ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার ক্ষোভ থেকে দ্বিতীয় প্রতিবেদন: আদালতে খালেদা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রথমবার তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি বলে আদালতে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তাকে দিয়ে দ্বিতীয়বার তদন্ত করান হয় এবং তিনি নিজের ক্ষোভ থেকে তার বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি নেত্রী। বেলা সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অসমাপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়া এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। এ নিয়ে সপ্তম দিনের মতো তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইয়াতিমের টাকা আত্মস্যাৎ করেননি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নূর আহমেদ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ না পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেননি। কিন্তু মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।’

২০০৫ সালে বিএনপি জোট সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে হারুন-অর-রশিদ ক্ষিপ্ত ছিলেন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন খালেদা। বলেন, ‘তারই ফলশ্রুতিতে তাকে (হারুন-অর-রশিদ) আমার বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হচ্ছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদী সরকারের আজ্ঞাবহ। আদালতে দেয়া জবানবন্দি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এটা করা হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই, অথচ সাক্ষী মামলার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছেন।’

এদিকে আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন করেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে খালেদা জিয়া লম্বা বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি লিখিত বক্তব্য জমা দিতে পারেন।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আর এই আবেদন নাকচ করে ৩০ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার ক্ষোভ থেকে দ্বিতীয় প্রতিবেদন: আদালতে খালেদা

আপডেট সময় ০২:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রথমবার তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলেনি বলে আদালতে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তার সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তাকে দিয়ে দ্বিতীয়বার তদন্ত করান হয় এবং তিনি নিজের ক্ষোভ থেকে তার বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি নেত্রী। বেলা সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অসমাপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়া এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। এ নিয়ে সপ্তম দিনের মতো তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইয়াতিমের টাকা আত্মস্যাৎ করেননি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নূর আহমেদ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ না পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেননি। কিন্তু মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।’

২০০৫ সালে বিএনপি জোট সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে হারুন-অর-রশিদ ক্ষিপ্ত ছিলেন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন খালেদা। বলেন, ‘তারই ফলশ্রুতিতে তাকে (হারুন-অর-রশিদ) আমার বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হচ্ছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদী সরকারের আজ্ঞাবহ। আদালতে দেয়া জবানবন্দি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এটা করা হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই, অথচ সাক্ষী মামলার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছেন।’

এদিকে আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন করেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে খালেদা জিয়া লম্বা বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি লিখিত বক্তব্য জমা দিতে পারেন।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আর এই আবেদন নাকচ করে ৩০ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।