ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জলাবদ্ধতা দূরে নোয়াখালীতে কর্মযজ্ঞ উদ্বোধন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীতে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে বড় ধরনের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী এর বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়ন হলে নদী ও খাল খননের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে। বৃহস্পতিবার গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সাগর ও নদী থেকে ভূমি উত্তোলন করে কাজে লাগানোর ঘোষণাও দেন।

নোয়াখালীর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও নতুন ভূমি পাওয়ো যাবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা হলে সেখানে নতুন ভূমি উত্তোলন হবে। আমাদের আরেকটা লক্ষ্য আছে, সাগর এবং নদী থেকে ভূমি উত্তোলন করে জমির পরিমাণ বাড়ানো।’ উত্তোলন করা জমিতে বনায়নের পাশাপাশি বাঁধের নিচে নদী তীরে ব্যাপকভাব বৃক্ষরোপনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি বাসভবন গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি খালের ১৮২ কিলোমিটার পুনঃখনন, নদী ড্রেজিং, সাত কিলোমিটার চ্যানেল পুনঃখনন, আট কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১০.৫ কিলোমিটারের একটি ক্লোজার, দুটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে।

নোয়াখালী ছাড়াও কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরের একটি অংশও উপকৃত হবে এই প্রকল্পে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এটি বাস্তবায়ন হলে ফসল উৎপাদন প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিকটন এবং মাছ উৎপাদন বাড়বে ২২৩ মেট্রিকটন। কমবে লবণাক্ততার সমস্যা। অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর প্রধান আবু বেলাল মোহা্ম্মদ শফিউল হক বলেন, ‘জিনহিতকর কাজ করতে পেরে সেনাবাহিনীর সব সময় গর্ববোধ করে। আমরা আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির শেষ করতে পারব।’

পরে শেখ হাসিনাও একই আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে কাজটা শেষ হবে, চাইলে এর আগেও আমরা করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি যখনিই নোয়াখালী গেছেন, তখনই জলাবদ্ধতার কথা শুনে এসেছেন। নোয়াখালী খাল কেটে দিলেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জেনেছেন তিনি। আর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরই এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালান। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে এই কাজ আর এগিয়ে নিয়ে যায়নি।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আগের আমলে নেয়া প্রতিটি প্রকল্প খুঁজে খুঁজে বের করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। আর এর অংশ হিসেবেই নোয়াখালীর এই প্রকল্পটি আবার নতুন করে সমীক্ষা করে হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য যাদের জমি নেয়া হবে, তাদেরকে বাজার দরের চেয়ে তিন গুণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করছি, কোনো মানুষ কষ্টে পড়ুক, সমস্যায় পড়ুক, এটা আমরা চাই না।…যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অবশ্যই তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব।’ এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলার সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিরা।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নোয়াখালীবাসীর একটা অভিশাপ ছিল। এই অভিশাপ থেকে আজ মুক্ত হতে যাচ্ছে। এ জন্য সমগ্র নোয়াখালী বাসে আজ আনন্দিত।’ নোয়াখালীর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘হোয়াংহো নদী যেমন চীনের দুঃখ, তেমনি নোয়াখালী খাল ছিল নোয়াখালীর দুঃখ। আজ সারা নোয়াখালীবাসীর দুঃখ দূর হতে চলেছে।’

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘হোয়াংহো আর চীনের দুঃখ নাই। সেটা তারা দূর করে দিয়েছে অনেক আগে। আমরাও চাইছি, নোয়াখালীর দুঃখ আর কোনো খাল বা নদী থাকবে না।’ নোয়াখালী- আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নতুন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রমুখ গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূরে নোয়াখালীতে কর্মযজ্ঞ উদ্বোধন

আপডেট সময় ০৯:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীতে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে বড় ধরনের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী এর বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়ন হলে নদী ও খাল খননের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে। বৃহস্পতিবার গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সাগর ও নদী থেকে ভূমি উত্তোলন করে কাজে লাগানোর ঘোষণাও দেন।

নোয়াখালীর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও নতুন ভূমি পাওয়ো যাবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা হলে সেখানে নতুন ভূমি উত্তোলন হবে। আমাদের আরেকটা লক্ষ্য আছে, সাগর এবং নদী থেকে ভূমি উত্তোলন করে জমির পরিমাণ বাড়ানো।’ উত্তোলন করা জমিতে বনায়নের পাশাপাশি বাঁধের নিচে নদী তীরে ব্যাপকভাব বৃক্ষরোপনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি বাসভবন গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি খালের ১৮২ কিলোমিটার পুনঃখনন, নদী ড্রেজিং, সাত কিলোমিটার চ্যানেল পুনঃখনন, আট কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১০.৫ কিলোমিটারের একটি ক্লোজার, দুটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে।

নোয়াখালী ছাড়াও কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরের একটি অংশও উপকৃত হবে এই প্রকল্পে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এটি বাস্তবায়ন হলে ফসল উৎপাদন প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিকটন এবং মাছ উৎপাদন বাড়বে ২২৩ মেট্রিকটন। কমবে লবণাক্ততার সমস্যা। অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর প্রধান আবু বেলাল মোহা্ম্মদ শফিউল হক বলেন, ‘জিনহিতকর কাজ করতে পেরে সেনাবাহিনীর সব সময় গর্ববোধ করে। আমরা আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির শেষ করতে পারব।’

পরে শেখ হাসিনাও একই আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে কাজটা শেষ হবে, চাইলে এর আগেও আমরা করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি যখনিই নোয়াখালী গেছেন, তখনই জলাবদ্ধতার কথা শুনে এসেছেন। নোয়াখালী খাল কেটে দিলেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জেনেছেন তিনি। আর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরই এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালান। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে এই কাজ আর এগিয়ে নিয়ে যায়নি।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আগের আমলে নেয়া প্রতিটি প্রকল্প খুঁজে খুঁজে বের করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। আর এর অংশ হিসেবেই নোয়াখালীর এই প্রকল্পটি আবার নতুন করে সমীক্ষা করে হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য যাদের জমি নেয়া হবে, তাদেরকে বাজার দরের চেয়ে তিন গুণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করছি, কোনো মানুষ কষ্টে পড়ুক, সমস্যায় পড়ুক, এটা আমরা চাই না।…যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অবশ্যই তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব।’ এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলার সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিরা।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নোয়াখালীবাসীর একটা অভিশাপ ছিল। এই অভিশাপ থেকে আজ মুক্ত হতে যাচ্ছে। এ জন্য সমগ্র নোয়াখালী বাসে আজ আনন্দিত।’ নোয়াখালীর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘হোয়াংহো নদী যেমন চীনের দুঃখ, তেমনি নোয়াখালী খাল ছিল নোয়াখালীর দুঃখ। আজ সারা নোয়াখালীবাসীর দুঃখ দূর হতে চলেছে।’

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘হোয়াংহো আর চীনের দুঃখ নাই। সেটা তারা দূর করে দিয়েছে অনেক আগে। আমরাও চাইছি, নোয়াখালীর দুঃখ আর কোনো খাল বা নদী থাকবে না।’ নোয়াখালী- আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নতুন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রমুখ গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।