ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত ২ শিক্ষার্থী কারাগারে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক যুক্ত হচ্ছে না: ডা. জাহেদ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী: আইভী বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের শুধু আইন করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

৫০ শয্যার হাসাপাতাল বানাচ্ছেন ট্যাক্সিচালক সহিদুল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২০০৪ সালে বোনের অসুখ ধরা পড়ে। পরে জানা যায় হৃদযন্ত্রে পানি জমেছে তার। সে সময় সারা কলকাতায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করেও তেমন কোনো চিকিৎসা পাননি। শেষ পর্যন্ত বোনকে বাচাঁতে পারেননি পেশায় ট্যাক্সি চালক সহিদুল লস্কর।

বোন হারানোর সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সংকল্প করেন নিজের গ্রামের হাসপাতাল গড়ে তুলবেন তিনি। এরপর ট্যাক্সি চালিয়ে অল্প অল্প করে জমানো টাকায় গত ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার বারুইপুরের পুঁড়ি গ্রামে চারতলা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। বোনের নামে হাসপাতালের নাম রাখেন ‘মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতাল’। এপ্রিলের মধ্যে সেখানে বহির্বিভাগে পরিষেবা শুরু করে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন সহিদুল। খবর আনন্দবাজারের।

নিজের জমানো টাকা, তিনটে ট্যাক্সি, সোনারপুরে চার কাঠা জমি এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে কাজে নেমেছেন অষ্টম শ্রেণি পাশ সহিদুল। এ কাজে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্ত্রীও।

সহিদুল বলেন, ‘আমি আর আমার স্ত্রী শামিমা দু’জনেই জানি যে, আমরা কিছু আনিনি। কিছু নিয়েও যাব না।’

৫০ শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে প্রবীণদের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও শুরু করেছেন তিনি।

তার এ অনুপ্রেরণামূলক কাজের কথা শুনেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি সম্প্রতি রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ এ সহিদুলের কাজের প্রশংসা করেছেন। মোদি বলেন, ‘সহিদুল কলকাতার কাছে পুঁড়ি গ্রামে একটি হাসপাতাল তৈরি করছেন। এটাই নতুন ভারতের শক্তি।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখে নিজের কাজের প্রশংসা শুনে সহিদুল বলেন, ভাল খবর। আমি আমার কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখন বিষয়টি পৌঁছেছে, তখন চাইব, তিনিও আমাদের পাশে দাঁড়ান। এক জন ক্ষুদ্র নাগরিকের ক্ষমতা আর কতটুকু! কেন্দ্রীয় সরকার পাশে দাঁড়ালে আরও অনেক বেশি মানুষকে পরিষেবা দেওয়া যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

৫০ শয্যার হাসাপাতাল বানাচ্ছেন ট্যাক্সিচালক সহিদুল

আপডেট সময় ০৬:১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২০০৪ সালে বোনের অসুখ ধরা পড়ে। পরে জানা যায় হৃদযন্ত্রে পানি জমেছে তার। সে সময় সারা কলকাতায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করেও তেমন কোনো চিকিৎসা পাননি। শেষ পর্যন্ত বোনকে বাচাঁতে পারেননি পেশায় ট্যাক্সি চালক সহিদুল লস্কর।

বোন হারানোর সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সংকল্প করেন নিজের গ্রামের হাসপাতাল গড়ে তুলবেন তিনি। এরপর ট্যাক্সি চালিয়ে অল্প অল্প করে জমানো টাকায় গত ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার বারুইপুরের পুঁড়ি গ্রামে চারতলা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। বোনের নামে হাসপাতালের নাম রাখেন ‘মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতাল’। এপ্রিলের মধ্যে সেখানে বহির্বিভাগে পরিষেবা শুরু করে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন সহিদুল। খবর আনন্দবাজারের।

নিজের জমানো টাকা, তিনটে ট্যাক্সি, সোনারপুরে চার কাঠা জমি এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে কাজে নেমেছেন অষ্টম শ্রেণি পাশ সহিদুল। এ কাজে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্ত্রীও।

সহিদুল বলেন, ‘আমি আর আমার স্ত্রী শামিমা দু’জনেই জানি যে, আমরা কিছু আনিনি। কিছু নিয়েও যাব না।’

৫০ শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে প্রবীণদের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও শুরু করেছেন তিনি।

তার এ অনুপ্রেরণামূলক কাজের কথা শুনেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি সম্প্রতি রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ এ সহিদুলের কাজের প্রশংসা করেছেন। মোদি বলেন, ‘সহিদুল কলকাতার কাছে পুঁড়ি গ্রামে একটি হাসপাতাল তৈরি করছেন। এটাই নতুন ভারতের শক্তি।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখে নিজের কাজের প্রশংসা শুনে সহিদুল বলেন, ভাল খবর। আমি আমার কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখন বিষয়টি পৌঁছেছে, তখন চাইব, তিনিও আমাদের পাশে দাঁড়ান। এক জন ক্ষুদ্র নাগরিকের ক্ষমতা আর কতটুকু! কেন্দ্রীয় সরকার পাশে দাঁড়ালে আরও অনেক বেশি মানুষকে পরিষেবা দেওয়া যাবে।