ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নারী দিবসে স্বামীর নির্যাতনের বলি গৃহবধূ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে (১৯) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার খারিজা ভাজনী গ্রামের বাবলু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলেফ উদ্দিন রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকার ওয়াসিম মিয়ার ছেলে। আলেফ উদ্দিন ঢাকায় টিউব ওয়েলের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন আর নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি গাজিপুরে একটি শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আট মাস আগে আলেফ উদ্দিন তার আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে ফেরদৌসিকে ঢাকাতে বিয়ে করেন। ছয় দিন আগে ফেরদৌসি ঢাকা থেকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। সেখানে এসে জানতে পারে তার স্বামীর আগের স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে আছে।

এদিকে বুধবার বিকালে ঢাকা থেকে আলেফ উদ্দিনও তার বাড়িতে আসে। সন্ধ্যার দিকে ফেরদৌসি তার স্বামী আলেফের কাছে জানতে চায় কেন সে স্ত্রী সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে স্বামী আলেফ তার স্ত্রী ফেরদৌসিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়।

নাম প্রকাশে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীসহ স্বজনরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে তখন মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নারী দিবসে স্বামীর নির্যাতনের বলি গৃহবধূ

আপডেট সময় ১১:২০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে (১৯) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার খারিজা ভাজনী গ্রামের বাবলু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলেফ উদ্দিন রংপুর নগরীর বুড়িরহাট চব্বিশ হাজারী এলাকার ওয়াসিম মিয়ার ছেলে। আলেফ উদ্দিন ঢাকায় টিউব ওয়েলের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন আর নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি গাজিপুরে একটি শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আট মাস আগে আলেফ উদ্দিন তার আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে ফেরদৌসিকে ঢাকাতে বিয়ে করেন। ছয় দিন আগে ফেরদৌসি ঢাকা থেকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। সেখানে এসে জানতে পারে তার স্বামীর আগের স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে আছে।

এদিকে বুধবার বিকালে ঢাকা থেকে আলেফ উদ্দিনও তার বাড়িতে আসে। সন্ধ্যার দিকে ফেরদৌসি তার স্বামী আলেফের কাছে জানতে চায় কেন সে স্ত্রী সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে স্বামী আলেফ তার স্ত্রী ফেরদৌসিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়।

নাম প্রকাশে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীসহ স্বজনরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে তখন মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।