অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরীতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে খুলশী ও নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৩টি বাড়ির তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে বাছাই করে পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার ১১টি ও খুলশী মৌজার ৪টি বাড়িতে ফ্ল্যাট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই ১৫ টি বাড়ির মোট জায়গার পরিমান ৪ দশমিক ৬৩ একর। এই পরিমান জমিতে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প-২০২১-এর আলোকে ‘সবার জন্য পরিকল্পিত আবাসন’ স্লোগান বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এসব বহুতল ভবন নির্মাণ করে তা সাধারণ জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সহনীয় মূল্যে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি সুবিধায় বিক্রি করবে।
রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া মোহাম্মদপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিত্যক্ত বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ওইসব বাড়ি রাজউকের অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদফতর থেকে ওইসব জমি অধিগ্রহণ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার মোর্শেদ জানান, ‘সরকার বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত ফ্ল্যাট ও প্লট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আবাসিক সমস্যার সমাধান করতে চায়। তাই গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহুতল ভবন করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তারই অংশ হিসেবে আমরা চট্টগ্রাম শহরের খুলশী ও নাসিরাবাদ এলাকার ৪৩টি পরিত্যক্ত বাড়ির তালিকা তৈরি করছি। ওই তালিকা থেকে আপাতত ১৫টি বাড়িতে পরিকল্পিত আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।’
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৈরি করা নাসিরাবাদ ও খুলশী হাউজিং সোসাইটি এলাকার পরিত্যক্ত বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে ১৫টি বাড়ির ছবিসহ যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বাড়িতে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি অফিস, ঊর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি কিছু ব্যক্তির বাসস্থান রয়েছে। এ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর বসবাসকারীদের চিঠি দেয়া হবে। এসব বাড়ির এক-একটির আয়তন ১৭ দশমিক ৫ শতক থেকে শুরু করে ৪৩ শতক পর্যন্ত রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ছোটন চৌধুরী জানান, ‘কিছুদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হলেই হাউজিংয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রামের পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি। সিদ্ধান্তের পর-পরই বসবাসকারীদের বাড়ি খালি করার চিঠি দেয়া হবে।’ সরকারি অফিস ও কর্মকর্তাদের বাসস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা কোথায় হবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপাতত সুবিধামত স্থানে স্থানান্তরের পর পরবর্তীতে গণপূর্তের নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ও হাউজিংয়ের নতুন ভবনে সরকারি অফিস ও আবাসনের ব্যবস্থা সহজেই হবে।’ তিনি বলেন ‘প্রাথমিকভাবে ১৫ টি ও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৪৩টি বাড়িতে ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















