অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে (১৯) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার খারিজা ভাজনী গ্রামের বাবলু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলেফ উদ্দিন রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকার ওয়াসিম মিয়ার ছেলে। আলেফ উদ্দিন ঢাকায় টিউব ওয়েলের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন আর নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি গাজিপুরে একটি শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আট মাস আগে আলেফ উদ্দিন তার আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে ফেরদৌসিকে ঢাকাতে বিয়ে করেন। ছয় দিন আগে ফেরদৌসি ঢাকা থেকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। সেখানে এসে জানতে পারে তার স্বামীর আগের স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে আছে।
এদিকে বুধবার বিকালে ঢাকা থেকে আলেফ উদ্দিনও তার বাড়িতে আসে। সন্ধ্যার দিকে ফেরদৌসি তার স্বামী আলেফের কাছে জানতে চায় কেন সে স্ত্রী সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে স্বামী আলেফ তার স্ত্রী ফেরদৌসিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়।
নাম প্রকাশে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীসহ স্বজনরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে তখন মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























