ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে ওই আবেদন মামলার বাদীকে ফেরত দেন। তবে আদালত আগামী ১৫ এপ্রিল গুলশান থানা পুলিশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করি। ওই দিন আদালত আমার আবেদন ফেরত দেন।’

বুধবার ধার্য তারিখে এবি সিদ্দিক আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে একই বিচারক তা আবার ফেরত দেন।

এবি সিদ্দিক ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে এটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ-ে দ-িত হন। তন্মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদ- কার্যকর হয়।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আবার ফেরত দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে ওই আবেদন মামলার বাদীকে ফেরত দেন। তবে আদালত আগামী ১৫ এপ্রিল গুলশান থানা পুলিশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করি। ওই দিন আদালত আমার আবেদন ফেরত দেন।’

বুধবার ধার্য তারিখে এবি সিদ্দিক আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে একই বিচারক তা আবার ফেরত দেন।

এবি সিদ্দিক ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে এটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ-ে দ-িত হন। তন্মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদ- কার্যকর হয়।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’