ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। কৈশোর থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রভাবশালী।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হোসেন আহমদ চৌধুরী আর মা বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে মহিউদ্দিন ছিলেন দ্বিতীয়। বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। বাবার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন চৌধুরী পড়াশুনা করেছেন মাইজদী জেলা স্কুল, কাজেম আলি ইংলিশ হাইস্কুল, আর চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘ স্কুলে। স্কুলজীবনেই জড়িয়ে পরেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

স্কুলের মাধ্যমিক শেষ করে বাবার নির্দেশে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ভর্তি হয়ে ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে। সেখানে পাঠ না চুকিয়েই তিনি ভর্তি হন সরকারি চট্টগ্রাম কলেজে। এরপর বছর না ঘুরতেই কমার্স কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তি হন। আর সিটি কলেজ থেকেই এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনীতির সূচনা ঘটে। সিটি কলেজের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের শুরতেই তিনি সান্নিধ্যে আসেন জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাক বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আই এস আইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দপ্তরের কাছে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস ধরে। পাক বাহিনীর নির্যাতনের চিহ্ন মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বহন করেন।

পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় মহিউদ্দিন চৌধুরী মানসিক রোগীর অভিনয় করে কারাগার থেকে বের হন। এরপর তিনি পাড়ি জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সরাসরি সম্মুখসমরে অংশ নেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে জড়িয়ে পড়েন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে চট্টগ্রামে সামনের কাতারে থেকে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। স্বৈরাচার সামরিক সরকারের আমলে চট্টগ্রামে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সারা দেশের রাজনীতিতে আলোচিত হন। এরপর স্বৈরাচার সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হন তিনি।

সর্বশেষ তিনি কারা নির্যাতিত হন ওয়ান ইলেভেনের শাসনামলে। ষাটোর্ধ্ব বয়সে কারান্তরীণ ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন তার আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পা। মৃত্যুর সময়ও তাকে মেয়ের কাছে থাকতে দেয়নি তৎকালীন সামারিক সরকার।

১৯৯৪ সালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সরাসরি ভোটে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিনবার তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের জীবনাবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে সমগ্র চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন

আপডেট সময় ০৩:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। কৈশোর থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে প্রভাবশালী।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হোসেন আহমদ চৌধুরী আর মা বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে মহিউদ্দিন ছিলেন দ্বিতীয়। বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। বাবার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন চৌধুরী পড়াশুনা করেছেন মাইজদী জেলা স্কুল, কাজেম আলি ইংলিশ হাইস্কুল, আর চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘ স্কুলে। স্কুলজীবনেই জড়িয়ে পরেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

স্কুলের মাধ্যমিক শেষ করে বাবার নির্দেশে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ভর্তি হয়ে ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে। সেখানে পাঠ না চুকিয়েই তিনি ভর্তি হন সরকারি চট্টগ্রাম কলেজে। এরপর বছর না ঘুরতেই কমার্স কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তি হন। আর সিটি কলেজ থেকেই এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনীতির সূচনা ঘটে। সিটি কলেজের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের শুরতেই তিনি সান্নিধ্যে আসেন জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাক বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আই এস আইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দপ্তরের কাছে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস ধরে। পাক বাহিনীর নির্যাতনের চিহ্ন মহিউদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বহন করেন।

পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় মহিউদ্দিন চৌধুরী মানসিক রোগীর অভিনয় করে কারাগার থেকে বের হন। এরপর তিনি পাড়ি জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সরাসরি সম্মুখসমরে অংশ নেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে জড়িয়ে পড়েন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে চট্টগ্রামে সামনের কাতারে থেকে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। স্বৈরাচার সামরিক সরকারের আমলে চট্টগ্রামে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সারা দেশের রাজনীতিতে আলোচিত হন। এরপর স্বৈরাচার সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হন তিনি।

সর্বশেষ তিনি কারা নির্যাতিত হন ওয়ান ইলেভেনের শাসনামলে। ষাটোর্ধ্ব বয়সে কারান্তরীণ ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন তার আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পা। মৃত্যুর সময়ও তাকে মেয়ের কাছে থাকতে দেয়নি তৎকালীন সামারিক সরকার।

১৯৯৪ সালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সরাসরি ভোটে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিনবার তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের জীবনাবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে সমগ্র চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।