ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গাছ-পাথরে বেঁধে গণধর্ষণ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন। একইদিন জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ।

মিয়ানমারকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ায় সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে স্পষ্ট করে বরা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, এর সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে। জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি জেফরি ফেল্টম্যান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সরকারকে যেকোনো সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত বলে জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি জেফরি ফেল্টম্যান বলেন, ‘রাখাইনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে তা মোকাবিলায় বেসামরিক সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় জরুরি। মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন এবং প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়াকে এ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়ন করতে না পারলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রয়াস ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন।

জাতিসংঘের এ‌ই কর্মকর্তা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদের অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানান । তিনি বলেন, ‘রাখাইনে নারী নির্যাতনের ভয়ঙ্কর সব তথ্য পেয়েছি আমরা। এক নারী বলেছেন তাকে দেড় মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে মিয়ানমারের সেনারা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেছেন, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গাছ বা পাথরের সঙ্গে বেঁধে নারী ও কিশোরীদের গণধর্ষণ করা হয়। কোলের শিশুকে আগুন বা পানিতে ফেলে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পেয়েছি। এসব বন্ধ করতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবনা জরুরি।’ তবে নিজ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ মিয়ানমার।

জাতিসংঘকে এ বিষয়ে উচ্চ-বাচ্য বন্ধ করার আহ্বান জানান জাতিসংঘে মিয়ানমার প্রতিনিধি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। হ্যালি বলেন, ‘রাখাইনে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, গৃহহীন হচ্ছে, তারপরও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন রকম কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। উল্টো মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেরা তদন্ত করে সব দায়ভার অস্বীকার করেছে। দেশটিতে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত চালানোর অনুমতি দেয়া উচিত।’

বৈঠক থেকে বলা হয় এ পর্যন্ত অন্তত ৬লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত আগস্টে রাখাইনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা ঢল নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা ও মিয়ানমার সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ২৭ তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়াসহ আরও কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গাছ-পাথরে বেঁধে গণধর্ষণ

আপডেট সময় ০১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন। একইদিন জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ।

মিয়ানমারকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ায় সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে স্পষ্ট করে বরা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, এর সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে। জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি জেফরি ফেল্টম্যান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সরকারকে যেকোনো সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত বলে জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি জেফরি ফেল্টম্যান বলেন, ‘রাখাইনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে তা মোকাবিলায় বেসামরিক সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় জরুরি। মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন এবং প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়াকে এ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়ন করতে না পারলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রয়াস ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন।

জাতিসংঘের এ‌ই কর্মকর্তা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদের অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানান । তিনি বলেন, ‘রাখাইনে নারী নির্যাতনের ভয়ঙ্কর সব তথ্য পেয়েছি আমরা। এক নারী বলেছেন তাকে দেড় মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে মিয়ানমারের সেনারা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেছেন, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গাছ বা পাথরের সঙ্গে বেঁধে নারী ও কিশোরীদের গণধর্ষণ করা হয়। কোলের শিশুকে আগুন বা পানিতে ফেলে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পেয়েছি। এসব বন্ধ করতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবনা জরুরি।’ তবে নিজ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ মিয়ানমার।

জাতিসংঘকে এ বিষয়ে উচ্চ-বাচ্য বন্ধ করার আহ্বান জানান জাতিসংঘে মিয়ানমার প্রতিনিধি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। হ্যালি বলেন, ‘রাখাইনে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, গৃহহীন হচ্ছে, তারপরও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন রকম কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। উল্টো মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেরা তদন্ত করে সব দায়ভার অস্বীকার করেছে। দেশটিতে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত চালানোর অনুমতি দেয়া উচিত।’

বৈঠক থেকে বলা হয় এ পর্যন্ত অন্তত ৬লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত আগস্টে রাখাইনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা ঢল নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা ও মিয়ানমার সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ২৭ তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়াসহ আরও কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।