ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে না, করে মানুষ: মোস্তাফা জব্বার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ইন্টারনেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মানুষ। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ রকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সিম্পল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্নফাঁস করে না। প্রশ্নফাঁস হয় মানুষের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের ওপরে দায়টা আসে তার কারণ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান তাহলে দেয়া যেতে পারে।’

বুধবার সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি এবং যে প্রক্রিয়ায় তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দুরূহ। ৪-৫ জন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে অভিমত দেন মোস্তাফা জব্বার। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি- সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং যে পদ্ধতিতে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের পুরনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন- নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে।’

প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এ রকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্নফাঁস করার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে না, করে মানুষ: মোস্তাফা জব্বার

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ইন্টারনেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মানুষ। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ রকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, ইন্টারনেট প্রশ্নফাঁস করে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সিম্পল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্নফাঁস করে না। প্রশ্নফাঁস হয় মানুষের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের ওপরে দায়টা আসে তার কারণ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান তাহলে দেয়া যেতে পারে।’

বুধবার সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি এবং যে প্রক্রিয়ায় তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দুরূহ। ৪-৫ জন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে অভিমত দেন মোস্তাফা জব্বার। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি- সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং যে পদ্ধতিতে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের পুরনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন- নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে।’

প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এ রকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্নফাঁস করার কোনো সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।’