ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বল বিকৃতিতে জড়িত ছিলেন সচিন-দ্রাবিড়ও

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে বল-বিকৃতির দায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে স্মিথদের সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল-বিকৃতির অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে বহুবার এই অভিযোগ উঠেছে। এর জন্য অনেক ক্রিকেটারকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক সেই ঘটনাগুলি।

১৯৭৭ সালে চেন্নাইয়ে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বাঁ হাতি মিডিয়াম পেসার জন লেভারের বিরুদ্ধে বেশি স্যুইং আদায় করার জন্য বলের একপাশে ভেজলিন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। ইংল্যান্ড শিবির থেকে অবশ্য দাবি করা হয়, লেভার ও বব উইলিস কপালের ঘাম দূর করার জন্য চোখের উপর ভেজলিন দেওয়া গজ লাগান। শেষপর্যন্ত লেভারকে কোনওরকম শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

১৯৯০ সালে ফয়সলাবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জলের বোতলের উপরের অংশের সাহায্য নিউজিল্যান্ড দল বল-বিকৃতি করেছিল বলে বহুবছর পরে স্বীকার করেন সেই দলে থাকা উইকেটকিপার অ্যাডাম প্যারোরে। তিনি জানান, এর ফলে বলের স্যুইং বেড়ে যায় এবং পেসার ক্রিস প্রিঙ্গল ১১ উইকেট নেন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও কারও শাস্তি হয়নি।

১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের তৎকালীন অধিনায়ক মাইক আথারটনের বিরুদ্ধে পকেট থেকে ধুলো বার করে বলে লাগানোর অভিযোগ ওঠে। আথারটন অবশ্য দাবি করেন, তিনি হাত শুকনো রাখার জন্য পিচ থেকে নেওয়া মাটি ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনার জন্য তাঁর জরিমানা হয়।

২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের পেসার ওয়াকার ইউনিসের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাসিত হতে হয় ওয়াকারকে। একইসঙ্গে তাঁর ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও হয়।

২০০১ সালে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় টেস্টে কিংবদন্তী সচিন টেন্ডুলকরের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। সচিন দাবি করেন, তিনি বলের উপর থেকে ধুলো-মাটি সরাচ্ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনেস বল-বিকৃতির দায়ে সচিনকে একটি টেস্টে নির্বাসিত করেন। ভারতীয় দল ও বিসিসিআই সচিনের পাশে দাঁড়ায়। সচিনের উপর থেকে নির্বাসন তুলে না নেওয়া হলে সফর বাতিল করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্রিসবেনে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড দ্রাবিড়ের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করেন।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান মার্কাস ট্রেসকোথিক তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন, ১৮ বছর পর তাঁদের অ্যাশেজ সিরিজ জয়ে বল-বিকৃতির বড় ভূমিকা ছিল। তিনি নিজেই বল-বিকৃতি করেছিলেন। এই বই প্রকাশিত হওয়ার আগেই ট্রেসকোথিক অবসর নেন। ফলে তাঁর কোনও শাস্তি হয়নি।

২০০৬ সালে ওভাল টেস্টে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত পাঁচ রান দেন দুই আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার ও বিলি ডকট্রোভ। এর প্রতিবাদে চা বিরতির পর আর মাঠে নামেনি পাকিস্তান দল।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টে ইংল্যান্ডের দুই পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। তাঁরা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। শেষপর্যন্ত তাঁদের কোনও শাস্তি হয়নি।

২০১০ সালেই পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের অল-রাউন্ডার শাহিদ আফ্রিদিকে বল কামড়াতে দেখা যায়। তাঁকে দু’টি টি- টোয়েন্টি ম্যাচে নির্বাসিত করা হয়।২০১২ সালে হোবার্ট টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসার পিটার সিডলের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ করে শ্রীলঙ্কা দল। আইসিসি অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন প্যান্টের চেনে বল ঘষতে দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ফাফ দু প্লেসিকে। আম্পায়াররা পাকিস্তানকে অতিরিক্ত পাঁচ রান দেন। দু প্লেসির ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা হয়।

২০১৬ সালে ফের দু প্লেসির বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তিনি আবার দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ছিলেন। হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে বল-বিকৃতির দায়ে তাঁর ম্যাচ ফির পুরোটাই জরিমানা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বল বিকৃতিতে জড়িত ছিলেন সচিন-দ্রাবিড়ও

আপডেট সময় ০৮:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মার্চ ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে বল-বিকৃতির দায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে স্মিথদের সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল-বিকৃতির অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে বহুবার এই অভিযোগ উঠেছে। এর জন্য অনেক ক্রিকেটারকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক সেই ঘটনাগুলি।

১৯৭৭ সালে চেন্নাইয়ে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বাঁ হাতি মিডিয়াম পেসার জন লেভারের বিরুদ্ধে বেশি স্যুইং আদায় করার জন্য বলের একপাশে ভেজলিন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। ইংল্যান্ড শিবির থেকে অবশ্য দাবি করা হয়, লেভার ও বব উইলিস কপালের ঘাম দূর করার জন্য চোখের উপর ভেজলিন দেওয়া গজ লাগান। শেষপর্যন্ত লেভারকে কোনওরকম শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

১৯৯০ সালে ফয়সলাবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জলের বোতলের উপরের অংশের সাহায্য নিউজিল্যান্ড দল বল-বিকৃতি করেছিল বলে বহুবছর পরে স্বীকার করেন সেই দলে থাকা উইকেটকিপার অ্যাডাম প্যারোরে। তিনি জানান, এর ফলে বলের স্যুইং বেড়ে যায় এবং পেসার ক্রিস প্রিঙ্গল ১১ উইকেট নেন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও কারও শাস্তি হয়নি।

১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের তৎকালীন অধিনায়ক মাইক আথারটনের বিরুদ্ধে পকেট থেকে ধুলো বার করে বলে লাগানোর অভিযোগ ওঠে। আথারটন অবশ্য দাবি করেন, তিনি হাত শুকনো রাখার জন্য পিচ থেকে নেওয়া মাটি ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনার জন্য তাঁর জরিমানা হয়।

২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের পেসার ওয়াকার ইউনিসের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাসিত হতে হয় ওয়াকারকে। একইসঙ্গে তাঁর ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও হয়।

২০০১ সালে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় টেস্টে কিংবদন্তী সচিন টেন্ডুলকরের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। সচিন দাবি করেন, তিনি বলের উপর থেকে ধুলো-মাটি সরাচ্ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনেস বল-বিকৃতির দায়ে সচিনকে একটি টেস্টে নির্বাসিত করেন। ভারতীয় দল ও বিসিসিআই সচিনের পাশে দাঁড়ায়। সচিনের উপর থেকে নির্বাসন তুলে না নেওয়া হলে সফর বাতিল করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্রিসবেনে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড দ্রাবিড়ের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করেন।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান মার্কাস ট্রেসকোথিক তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন, ১৮ বছর পর তাঁদের অ্যাশেজ সিরিজ জয়ে বল-বিকৃতির বড় ভূমিকা ছিল। তিনি নিজেই বল-বিকৃতি করেছিলেন। এই বই প্রকাশিত হওয়ার আগেই ট্রেসকোথিক অবসর নেন। ফলে তাঁর কোনও শাস্তি হয়নি।

২০০৬ সালে ওভাল টেস্টে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত পাঁচ রান দেন দুই আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার ও বিলি ডকট্রোভ। এর প্রতিবাদে চা বিরতির পর আর মাঠে নামেনি পাকিস্তান দল।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টে ইংল্যান্ডের দুই পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। তাঁরা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। শেষপর্যন্ত তাঁদের কোনও শাস্তি হয়নি।

২০১০ সালেই পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের অল-রাউন্ডার শাহিদ আফ্রিদিকে বল কামড়াতে দেখা যায়। তাঁকে দু’টি টি- টোয়েন্টি ম্যাচে নির্বাসিত করা হয়।২০১২ সালে হোবার্ট টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসার পিটার সিডলের বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ করে শ্রীলঙ্কা দল। আইসিসি অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন প্যান্টের চেনে বল ঘষতে দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ফাফ দু প্লেসিকে। আম্পায়াররা পাকিস্তানকে অতিরিক্ত পাঁচ রান দেন। দু প্লেসির ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা হয়।

২০১৬ সালে ফের দু প্লেসির বিরুদ্ধে বল-বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তিনি আবার দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ছিলেন। হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে বল-বিকৃতির দায়ে তাঁর ম্যাচ ফির পুরোটাই জরিমানা হয়।