ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব থানায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করল পুলিশ কাতারের সাবেক আমিরের স্মরণে রাজধানীতে সড়কের নামকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শুরু হলো শোকের মাস আগস্ট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বছর ঘুরে ফের এসেছে শোকাবহ আগস্ট। পিতা হারানোর কান্নায় অশ্রু হয়ত কোনোকালে শুকিয়ে গেছে, তবে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজও আছে। সেই ক্ষরণে যে দহন বাঙালির ধমনিতে, তা মিটবে কিসে? বাঙালির আকাশে সেই যে আঁধার নেমেছে, তা আজও ঘোচেনি। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশ, জাতি এগিয়েছে বহুদূর, এগিয়েছে বিশ্ব সভ্যতাও। কিন্তু বাঙালির পূর্ব আকাশের যে সূর্য উদিত হওয়ার প্রাকলগ্নেই অস্ত গেল, তা আজও অমানিশার ঘোরে আটকা। পিতাকে হারিয়ে জাতি আজও হাতড়ে বেড়ায়ে সঙ্কটের প্রতি ক্ষণে।

বাঙালির ইতিহাসে বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছে হাজার বছর ধরে। হাজার বছরের বিদ্রোহের আগুনের সন্নিবেশ ঘটিয়ে জন্মেছিলেন টুঙ্গীপাড়ার সেই ছেলেটি। যার জন্মদিবসে ধরণীতে সূর্য ছড়িয়েছিল মুক্তির আভা। যার জন্ম মানেই শোষিতের জয়গান আর শোষকের প্রস্থান।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোনো সীমারেখায় আটকে যে নামের বন্দনা করা যায় না। তিনি জন্মেছিলেন বাঙালির মুক্তির তাগিদেই। তবে শুধু জাতিসত্ত্বার প্রশ্নেই নয়, তিনি এসেছিলেন মানবমুক্তির কেতন উড়িয়ে।বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি, বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই বঞ্চিত মানুষের মুক্তির ঠিকানা। অথচ মানবতার সেই মুক্তির দূতকেই হারতে হয়েছে মানবের কাছে।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। রক্তাক্ত ও অভিশপ্ত দিবসের হলিখেলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে যখন আলোর নিশানা দেখিয়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ঠিক তখনই ‘আগস্ট’ নামের অন্ধকার নেমে আসে। আগস্টের ওই রাতে একদল বিপথগামী সেনাকর্মকর্তা হত্যা করে শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের সদস্যদের। কেবল তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।ঘাতকের বুলেট নিভিয়ে দিয়েছে ‘স্বাধীনতার সূর্য’ বঙ্গবন্ধু নামের প্রদীপ। এখানে সূর্য ওঠে রোজ রোজ। নতুনের কেতন উড়িয়ে মানুষ স্বপ্ন জয়ের প্রত্যয়ে এগিয়েও চলে নিত্যদিন। তবুও সে স্বপ্নে অপূর্ণতা রয়ে যায়। সে অপূর্ণতা যেন শুধু্ই স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুকে হারানোর।

এই আগস্ট সব দিক থেকে বাঙালির জন্য শোকের মাস। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করেই থেমে থাকেনি কুচক্রি মহল। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া জাতির জনকের কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা।কিন্তু তিনি বেঁচে গেলেও ওই হামলায় প্রাণ হারান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন আরো ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনে এভারেস্টে উঠছে বিষধর সাপ, আতঙ্কে পর্বতারোহীরা

শুরু হলো শোকের মাস আগস্ট

আপডেট সময় ১২:২২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বছর ঘুরে ফের এসেছে শোকাবহ আগস্ট। পিতা হারানোর কান্নায় অশ্রু হয়ত কোনোকালে শুকিয়ে গেছে, তবে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজও আছে। সেই ক্ষরণে যে দহন বাঙালির ধমনিতে, তা মিটবে কিসে? বাঙালির আকাশে সেই যে আঁধার নেমেছে, তা আজও ঘোচেনি। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশ, জাতি এগিয়েছে বহুদূর, এগিয়েছে বিশ্ব সভ্যতাও। কিন্তু বাঙালির পূর্ব আকাশের যে সূর্য উদিত হওয়ার প্রাকলগ্নেই অস্ত গেল, তা আজও অমানিশার ঘোরে আটকা। পিতাকে হারিয়ে জাতি আজও হাতড়ে বেড়ায়ে সঙ্কটের প্রতি ক্ষণে।

বাঙালির ইতিহাসে বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছে হাজার বছর ধরে। হাজার বছরের বিদ্রোহের আগুনের সন্নিবেশ ঘটিয়ে জন্মেছিলেন টুঙ্গীপাড়ার সেই ছেলেটি। যার জন্মদিবসে ধরণীতে সূর্য ছড়িয়েছিল মুক্তির আভা। যার জন্ম মানেই শোষিতের জয়গান আর শোষকের প্রস্থান।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোনো সীমারেখায় আটকে যে নামের বন্দনা করা যায় না। তিনি জন্মেছিলেন বাঙালির মুক্তির তাগিদেই। তবে শুধু জাতিসত্ত্বার প্রশ্নেই নয়, তিনি এসেছিলেন মানবমুক্তির কেতন উড়িয়ে।বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি, বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই বঞ্চিত মানুষের মুক্তির ঠিকানা। অথচ মানবতার সেই মুক্তির দূতকেই হারতে হয়েছে মানবের কাছে।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। রক্তাক্ত ও অভিশপ্ত দিবসের হলিখেলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে যখন আলোর নিশানা দেখিয়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ঠিক তখনই ‘আগস্ট’ নামের অন্ধকার নেমে আসে। আগস্টের ওই রাতে একদল বিপথগামী সেনাকর্মকর্তা হত্যা করে শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের সদস্যদের। কেবল তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।ঘাতকের বুলেট নিভিয়ে দিয়েছে ‘স্বাধীনতার সূর্য’ বঙ্গবন্ধু নামের প্রদীপ। এখানে সূর্য ওঠে রোজ রোজ। নতুনের কেতন উড়িয়ে মানুষ স্বপ্ন জয়ের প্রত্যয়ে এগিয়েও চলে নিত্যদিন। তবুও সে স্বপ্নে অপূর্ণতা রয়ে যায়। সে অপূর্ণতা যেন শুধু্ই স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুকে হারানোর।

এই আগস্ট সব দিক থেকে বাঙালির জন্য শোকের মাস। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করেই থেমে থাকেনি কুচক্রি মহল। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া জাতির জনকের কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা।কিন্তু তিনি বেঁচে গেলেও ওই হামলায় প্রাণ হারান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন আরো ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।