ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

হেফাজতের ভোটার আড়াই কোটি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছে হেফাজতে ইসলাম। রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও হেফাজতে ইসলাম আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ ও সরকার পতনের হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের দাবি, সারা দেশে তাদের অন্তত আড়াই কোটি ভোটার রয়েছেন। ধর্ম অবমাননার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে যে দল প্রতিশ্রুতি দেবে, নাস্তিকতাবাদের বিরুদ্ধে থাকবে ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কথা বলবে হেফাজতের ভোট সেদিকেই যাবে। যদিও এখনও পর্যন্ত তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রকাশ্যে বা গোপনে সমর্থ দেননি।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার ৮৫ লাখ সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ও শিক্ষক রয়েছেন। প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষকের পরিবারে দুটি করে ভোট থাকলে হেফাজতে ইসলামের ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই কোটি ৫৫ লাখ। এ কারণে যারা ক্ষমতায় আসতে চাইবে তাদের হেফাজতের সমর্থন লাগবে।

তিনি বলেন, যে দলের হাতে দেশ নিরাপদ থাকবে, যে দল দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াবে না, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার মূল্য দেবে সেই দলকে ক্ষমতায় বসাতে হেফাজত কাজ করবে।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসায় হেফাজতে ইসলাম নতুন করে তৎপরতা শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের ডাকের অপেক্ষায় আছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

আজিজুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের বাইরেও সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করছে। তাদের ডাকলে তারাও যাবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তারা আহ্বান জানাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা যেমন ভেতরে ভেতরে তৎপরতা জোরদার করছেন তেমনি তাদের কাছে টানতে নানামুখী কৌশল নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এরই মধ্যে হেফাজতের অনেক নেতাকে সরকারি জমি বরাদ্দ দেয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা আওয়ামী লীগ করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের গোপন সমঝোতা হয়েছে। তারা আদায় করে নিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি। অপরদিকে বিএনপির নেতারাও হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ক্ষমতায় এলে হেফাজতের স্বার্থরক্ষায় কাজ করারও অঘোষিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

যদিও কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না। কওমি ভাবধারার লোকজন ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলাম গঠন করেন। এরপর ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটি আলোচনায় আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হেফাজতের ভোটার আড়াই কোটি

আপডেট সময় ০১:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছে হেফাজতে ইসলাম। রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও হেফাজতে ইসলাম আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ ও সরকার পতনের হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের দাবি, সারা দেশে তাদের অন্তত আড়াই কোটি ভোটার রয়েছেন। ধর্ম অবমাননার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে যে দল প্রতিশ্রুতি দেবে, নাস্তিকতাবাদের বিরুদ্ধে থাকবে ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কথা বলবে হেফাজতের ভোট সেদিকেই যাবে। যদিও এখনও পর্যন্ত তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রকাশ্যে বা গোপনে সমর্থ দেননি।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার ৮৫ লাখ সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ও শিক্ষক রয়েছেন। প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষকের পরিবারে দুটি করে ভোট থাকলে হেফাজতে ইসলামের ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই কোটি ৫৫ লাখ। এ কারণে যারা ক্ষমতায় আসতে চাইবে তাদের হেফাজতের সমর্থন লাগবে।

তিনি বলেন, যে দলের হাতে দেশ নিরাপদ থাকবে, যে দল দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াবে না, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার মূল্য দেবে সেই দলকে ক্ষমতায় বসাতে হেফাজত কাজ করবে।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসায় হেফাজতে ইসলাম নতুন করে তৎপরতা শুরু করছে। নির্বাচন কমিশনের ডাকের অপেক্ষায় আছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

আজিজুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের বাইরেও সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করছে। তাদের ডাকলে তারাও যাবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তারা আহ্বান জানাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা যেমন ভেতরে ভেতরে তৎপরতা জোরদার করছেন তেমনি তাদের কাছে টানতে নানামুখী কৌশল নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এরই মধ্যে হেফাজতের অনেক নেতাকে সরকারি জমি বরাদ্দ দেয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা আওয়ামী লীগ করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের গোপন সমঝোতা হয়েছে। তারা আদায় করে নিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি। অপরদিকে বিএনপির নেতারাও হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ক্ষমতায় এলে হেফাজতের স্বার্থরক্ষায় কাজ করারও অঘোষিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

যদিও কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না। কওমি ভাবধারার লোকজন ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলাম গঠন করেন। এরপর ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটি আলোচনায় আসে।