয়। স্বাভাবিকভাবে এই এসিড পাকস্থলী থেকে ওপরের দিকে উঠে আসে না। মুখ থেকে খাদ্যনালীর নিচে নেমে গিয়ে পাকস্থলীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোগস্থলে খাদ্যনালীর পেশির একটি বাঁধ (Sphincter) আছে। এই বাঁধ ভেদ করে পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে ওঠে আসতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো কারণে এই বাঁধ ভেঙে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। এই এসিড খাদ্যনালীর নরম আবরণীর সংস্পর্শে এলে বুকজ্বলা অনুভূত হয়।

অনেক খাবার আছে যেগুলোর জন্য বুকজ্বলা হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চা, কফি, টমেটো, টকজাতীয় ফল, ক্যাফিন ও কার্বোনেটযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, পিপারমেন্ট, থিয়োব্রোমিনযুক্ত চকলেট।

এসব খাবারের বেশির ভাগই খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগস্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। আবার তেলে ভাজা খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকতে পারে বলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাপের জন্য পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো, টকজাতীয় ফল, অ্যালকোহল ইত্যাদি পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণই বাড়িয়ে দিতে পারে। সিগারেট বা ধূমপানের জন্যও বুকজ্বলা হতে পারে। তামাকের নিকোটিন খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়।

এ ছাড়া একসাথে অধিক খাবার খেলে, খুব শক্ত করে লুঙ্গি, শাড়ি, সালোয়ার, প্যান্ট বা বেল্ট পরিধান করলে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বা উপুড় হলে কিংবা ভারী কাজ করলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে গিয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলেও এ সমস্যা হতে পারে।
বুকজ্বলাটা হতে পারে মামুলি, মাসে হয়তো একবার। প্রায় ২০ শতাংশ বয়স্ক লোকের এরূপ হয়ে থাকে। অনেকের সপ্তাহে একবার হতে পারে। এটা মোটামুটি চিন্তার কারণ। আবার অনেকের হতে পারে প্রতিদিনই। এটা বেশ গুরুতর। প্রায় ৫-১৫ শতাংশ লোকের এরূপ হয়ে থাকে।

যে রূপই হোক, বুকজ্বলা প্রতিরোধ ও প্রশমনের উপায় আছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকজ্বলা রোগীর কোনো না কোনো খাবারের সাথে এই বুকজ্বলার সম্পর্ক থাকে। সুতরাং খাবার বেছে খেতে হবে। বুকজ্বলা করতে পারে এরূপ খাবারের সবই যে সবার মধ্যে বুকজ্বলা করবে, তা কিন্তু নয়। সুতরাং কোন খাবার খেলে বুকজ্বলা হয় তা ব্যক্তিবিশেষকেই খেয়াল করতে হবে এবং ওই খাবার পরিহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জীবনযাপনের ধারায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে হবে। খাওয়ার পরপরই শোয়া বা উপুড় হওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করাও ঠিক নয়। খালি পেটে চা, কফি পান না করা, শরীরের ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেও বুকজ্বলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পাকস্থলীর এসিড তৈরি কমায়, এরূপ ওষুধও বুকজ্বলা কমাতে কার্যকর। খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দৃঢ় করে এরূপ ওষুধও আছে। বুকজ্বলা প্রশমনের জন্য এন্টাসিড কার্যকর। ওষুধ খেতে হবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। বুকজ্বলা কমানো যেতে পারে পানি পান করে কিংবা চুইংগাম চিবিয়েও।