ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ গুলশানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবেন প্রধানমন্ত্রী : রিজভী জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী জামায়াতের অধিকাংশ এমপি অধ্যাপক জাফর ইকবালের মতো: রাশেদ আরেক মামলায় গ্রেফতার কণ্ঠশিল্পী মমতাজ ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি, নতুন বিতর্কের মুখে শুভেন্দু মসজিদের ভেতরে ইমামের ঝুলন্ত লাশ, পাশে পাওয়া গেছে চিরকুট বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

বিমান দুর্ঘটনা, বাকরুদ্ধ দুই মা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক মা ফিরোজা বেগম তার একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন প্রিয়ককে বাড়ি থেকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, আরেক মা আলমুননাহার এ্যানির হাত থেকে বিমানের ভেতর সন্তান ছিটকে পড়েছে গত সাত দিন হলো। উভয় মায়ের সন্তান আজ একসাথেই বাড়ি ফিরে এসেছে কফিনবন্দি হয়ে।

দুই মা-ই কফিনের ছবি দেখে আজই জানলেন সন্তানরা আর তাদের মা বলে আর ডাকবেন না। দুই মায়ের বুক খালি করে বাবা ও শিশু মেয়ে আজ থেকে না ফেরার দেশের যাত্রী।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় এ্যানিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে শ্রীপুরের নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তাকে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। এমন সংবাদে এ্যানি অন্যরকম হয়ে পড়েন। এ্যানির ফ্যালফ্যাল চাহনি ও কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঘুম পারিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বাবা ও মেয়ের লাশের কফিন বাড়িতে ঢোকামাত্রই স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। মা ফিরোজা বেগমের আর্তচিৎকারে সবার চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়। তবে অপর মা আলমুননাহার এ্যানি অসুস্থ থাকায় তাকে ঘুম পারিয়ে রাখা রয়েছে। তবে এমন ঘটনায় কারো যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা আর অবশিষ্ট নেই।

প্রসঙ্গত, নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। বিমান থাকা দুই দম্পতির পাঁচ সদস্য হলেন- শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রামের ফারুক আহমেদ, তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা (৩) ও নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। অপর দুই সদস্য ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও তার একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা বিমান বিধ্বস্তে মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিমান দুর্ঘটনা, বাকরুদ্ধ দুই মা

আপডেট সময় ০৯:৩২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক মা ফিরোজা বেগম তার একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন প্রিয়ককে বাড়ি থেকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, আরেক মা আলমুননাহার এ্যানির হাত থেকে বিমানের ভেতর সন্তান ছিটকে পড়েছে গত সাত দিন হলো। উভয় মায়ের সন্তান আজ একসাথেই বাড়ি ফিরে এসেছে কফিনবন্দি হয়ে।

দুই মা-ই কফিনের ছবি দেখে আজই জানলেন সন্তানরা আর তাদের মা বলে আর ডাকবেন না। দুই মায়ের বুক খালি করে বাবা ও শিশু মেয়ে আজ থেকে না ফেরার দেশের যাত্রী।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় এ্যানিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে শ্রীপুরের নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তাকে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। এমন সংবাদে এ্যানি অন্যরকম হয়ে পড়েন। এ্যানির ফ্যালফ্যাল চাহনি ও কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঘুম পারিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বাবা ও মেয়ের লাশের কফিন বাড়িতে ঢোকামাত্রই স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। মা ফিরোজা বেগমের আর্তচিৎকারে সবার চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়। তবে অপর মা আলমুননাহার এ্যানি অসুস্থ থাকায় তাকে ঘুম পারিয়ে রাখা রয়েছে। তবে এমন ঘটনায় কারো যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা আর অবশিষ্ট নেই।

প্রসঙ্গত, নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। বিমান থাকা দুই দম্পতির পাঁচ সদস্য হলেন- শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রামের ফারুক আহমেদ, তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা (৩) ও নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। অপর দুই সদস্য ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও তার একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা বিমান বিধ্বস্তে মারা যান।