ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা-সমুচা-কাবাব, ফল হবে দেশের শক্তিশালী রপ্তানি পণ্য: কৃষিমন্ত্রী গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড কবে সরানো হবে, জানালেন মন্ত্রী ফুটবল সংস্কৃতির বন্ধনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে এগোতে চায় : মোহাম্মদ হাতেম

ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে না, করে মানুষ: মোস্তাফা জব্বার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ইন্টারনেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মানুষ। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ রকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সিম্পল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্নফাঁস করে না। প্রশ্নফাঁস হয় মানুষের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের ওপরে দায়টা আসে তার কারণ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান তাহলে দেয়া যেতে পারে।’

বুধবার সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি এবং যে প্রক্রিয়ায় তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দুরূহ। ৪-৫ জন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে অভিমত দেন মোস্তাফা জব্বার। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি- সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং যে পদ্ধতিতে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের পুরনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন- নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে।’

প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এ রকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্নফাঁস করার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন

ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে না, করে মানুষ: মোস্তাফা জব্বার

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ইন্টারনেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মানুষ। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ রকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সিম্পল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্নফাঁস করে না। প্রশ্নফাঁস হয় মানুষের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের ওপরে দায়টা আসে তার কারণ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান তাহলে দেয়া যেতে পারে।’

বুধবার সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি এবং যে প্রক্রিয়ায় তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দুরূহ। ৪-৫ জন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে অভিমত দেন মোস্তাফা জব্বার। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি- সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং যে পদ্ধতিতে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের পুরনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন- নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে।’

প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এ রকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্নফাঁস করার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।’