ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের পাওয়া যাবে না: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা যেন অসুস্থ না হয়। যাঁরা উন্নয়ন করবেন আর সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন, আগামী নির্বাচনে তাঁদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিন।

নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দেবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজ বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নূরজাহান ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়। সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে তিনি উদারতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের তা চোখে পড়ে না।

বিএনপির আন্দোলন আর কোনোদিন সফল হবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফটোসেশনের জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) একবার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে শোডাউন করেছেন। তাঁর দলের মহাসচিবও একবার গিয়েছিলেন। অথচ আমি ২৫ দিন রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম। কোনটা মন থেকে আর লোকদেখানো তা মানুষ বোঝে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস বাংলার মানুষ ভোলেনি। ২০১৩-১৪ সালের অগ্নিসন্ত্রাসের কথাও ভুলে যায়নি। ক্ষমতায় থাকতে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইমাম, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তের নদী আর কান্নার দরিয়ায় ভাসিয়েছে মানুষকে। এখন তারা আবার লোকদেখানো মায়াকান্না করছে।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেত্রী লন্ডনে চলে গেলেন, আন্দোলন থাকল তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে। এই বছর না সেই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও গাছ ধ্বংস করার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার মানুষ আর নেই।

অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল খালেক। স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা ইসলাম কবিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের পাওয়া যাবে না: কাদের

আপডেট সময় ০৫:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা যেন অসুস্থ না হয়। যাঁরা উন্নয়ন করবেন আর সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন, আগামী নির্বাচনে তাঁদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিন।

নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দেবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজ বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নূরজাহান ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলামের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়। সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে তিনি উদারতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের তা চোখে পড়ে না।

বিএনপির আন্দোলন আর কোনোদিন সফল হবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফটোসেশনের জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) একবার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে শোডাউন করেছেন। তাঁর দলের মহাসচিবও একবার গিয়েছিলেন। অথচ আমি ২৫ দিন রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম। কোনটা মন থেকে আর লোকদেখানো তা মানুষ বোঝে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস বাংলার মানুষ ভোলেনি। ২০১৩-১৪ সালের অগ্নিসন্ত্রাসের কথাও ভুলে যায়নি। ক্ষমতায় থাকতে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইমাম, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তের নদী আর কান্নার দরিয়ায় ভাসিয়েছে মানুষকে। এখন তারা আবার লোকদেখানো মায়াকান্না করছে।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেত্রী লন্ডনে চলে গেলেন, আন্দোলন থাকল তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে। এই বছর না সেই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও গাছ ধ্বংস করার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার মানুষ আর নেই।

অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুল খালেক। স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা ইসলাম কবিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।