অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
অটোরিকশার নিচে পড়ে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন মধ্য বয়সী এক নারী। পরে তাঁর স্বামী তাকে টেনে হিঁচড়ে অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করেন। এরই এক পর্যায়ে অটোরিকশার পাটাতনে শুইয়ে দেন ওই নারীকে।
পরে নারীটির নাকে-মুখে জুতাপেটা ও লাথি মারতে মারতে ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশার যোগে কোথাও নিয়ে যান। মুঠোফোনে ধারণ করা নির্যাতনের এ ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
শনিবার বেলা ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুরে জনাকীর্ণ স্থান এমসি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইব্রাহিম তেলিহাটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোদারচালা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম।
ফরিদার আগের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা বাড়ি পার্শ্ববর্তী যুগীরসিট গ্রামে। সাত বছর আগে তিন সন্তান রেখে তাঁর স্বামী আব্দুল জলিল মারা যান।
ইব্রাহিমও আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন। ফরিদা জানান, ইব্রাহিম তাঁর সম্পত্তির লোভে ফুসলিয়ে তাকে বিয়ে করেন। এরপর ইব্রাহিমকে নিয়ে তিনি আগের সংসারের সন্তানদের সঙ্গে মৃত স্বামীর মুলাইদ এলাকায় রেখে যাওয়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
ফরিদার অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সার জন্য ইব্রাহিম নির্যাতন করতে থাকেন তাকে। এরই এক পর্যায়ে প্রথম স্বামীর রেখে যাওয়া মুলাইদের বাড়িটি বিক্রির জন্য চাপ দিতে থাকেন।
সম্প্রতি ইব্রাহিম তৃতীয় আরেকটি বিয়ে করে বউকে বাড়িতে এনে তুলেন। এনিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ তাদের সংসারে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। ভরণপোষণও বন্ধ করে দেন ইব্রাহিম।
শনিবার স্বামীর কাছে খাবারের টাকা চাইলে ফরিদাকে বেদম মারধোর শুরু করেন তিনি। পরে, ফরিদা স্বামীর অত্যাচার থেকে পালানোর চেষ্টা করে এমসি বাজার পর্যন্ত আসলে ইব্রাহিম তাঁর পথরোধ করে বেদম মারধোর শুরু করে।
তবে ইব্রাহিমের দাবি, তাঁর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা আছে। তিনি আত্মহত্যা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তাই তাকে জোরপূর্বক বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সময় কিছু মারধর করতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এখন থানায় জমা হয়নি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























