ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে ওই আবেদন মামলার বাদীকে ফেরত দেন। তবে আদালত আগামী ১৫ এপ্রিল গুলশান থানা পুলিশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করি। ওই দিন আদালত আমার আবেদন ফেরত দেন।’

বুধবার ধার্য তারিখে এবি সিদ্দিক আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে একই বিচারক তা আবার ফেরত দেন।

এবি সিদ্দিক ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে এটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ-ে দ-িত হন। তন্মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদ- কার্যকর হয়।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে ওই আবেদন মামলার বাদীকে ফেরত দেন। তবে আদালত আগামী ১৫ এপ্রিল গুলশান থানা পুলিশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করি। ওই দিন আদালত আমার আবেদন ফেরত দেন।’

বুধবার ধার্য তারিখে এবি সিদ্দিক আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে একই বিচারক তা আবার ফেরত দেন।

এবি সিদ্দিক ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে এটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ-ে দ-িত হন। তন্মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদ- কার্যকর হয়।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’