ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ায় ১০ তলা থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও তফসিলের সম্ভাব্য সময় জানালেন ইসি আনোয়ারুল স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল জামায়াত যেদিন লোগো থেকে আকিমুদ দ্বীন উঠিয়েছে সেদিনই তারা পরাজিত: চরমোনাই পীর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: এমপি ফয়সল

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: দুই চীনা নাগরিক গ্রেফতার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের টাকা ভাগবোটোয়ারার সন্দেহে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ক্যাসিনোর ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ.কমের।

গত ৩ আগস্ট ব্লুমবার্গ.কমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে ডিং (৪৫) ও গাও শুহুয়া (৫৩) নামে ওই দুই চীনা নাগরিক সম্পর্কে বলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডিং (৪৫) ও গাও শুহুয়া (৫৩) নামে ওই দুই চীনা নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার নেটওয়ার্ক চালায় বলে জানা গেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জুয়াকেন্দ্র ম্যাকাওতে ডিং ২০০৭ সালে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও চালু করেন। তিনি জুয়াড়িদের এনে এখানকার ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর বসাতেন। অন্যদিকে, শুহুয়া পেইচিংয়ে একটি ক্যাসিনো চালান। ফিলিপাইনে অন্তত ২৯টি জায়গায় তার ক্যাসিনো নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা দুজন বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সহায়তা নিতে পারেন বলে হংকং পুলিশের ধারণা। ওই অর্থ তারা উত্তর কোরিয়াতেও পাঠিয়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগের স্বপক্ষে আরও প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রসিদ্ধ হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারস এতে জড়িত রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) অনেক আগে থেকেই বলে আসছে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পিয়ংইয়ং জড়িত। সংস্থাটির দাবি, চীনের মধ্যস্বত্বভোগীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ওই বিপুল অংকের অর্থ লোপাট করে বলে তদন্ত করে জানতে পারে এফবিআই কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। চুরি যাওয়া অর্থের কিছু পরিমাণ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই আটকে দেয় এবং পরে তা ফিরিয়ে দেয়। বাকি অর্থ এখনও ফেরত পায়নি বাংলাদেশ। পরে ধারাবাহিক তদন্তে আসতে থাকে উত্তর কোরিয়া ও চীনা হ্যাকারদের নাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: দুই চীনা নাগরিক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৩:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের টাকা ভাগবোটোয়ারার সন্দেহে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ক্যাসিনোর ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ.কমের।

গত ৩ আগস্ট ব্লুমবার্গ.কমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে ডিং (৪৫) ও গাও শুহুয়া (৫৩) নামে ওই দুই চীনা নাগরিক সম্পর্কে বলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডিং (৪৫) ও গাও শুহুয়া (৫৩) নামে ওই দুই চীনা নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার নেটওয়ার্ক চালায় বলে জানা গেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জুয়াকেন্দ্র ম্যাকাওতে ডিং ২০০৭ সালে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও চালু করেন। তিনি জুয়াড়িদের এনে এখানকার ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর বসাতেন। অন্যদিকে, শুহুয়া পেইচিংয়ে একটি ক্যাসিনো চালান। ফিলিপাইনে অন্তত ২৯টি জায়গায় তার ক্যাসিনো নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা দুজন বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সহায়তা নিতে পারেন বলে হংকং পুলিশের ধারণা। ওই অর্থ তারা উত্তর কোরিয়াতেও পাঠিয়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগের স্বপক্ষে আরও প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রসিদ্ধ হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারস এতে জড়িত রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) অনেক আগে থেকেই বলে আসছে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পিয়ংইয়ং জড়িত। সংস্থাটির দাবি, চীনের মধ্যস্বত্বভোগীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ওই বিপুল অংকের অর্থ লোপাট করে বলে তদন্ত করে জানতে পারে এফবিআই কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। চুরি যাওয়া অর্থের কিছু পরিমাণ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই আটকে দেয় এবং পরে তা ফিরিয়ে দেয়। বাকি অর্থ এখনও ফেরত পায়নি বাংলাদেশ। পরে ধারাবাহিক তদন্তে আসতে থাকে উত্তর কোরিয়া ও চীনা হ্যাকারদের নাম।