ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী আয়নাল হকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া মামলাটিতে অপর এক ধারায় তার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত আনোয়ারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার আয়নাল হকের স্ত্রী। দণ্ডপ্রাপ্ত আয়নাল হক একই এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে।

গাজীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হারিছ উদ্দিন আহম্মদ জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আয়নালের সঙ্গে আনোয়ারার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনোয়ারা বাবার বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। তার আগের সংসারে আনোয়ার হোসেন নামে একটি ছেলে এবং আয়নাল-আনোয়ারা দম্পতির সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামীর সন্তান এবং দ্বিতীয় স্বামী ও সন্তানকে জমি লিখে দেয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি আনোয়ারাকে বিষ খাওয়ানোর পর শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে কোনাবাড়ি ফাঁড়ির টহল পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আয়নাল ও ভাই আমজাদ হোসেনকে আটক করে।

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক দুইজনের নামোল্লেখ করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করে জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আজহারুল ইসলাম। পরে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে নিহত আনোয়ারার ভাই আমজাদ হোসেন আঞ্জুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিআইডি থেকে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিআইবি) পাঠানো হয়।

পিআইবি’র পরিদর্শক মো. ওবায়দুর রহমান খান তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলায় আয়নাল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ এই রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন হারিছ উদ্দিন আহম্মদ। আর আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান, জেবুন্নেছা মিনা ও মোহাম্মদ আলী তারেক বুলবুল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী আয়নাল হকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া মামলাটিতে অপর এক ধারায় তার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত আনোয়ারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার আয়নাল হকের স্ত্রী। দণ্ডপ্রাপ্ত আয়নাল হক একই এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে।

গাজীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হারিছ উদ্দিন আহম্মদ জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আয়নালের সঙ্গে আনোয়ারার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনোয়ারা বাবার বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। তার আগের সংসারে আনোয়ার হোসেন নামে একটি ছেলে এবং আয়নাল-আনোয়ারা দম্পতির সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামীর সন্তান এবং দ্বিতীয় স্বামী ও সন্তানকে জমি লিখে দেয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি আনোয়ারাকে বিষ খাওয়ানোর পর শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে কোনাবাড়ি ফাঁড়ির টহল পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আয়নাল ও ভাই আমজাদ হোসেনকে আটক করে।

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক দুইজনের নামোল্লেখ করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করে জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আজহারুল ইসলাম। পরে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে নিহত আনোয়ারার ভাই আমজাদ হোসেন আঞ্জুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিআইডি থেকে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিআইবি) পাঠানো হয়।

পিআইবি’র পরিদর্শক মো. ওবায়দুর রহমান খান তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলায় আয়নাল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ এই রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন হারিছ উদ্দিন আহম্মদ। আর আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান, জেবুন্নেছা মিনা ও মোহাম্মদ আলী তারেক বুলবুল।