অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়নপুর বাজারের তানিয়া মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় পারভীন খাতুনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতে পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপাচার করেন। রাতেই তিনি মারা যান।
নিহত পারভীন খাতুন (২১) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার চারবাড়িয়া গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি স্বামীসহ শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের শামসুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
নিহত পারভীনের স্বজনেরা জানান, দেড় বছর আগে পরিবহনশ্রমিক রুবেল মিয়ার সাথে পারভীনের বিয়ে হয়। গত একসপ্তাহ আগে পারভীনের পেটে ব্যথা দেখা দেয়। এসময় তার মা ছাহেরা খাতুন প্রথমে তাকে মাওনা চৌরাস্তার এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। পল্লী চিকিৎসক তাকে দেখে মাওনা চৌরাস্তার শাপলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসকরা তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কিডনির সমস্যা হয়েছে বলে জানান। পরে তার স্বজনরা তাকে আবার বৃহস্পতিবার মাওনা চৌরাস্তার নোভা হাসপাতালে নিয়ে যান। নোভা হাসপাতালের চিকিৎসকরা পারভীন গর্ভবতী বলে ব্যবস্থাপত্র দেন।
এদিকে, কয়েকদিন ধরে পেটে ব্যথা না কমায় স্বামী রুবেল মিয়া তাকে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নয়নপুর বাজারে তানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস ছালাম তার এপেনডিসাইটিস হয়েছে বলে দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে নিজেই অস্ত্রোপাচার শুরু করেন। অস্ত্রোপাচারের পরপরই পারভীনের অবস্থার অবনতি হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দিলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি প্রাইভেটকার ডেকে এনে রোগীকে তুলে দিয়ে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।
সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই পারভীন মারা গেছে।
নিহতের ভাবী নুপুর আক্তার জানান, তানিয়া হাসপাতালে নেয়ার পরপরই চিকিৎসকরা অপারেশনের তাড়াহুড়ো শুরু করেন। পরে পারভীনকে আমি অপারেশন থিয়েটারের ভেতর পর্যন্ত দিয়ে আসি। সে সময় চিকিৎসক আব্দুস ছালাম ও একজন সেবিকা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তারাই অস্ত্রোপাচার করেন।
নিহত পারভীন আক্তারের মা ছাহেরা খাতুন জানান, মৃত্যুর পর আমরা তার লাশ বাড়িতে দাফন করে এসেছি। অনেকে বলেছে, অভিযোগ করলে ঝামেলা হবে, লাশ কবর থেকে তুলে কাটাছেড়া করা হবে। তাছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাদের বাড়াবাড়ি করতে অনুরোধ করেছেন।
এ ব্যাপারে অস্ত্রোপাচারের চিকিৎসক আব্দুস ছালাম বলেন, পারভীনকে মূলত এপেনডিসাইটিস অস্ত্রোপাচার করা হয়। পরে সে সুস্থ ছিল এবং হাঁটাহাঁটিও করেছে। রাত দুইটার দিকে তার শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন মঞ্জুরুল হক জানান, অস্ত্রোপাচার করার সময় একজন অভিজ্ঞ সার্জন, একজন এনেসথেসিয়া ও একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার বিধান রয়েছে। নিহতের পরিবার একজন চিকিৎসক অস্ত্রোপাচার করেছে বলে যে অভিযোগ করেছে- তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন মিয়া জানান, চিকিৎসক আব্দুস ছালাম নিজেই একাধারে এনেসথেসিয়া ও সার্জন থাকায় তিনি অস্ত্রোপাচারটি করেছেন। তবে, রাতেই রোগীর অন্যান্য সমস্যা দেয়া দেয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানা নেই তার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























