অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজশাহী রেশম কারখানার বয়লার আগে চলতো ফার্নেস ওয়েলে। এতে খরচ হতো বেশি। তবে এবার খরচ কমিয়ে লোকসান ঠেকাতে ফার্নেস ওয়েলের বদলে রেশম কারখানার বয়লার চলবে গ্যাসে।
মঙ্গলবার দুপুরে কারখানার লুম মেশিন এবং বয়লার পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফার্নেস ওয়েল দিয়ে যে মেশিন চলে, সেটি গ্যাসে চালালে তার খরচ ৭৫ ভাগেরও বেশি কমে আসে। আমরা কারখানার বয়লারটি গ্যাসে চালালে উৎপাদন খরচ কমে আসবে। এর ফলে রেশম বাজারে আমাদের কাপড় বিক্রির ক্ষেত্রে একটা অনুকূল বাজার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট সম্ভাবনা এবং এই সম্ভাবনাটা আমরা কাজে লাগাতে পারব।
বাদশা বলেন, রেশম কারখানায় গ্যাস দেয়ার জন্য পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (পিজিসিএল) বলেছি। এই গ্যাসের ভিত্তিতেই আমরা রেশম কারখানা চালু করে এটাকে একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবো। রেশম কারখানা সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর গ্যাস দেশের। তাই কারখানায় গ্যাস পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
এর আগে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রেশম উন্নয়ন বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। রেশম বোর্ড ভবনে বোর্ডের মহাপরিচালক আনিস-উল-হক ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের মহাপরিচালক এ সময় সংসদ সদস্য বাদশাকে রেশম কারখানা চালুর অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন এবং কয়েকটি প্রকল্প পাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য বাদশা এ সময় প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাস করিয়ে আনার জন্য নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি বলেন, রেশম কারখানা চালু করতে যা যা করা প্রয়োজন, তিনি করবেন। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কারখানার একটি লুমে রেশম কাপড় তৈরি শুরু হয়েছে। আগামি ৭-৮ দিনের মধ্যে কারখানার আরও চারটি লুম চালু করা সম্ভব।
তিনি বলেন, রাজশাহীর রেশম কাপড় এক সময় ইউরোপেও যেত। আমরা সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনবো। রাজশাহীর রেশম কাপড় আবার ইউরোপে যাবে। রাজশাহীকে আমরা আবার সিল্কসিটি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করবো। রেশম কারখানায় উৎপাদিত কাপড় আবার বাংলাদেশ বিমানের ক্রুদের গায়ে উঠবে। শুধু বিমানে কাপড় সরবরাহ করা গেলেও রাজশাহী রেশম কারখানায় কোনো লোকসান হবে না।
প্রসঙ্গত, মূলধন না থাকার অযুহাতে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। ১৫ বছর পর সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক এরই মধ্যে কারখানার একটি লুমে পরীক্ষামূলকভাবে কাপড় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
আগামী কিছু দিনের মধ্যে কারাখানাটি পুরোদমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর কারখানাটি স্থাপিত হয়। বন্ধ ঘোষণার পর অনেক আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারেনি রাজশাহীবাসী। দীর্ঘদিন পর আবার সেই রেশম কারখানায় শোনা যাচ্ছে লুম মেশিনের খট খট শব্দ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























