ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিমান দুর্ঘটনা, বাকরুদ্ধ দুই মা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক মা ফিরোজা বেগম তার একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন প্রিয়ককে বাড়ি থেকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, আরেক মা আলমুননাহার এ্যানির হাত থেকে বিমানের ভেতর সন্তান ছিটকে পড়েছে গত সাত দিন হলো। উভয় মায়ের সন্তান আজ একসাথেই বাড়ি ফিরে এসেছে কফিনবন্দি হয়ে।

দুই মা-ই কফিনের ছবি দেখে আজই জানলেন সন্তানরা আর তাদের মা বলে আর ডাকবেন না। দুই মায়ের বুক খালি করে বাবা ও শিশু মেয়ে আজ থেকে না ফেরার দেশের যাত্রী।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় এ্যানিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে শ্রীপুরের নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তাকে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। এমন সংবাদে এ্যানি অন্যরকম হয়ে পড়েন। এ্যানির ফ্যালফ্যাল চাহনি ও কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঘুম পারিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বাবা ও মেয়ের লাশের কফিন বাড়িতে ঢোকামাত্রই স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। মা ফিরোজা বেগমের আর্তচিৎকারে সবার চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়। তবে অপর মা আলমুননাহার এ্যানি অসুস্থ থাকায় তাকে ঘুম পারিয়ে রাখা রয়েছে। তবে এমন ঘটনায় কারো যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা আর অবশিষ্ট নেই।

প্রসঙ্গত, নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। বিমান থাকা দুই দম্পতির পাঁচ সদস্য হলেন- শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রামের ফারুক আহমেদ, তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা (৩) ও নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। অপর দুই সদস্য ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও তার একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা বিমান বিধ্বস্তে মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিমান দুর্ঘটনা, বাকরুদ্ধ দুই মা

আপডেট সময় ০৯:৩২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এক মা ফিরোজা বেগম তার একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন প্রিয়ককে বাড়ি থেকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, আরেক মা আলমুননাহার এ্যানির হাত থেকে বিমানের ভেতর সন্তান ছিটকে পড়েছে গত সাত দিন হলো। উভয় মায়ের সন্তান আজ একসাথেই বাড়ি ফিরে এসেছে কফিনবন্দি হয়ে।

দুই মা-ই কফিনের ছবি দেখে আজই জানলেন সন্তানরা আর তাদের মা বলে আর ডাকবেন না। দুই মায়ের বুক খালি করে বাবা ও শিশু মেয়ে আজ থেকে না ফেরার দেশের যাত্রী।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় এ্যানিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে শ্রীপুরের নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তাকে স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। এমন সংবাদে এ্যানি অন্যরকম হয়ে পড়েন। এ্যানির ফ্যালফ্যাল চাহনি ও কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঘুম পারিয়ে রাখা হয়।

এদিকে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বাবা ও মেয়ের লাশের কফিন বাড়িতে ঢোকামাত্রই স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। মা ফিরোজা বেগমের আর্তচিৎকারে সবার চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়। তবে অপর মা আলমুননাহার এ্যানি অসুস্থ থাকায় তাকে ঘুম পারিয়ে রাখা রয়েছে। তবে এমন ঘটনায় কারো যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা আর অবশিষ্ট নেই।

প্রসঙ্গত, নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। বিমান থাকা দুই দম্পতির পাঁচ সদস্য হলেন- শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রামের ফারুক আহমেদ, তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তাদের একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা (৩) ও নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। অপর দুই সদস্য ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও তার একমাত্র সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামাররা বিমান বিধ্বস্তে মারা যান।