ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

বিএনপির অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়ে খারাপ: মির্জা আব্বাস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘বাংলাদেশে আমাদের অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়েও খারাপ?’-এই প্রশ্ন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের। কারা হেফাজতে মারা যাওয়া ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের জানাজায় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে এই ক্ষোভ ঝাড়েন মির্জা আব্বাস।

গত ৬ মার্চ তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে আটক করে পুলিশ। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাকির মারা যান সোমবার। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কারাগার থেকে হাসপাতালে আনার পর তার ‍মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বিএনপির অভিযোগ, অসুস্থতা নয়, পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে এই ছাত্রদল নেতার।

জোহরের নামাজের পর এই ছাত্রদল নেতার জানাজা হয় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভেঙে পড়েন মির্জা আব্বাস।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই ছেলেগুলোর অপরাধ কী তা আমি বুঝতে পারি না। এই বাংলাদেশে আমাদের (বিএনপি) অবস্থা কী? স্টেটাস (মর্যাদা) ও অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়ে খারাপ হয়ে গেল? তারা যখন খুশি ধরে নিয়ে যাবে, যখন খুশি তাকে মেরে ফেলবে?’

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আইনশঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ আছে সিভিল ড্রেসে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করছে আজকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে। এরা সরকার কিংবা দেশের রক্ষক নয়। এটা আওয়ামী সরকারের রক্ষক। মানুষের রক্ষক নয়।’

আল্লাহর কাছ বিচার দিয়ে আব্বাস বলেন, ‘যাদের কাছের আমি আশ্রয় নেব, তারাই যদি আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তাদের কাছে যদি বিচার না পাই,আমরা কোথায় যাব?’।

‘দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা তার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। সেখান থেকেও ছো মেরে চিলের মত শকুনের মতো একটি সুস্থ ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। আর জীবিত পাওয়া গেলে না। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি?’

পরে ছাত্রদল নেতা জাকিরের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা ফখরুল। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্তি দিন। আমাদের সন্তান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তি দিন। গণতন্ত্রকে মুক্তি দিন।’

ছাত্রদল নেতা পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘মিলন শহীদ হয়ে গেলো, শহীদের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হলো। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের মধ্যে শহীদ মিলন অন্যতম। আমরা তাকে স্যালুট জানাই। স্যালুট মিলন।’

‘তার এ অকাল চলে যাওয়া আমাদেরকে আরও শক্তি যুগিয়েছে এবং দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ আজ বিচারবহির্ভুত হত্যা, গুম ও খুনে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। মিলনের শাহাদাত বরণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। সেই পথেই আমাদের বিজয় অর্জিত হবে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মোহাম্মদ শাহজাহান, আহমেদ আযম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশিদ, এমরান সালের প্রিন্স, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, রফিক সিকদার, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বিল্লাল হোসেন তারেক, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, ইখতিয়ার রহমান কবির, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, পাপ্পু ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাখাওয়াত প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে মিলনের কফিনে বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ছাত্রদল উত্তরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

বিএনপির অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়ে খারাপ: মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় ০৯:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘বাংলাদেশে আমাদের অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়েও খারাপ?’-এই প্রশ্ন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের। কারা হেফাজতে মারা যাওয়া ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের জানাজায় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে এই ক্ষোভ ঝাড়েন মির্জা আব্বাস।

গত ৬ মার্চ তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে আটক করে পুলিশ। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাকির মারা যান সোমবার। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কারাগার থেকে হাসপাতালে আনার পর তার ‍মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বিএনপির অভিযোগ, অসুস্থতা নয়, পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে এই ছাত্রদল নেতার।

জোহরের নামাজের পর এই ছাত্রদল নেতার জানাজা হয় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভেঙে পড়েন মির্জা আব্বাস।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই ছেলেগুলোর অপরাধ কী তা আমি বুঝতে পারি না। এই বাংলাদেশে আমাদের (বিএনপি) অবস্থা কী? স্টেটাস (মর্যাদা) ও অবস্থান কি রোহিঙ্গাদের চেয়ে খারাপ হয়ে গেল? তারা যখন খুশি ধরে নিয়ে যাবে, যখন খুশি তাকে মেরে ফেলবে?’

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আইনশঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ আছে সিভিল ড্রেসে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করছে আজকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে। এরা সরকার কিংবা দেশের রক্ষক নয়। এটা আওয়ামী সরকারের রক্ষক। মানুষের রক্ষক নয়।’

আল্লাহর কাছ বিচার দিয়ে আব্বাস বলেন, ‘যাদের কাছের আমি আশ্রয় নেব, তারাই যদি আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তাদের কাছে যদি বিচার না পাই,আমরা কোথায় যাব?’।

‘দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা তার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। সেখান থেকেও ছো মেরে চিলের মত শকুনের মতো একটি সুস্থ ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। আর জীবিত পাওয়া গেলে না। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি?’

পরে ছাত্রদল নেতা জাকিরের স্মৃতিচারণ করেন মির্জা ফখরুল। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্তি দিন। আমাদের সন্তান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তি দিন। গণতন্ত্রকে মুক্তি দিন।’

ছাত্রদল নেতা পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘মিলন শহীদ হয়ে গেলো, শহীদের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হলো। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের মধ্যে শহীদ মিলন অন্যতম। আমরা তাকে স্যালুট জানাই। স্যালুট মিলন।’

‘তার এ অকাল চলে যাওয়া আমাদেরকে আরও শক্তি যুগিয়েছে এবং দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ আজ বিচারবহির্ভুত হত্যা, গুম ও খুনে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। মিলনের শাহাদাত বরণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। সেই পথেই আমাদের বিজয় অর্জিত হবে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মোহাম্মদ শাহজাহান, আহমেদ আযম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশিদ, এমরান সালের প্রিন্স, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, রফিক সিকদার, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বিল্লাল হোসেন তারেক, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, ইখতিয়ার রহমান কবির, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, পাপ্পু ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাখাওয়াত প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে মিলনের কফিনে বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ছাত্রদল উত্তরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।